চালকবিহীন গাড়ি দুর্ঘটনায় বিপাকে পড়েছে জেনারেল মোটরস (জিএম)। জিএমের রোবট ট্যাক্সি ইউনিট ক্রুজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কাইল ভগট এজন্য ক্ষমাও চেয়েছেন। তিনি স্বীকার করেছেন যে চালকবিহীন গাড়িকে নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতার মাধ্যমে আরো উন্নত করতে হবে। খবর রয়টার্স।
কর্মীদের কাছে পাঠানো এক ই-মেইলে ক্রুজের সিইও কাইল ভগট জানান, দুর্ঘটনার পর প্রতিষ্ঠানটি তার আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে। এজন্য তিনি দুঃখিত। এ কারণে ক্রুজের কার্যক্রম স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছেন। একই সঙ্গে একটি সুরক্ষাবিধি তৈরি করা হচ্ছে।
ভগট সিইও হিসেবে দুর্ঘটনার সম্পূর্ণ দায়-দায়িত্ব স্বীকার করে নিয়েছেন। কর্মীদের শেয়ার বিক্রয় প্রোগ্রাম বাতিল করার দুদিন পর ভগট জানিয়েছিলেন, ক্রুজ একটি নতুন প্রস্তাব দেবে। ফলে শ্রমিকরা কিছু শেয়ার বিক্রি করতে পারবে।
দুর্ঘটনার পর ক্ষতিপূরণ পর্যালোচনার সময় ক্রুজ শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ কাজ বন্ধ করে দিয়েছিল।
ভগট জানান, কর্মীরা সীমিতসংখ্যক শেয়ার বিক্রি করতে পারবেন। তবে কর দেয়ার বাধ্যবাধকতার নীতিমালা মানতে হবে। শ্রমিকরা অবশ্য এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
শেয়ার বিক্রয় কার্যক্রম শুরু হয় গত বছর। জিএম বর্তমান ও সাবেক ক্রুজকর্মীদের মধ্যে শেয়ার বিক্রির ব্যবস্থা করে দিয়েছে।
ক্রুজের চালকবিহীন ট্যাক্সি পরিষেবায় বিরতির পর প্রোগ্রামটি বন্ধ করতে হয়েছে। এ কারণে জিএমকে ব্যয় হ্রাস করতে হয়েছে। তবে কর্মচারীরা অভিযোগ করেন যে তারা এখন বড় ট্যাক্স বিলের মুখোমুখি হচ্ছেন। এর কারণ তাদের শেয়ার ছাড়ের আগে উচ্চতর মূল্য দেখানো হয়েছিল।
ই-মেইলে ভগট আরো জানান, ক্রুজ একটি নতুন প্রস্তাব তৈরি করছে। এটি কর্মচারীদের সম্ভাব্য কর সমস্যা সমাধানের জন্য কিছুটা তহবিল সরবরাহ করবে।
গত নভেম্বরে ক্যালিফোর্নিয়ার ডিপার্টমেন্ট অব মোটর ভেহিকল (ডিএমভি) ক্রুজকে তাদের চালকবিহীন গাড়িগুলো রাস্তা থেকে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেয়। ডিএমভি বলে যে ক্রুজ তার প্রযুক্তির সুরক্ষার বিষয়টি ভুলভাবে উপস্থাপন করেছে। এছাড়া তারা অক্টোবরের একটি দুর্ঘটনার সম্পূর্ণ ভিডিও প্রকাশ করতে ব্যর্থ হয়। ক্রুজ দাবি করেছে যে তারা দুর্ঘটনার সম্পূর্ণ ভিডিও একাধিকবার শেয়ার করেছে। আর কোম্পানিটি সম্পূর্ণ সুরক্ষা পর্যালোচনা না হওয়া পর্যন্ত সব পরিষেবা স্থগিত করেছে।
একজন কর্মচারী জানান, তারা খুশি যে ক্রুজ পরিস্থিতি মোকাবেলার প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পেরেছিলেন। ক্রুজের লক্ষ্য দুর্ঘটনা ও নিয়ন্ত্রক প্রতিক্রিয়ার পর জনসাধারণের আস্থা আবারো ফিরে পাওয়া।










