আবারো অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন কমানোর লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়েছে ওপেক প্লাস। ফেব্রুয়ারিতে নির্ধারিত কোটার চেয়েও বেশি উত্তোলন করেছে জোটভুক্ত দেশগুলো। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল কমোডিটি ইনসাইটসের প্ল্যাটস সমীক্ষায় এ তথ্য উঠে এসেছে।
জ্বালানি তেল রফতানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেক ও এর সহযোগী দেশগুলো ওপেক প্লাস নামে পরিচিত। সরবরাহ কমানোর মাধ্যমে জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে লম্বা সময় ধরেই উত্তোলন কমানোর নীতি অনুসরণ করছে জোটটি। চলতি বছরের শেষ প্রর্যন্ত এ নীতি বহাল রাখা হবে বলেও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। পাশাপাশি জোটভুক্ত কয়েকটি দেশ এককভাবেও উত্তোলন কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। তবে উত্তোলন কমানোর লক্ষ্য অর্জনে বারবারই ব্যর্থ হচ্ছে জোটটি।
ফেব্রুয়ারিতে ওপেক প্লাসের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলনে জানুয়ারির তুলনায় খুব একটা পরিবর্তন দেখা যায়নি। তবে নির্ধারিত কোটার চেয়ে উত্তোলনের পরিমাণ ছিল অনেক বেশি। প্ল্যাটসের সমীক্ষায় দেখা গেছে, ফেব্রুয়ারিতে জোটভুক্ত দেশগুলোর দৈনিক উত্তোলন দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ১২ লাখ ১০ হাজার ব্যারেলে, যা নির্ধারিত কোটার চেয়ে দৈনিক ১ লাখ ৭৫ হাজার ব্যারেল বেশি।
ওপেক প্লাসের সদস্যরা চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) প্রতিদিন স্বেচ্ছায় ২২ লাখ ব্যারেল করে উত্তোলন কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জোটের শীর্ষ উত্তোলক এককভাবে দৈনিক ১০ লাখ ব্যারেল করে উত্তোলন কমাচ্ছে। গত সপ্তাহের শেষ দিকে ওপেক প্লাসের সদস্যরা চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিক (এপ্রিল-জুন) নাগাদ উত্তোলন কমানোর নীতি বহাল রাখার ব্যাপারে একমত হয়। তবে জোটসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত এ নীতিতেই চলবে জোটটি। সৌদি আরব, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাজাখস্তান, আলজেরিয়া, ওমান ও রাশিয়া বর্তমানে চলতি প্রান্তিকে সামষ্টিক সিদ্ধান্তের পাশাপাশি এককভাবে উত্তোলন ও রফতানি কমাচ্ছে।
ফেব্রুয়ারির উত্তোলনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কয়েকটি দেশ, বিশেষ করে ইরাক ও কাজাখস্তান কোটার চেয়েও অনেক বেশি জ্বালানি তেল উত্তোলন করছে। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে এ দুই দেশ জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উত্তোলন কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। ওপেকের দ্বিতীয় শীর্ষ জ্বালানি তেল উত্তোলক ইরাক। দেশটির জ্বালানি তেলবিষয়ক মন্ত্রী হায়ান আবদেল-ঘানি গত মাসে জানান, ইরাক ওপেক প্লাসের সঙ্গে করা চুক্তি অনুযায়ী এককভাবে উত্তোলন কমাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রতিদিন ৪০ লাখ ব্যারেলের বেশি উত্তোলন করা হবে না বলেও জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক বাজারে শুক্রবার অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম আগের দিনের তুলনায় ১ শতাংশ কমেছে। সাপ্তাহিক দাম কমেছে এর চেয়ে বেশি মাত্রায়। চীনে ধীর চাহিদার প্রভাবে এমন দরপতন দেখা দিয়েছে।
আইসিই ফিউচারস ইউরোপে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৮ সেন্ট বা ১ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। প্রতি ব্যারেলের মূল্য স্থির হয়েছে ৮২ ডলার ৮ সেন্টে। অন্যদিকে নিউইয়র্ক মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জে (নিমেক্স) মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ব্যারেলপ্রতি ৯২ সেন্ট বা ১ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। প্রতি ব্যারেলের মূল্য স্থির হয়েছে ৭৮ ডলার ১ সেন্টে। পাশাপাশি ব্রেন্টের সাপ্তাহিক দাম ১ দশমিক ৮ ও ডব্লিউটিআইয়ের দাম ২ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে।










