এশিয়ার দেশগুলোয় রফতানীকৃত চালের দাম চলতি সপ্তাহে কমেছে। আমদানিকারক দেশগুলো চাল রফতানিতে ভারতের বিধিনিষেধ শিথিলের অপেক্ষায়। এ প্রত্যাশায় আমদানি আপাতত বন্ধ রেখেছেন ব্যবসায়ীরা। এ কারণে চাহিদা কমে যাওয়ায় শীর্ষ রফতানিকারক দেশ ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ড রফতানীকৃত চালে মূল্যছাড় দিয়েছে। খবর বিজনেস রেকর্ডার।
ভিয়েতনামে বৃহস্পতিবার ৫ শতাংশ খুদযুক্ত সেদ্ধ চালের টনপ্রতি মূল্য ছিল ৫৬৫-৫৭০ ডলার, যা গত বছরের ২৭ জুলাইয়ের পর সর্বনিম্ন। এর আগের সপ্তাহে দেশটিতে প্রতি টন চালের দাম ছিল ৫৭৫ ডলার।
এ বিষয়ে হো চি মিন সিটির এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমদানিকারকরা চাল রফতানিতে ভারতের বিধিনিষেধ শিথিলের প্রত্যাশায় আছেন। এ কারণে ধীর রফতানির গতি।’
ভিয়েতনামের সরকারি কাস্টমসের তথ্যানুযায়ী, জুনে দেশটি থেকে চাল রফতানি এর আগের মাসের তুলনায় ৪০ শতাংশ কমেছে। এ সময় দেশটি মোট চাল রফতানি করেছে ৫ লাখ ১৩ হাজার ৪০৯ টন। যদিও চলতি বছরের প্রথমার্ধে দেশটির চাল রফতানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। জানুয়ারি-জুন পর্যন্ত মোট রফতানির পরিমাণ ছিল ৪৫ লাখ ৫০ হাজার টন।
থাইল্যান্ডের ৫ শতাংশ খুদযুক্ত চালের বৃহস্পতিবার মূল্য ছিল টনপ্রতি ৫৭০-৫৭৫ ডলার, যা এপ্রিলের পর সর্বনিম্ন। গত সপ্তাহে দেশটিতে প্রতি টন চালের মূল্য ছিল ৫৮৫ ডলার।
এ বিষয়ে ব্যাংককভিত্তিক এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘চালের বড় কোনো ক্রয়াদেশ আসছে না। এছাড়া নতুন করে সরবরাহও বেড়েছে। এ কারণে পণ্যটির দাম কমেছে।’
অন্যদিকে শীর্ষ রফতানিকারক দেশ ভারতেও চালের দাম কমেছে। চলতি সপ্তাহে দেশটিতে ৫ শতাংশ খুদযুক্ত সেদ্ধ চালের দাম ছিল ৫৩৯-৫৪৫ ডলার, গত সপ্তাহে যা ছিল ৫৪১-৫৪৮ ডলার। ভারত থেকে রফতানিতে বাড়তি পরিবহন খরচ ও রুপির বিনিময় হার কমে যাওয়ায় চাহিদা কমেছে। এ কারণে নিম্নমুখী হয়েছে ভারতীয় চালের দাম।
দক্ষিণ অন্ধ্র প্রদেশ রাজ্যের কাকিনাড়ায় অবস্থিত একজন রফতানিকারক বলেছেন, ‘কয়েক সপ্তাহ ধরে চালের চাহিদা কিছুটা কম। ক্রেতারা মে মাসে চাল আমদানি অনেক বাড়িয়েছিল।’
এদিকে অনুকূল ফসল ও পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণভাবে চালের দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়ে গেছে। সম্প্রতি বন্যায় ধানের আবাদি জমি অনেকটা তলিয়ে গেছে, যা ভবিষ্যতে উৎপাদনকে প্রভাবিত করবে। এদিকে বাজারসংশ্লিষ্ট এক সূত্র এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল কমোডিটি ইনসাইটসকে জানিয়েছে, সেদ্ধ চালের ওপর রফতানি শুল্ক নীতির মেয়াদ ২০২৫ সাল পর্যন্ত বাড়াতে পারে ভারত সরকার। এছাড়া সরকার সেদ্ধ চালের জন্য শতাংশভিত্তিক শুল্কের পরিবর্তে ফ্রি অন বোর্ডে (এফওবি) টনপ্রতি ৯০ ডলারের মতো একটি নির্দিষ্ট শুল্কারোপ করা যায় কিনা সে বিষয়েও চিন্তা করছে।










