মহামারীর শুরু থেকে চলছে বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনের বাধা। পণ্য সরবরাহে হিমশিম খাচ্ছে উৎপাদক থেকে বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ সরবরাহ চেইনকে বিপর্যয়ের মুখে ফেলে দেয়। সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তায় লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে জ্বালানি মূল্য। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তা পর্যায়ে দাম রেকর্ড উচ্চতায় উন্নীত হয়েছে। এমন পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমনকি খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও উচ্চমূল্যস্ফীতি সাময়িক সময়ের জন্য অব্যাহত থাকার কথা বলেছেন। খবর এপি।
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের তথ্য অনুসারে, মে মাসে ভোক্তা পর্যায়ে পণ্যমূল্য গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৮ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। এপ্রিলে মূল্যবৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ৩ শতাংশ। গত মাসের মূল্যস্ফীতি ১৯৮১ সালের পর থেকে সর্বোচ্চ। যদিও গত মাসে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি কিছুটা প্রশমিত হওয়ার আশা করা হয়েছিল। তবে খাদ্য ও গ্যাসের দাম বাড়ায় মার্কিন ভোক্তাদের ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ আরো বেড়েছে।
মাসভিত্তিক হিসাবে মে মাসে এপ্রিলের তুলনায় দ্রব্যমূল্যের দাম ১ শতাংশ বেড়েছে। এর আগে মার্চ থেকে এপ্রিলে এ হার ছিল দশমিক ৩ শতাংশ। অর্থাৎ মূল্যবৃদ্ধির গতি আরো ত্বরান্বিত হয়েছে। এয়ারলাইনসের টিকিট থেকে শুরু করে রেস্তোরাঁর খাবার এবং নতুন ও ব্যবহূত গাড়ি পর্যন্ত সব কিছুর দামই বেড়েছে। এ কারণে বাজার অস্থিরতার মধ্যে থাকা খাদ্য ও জ্বালানি বাদ দিয়ে তথাকথিত কোর মূল্যস্ফীতিকেও বাড়িয়ে তুলেছে।
মে মাসে কোর মূল্যস্ফীতি টানা দ্বিতীয় মাসের মতো ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। মাসভিত্তিক হিসাবে এটি দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। পাশাপাশি এক বছর আগের তুলনায় কোর মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। বর্তমানে মূল্যস্ফীতি জ্বালানি ও পণ্যের বাইরেও ছড়িয়ে পড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। সরবরাহ চেইনের প্রতিবন্ধকতা ও ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে এমনটা হচ্ছে বলে মত তাদের। এর প্রভাবে পুঁজিবাজারেও নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। এ পরিস্থিতি ফেডারেল রিজার্ভকে আরো দ্রুত সুদের হার বাড়াতে চাপ দিচ্ছে। এটি ভোক্তা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ঋণকে আরো ব্যয়বহুল করে তুলবে। এতে বেড়ে যাচ্ছে মন্দার ঝুঁকিও।
এদিকে রেকর্ড সর্বোচ্চ এ মূল্যস্ফীতি স্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। যদিও প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলছেন, এ পরিস্থিতি সাময়িক সময়ের জন্য স্থায়ী হতে পারে। রেকর্ড সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ে তিনি বলেন, আমাদের সাময়িক সময়ের জন্য এমন উচ্চমূল্যস্ফীতির সঙ্গে জীবনযাপন করতে হবে। ধীরে ধীরে এ পরিস্থিতি সহজ হবে। তবে আমরা সাময়িক সময়ের জন্য হলেও এটির সঙ্গে বসবাস করতে যাচ্ছি।
ক্রমবর্ধমান এ দাম জো বাইডেন প্রশাসনের জন্য একটি রাজনৈতিক মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে। দাম কমানোর জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলছেন তারা। পাশাপাশি তারা বলছেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের মূল দায়িত্ব ফেডারেল রিজার্ভের।
ব্যাংক অব আমেরিকার গ্লোবাল ইকোনমিক রিসার্চের প্রধান ইথান হ্যারিস বলেন, প্রতিটি খাতে স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্যস্ফীতি রয়েছে। এটি অর্থনীতির প্রতিটি প্রান্তে প্রবেশ করেছে। ক্রমেই এটি উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। কারণ এমন পরিস্থিতি অব্যাহত বা স্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কেবল মে মাসেই গ্যাসের দাম ৪ শতাংশ বেড়েছে। গত বছরের তুলনায় এ দাম ৫০ শতাংশ বেশি। এছাড়া মুদি জিনিসপত্রের দাম এক বছর আগের তুলনায় ১২ শতাংশ বেড়েছে। এ হার ১৯৭৯ সালের পর সর্বোচ্চ। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের পর শস্য ও সারের দাম আরো তীব্র হয়েছে। রেস্তোরাঁর খাবারের দাম ৭ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। এটি খাদ্য ও শ্রমে অতিরিক্ত ব্যয়কে প্রতিফলিত করে।
আবাসন ব্যয় বার্ষিক ৫ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্যে বাসা ও হোটেল ভাড়ার হার এবং বাড়ির মালিকানা খরচ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া এয়ারলাইনসের ভাড়া বেড়েছে প্রায় ৩৮ শতাংশ।










