চলতি বছর শেষে অ্যারাবিকা কফির বৈশ্বিক চাহিদা বাড়বে। অন্যদিকে বছরের দ্বিতীয়ার্ধে পানীয় পণ্যটির শীর্ষ উৎপাদনকারী দেশ ব্রাজিলে উৎপাদন কমে যাবে। যার প্রভাবে ২০১৯-২০ মৌসুমে বৈশ্বিক উৎপাদন ২৫ লাখ ব্যাগ (প্রতি বেগে ৬০ কেজি) কমে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর ফলে অ্যারাবিকা কফির দাম ১৪ শতাংশ বাড়বে। খাতসংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যবসায়ী এবং বিশ্লেষকদের নিয়ে করা রয়টার্সের এক মতামত জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রাইস ফিউচার গ্রুপের ভাইস প্রেসিডেন্ট জ্যাক স্কোভাইল জানান, চাহিদার তুলনায় পানীয় পণ্যটির বৈশ্বিক উৎপাদন কমতির দিকে যাচ্ছে।

পানীয় পণ্যটির উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কায় দাম বেড়ে প্রতি পাউন্ড ১ ডলার ১৫ সেন্টে দাঁড়াবে। এর আগে গত বছর আসন্ন মাসভিত্তিক চুক্তিতে অ্যারাবিকা কফির দাম এ পর্যায়ে ছিল। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার এর সমাপনী মূল্য ছিল ১ ডলার।

২০১৮-১৯ মৌসুমে রেকর্ড পরিমাণ কফি উৎপাদন করেছিল ব্রাজিল। এর পরিমাণ ছিল ৬ কোটি ২০ লাখ ব্যাগ। এর ফলে বৈশ্বিক বাজারে বাড়তি সরবরাহে গত এপ্রিলে পানীয় পণ্যটির দাম কমে গিয়েছিল, যা গত ১৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

প্রাকৃতিক নিয়মে প্রতি দুই মৌসুম পরপর কফির উৎপাদন তুলনামূলক কম হয়। সে হিসাবে ২০১৯-২০ মৌসুমে ব্রাজিলে পানীয় পণ্যটির উৎপাদন কম হবে। এ সময় দেশটিতে ৫ কোটি ৬০ লাখ ব্যাগ কফি উৎপাদনের প্রাক্কলন করা হয়েছে। যার মধ্য ৩ কোটি ৮ লাখ ব্যাগ অ্যারাবিকা কফি উৎপাদনের লক্ষ্য ধরা হয়েছে। যদিও মার্কিন কৃষি বিভাগ ইউএসডিএ এই মৌসুমে ৫ কোটি ৯৩ লাখ কফি উৎপাদনের প্রাক্কলন করেছিল। এ উৎপাদনকে কম ফলন হওয়া মৌসুমের মধ্য সর্বোচ্চ উৎপাদন।

এদিকে ২০২০-২১ মৌসুমে ব্রাজিলের কফি উৎপাদনের প্রাক্কলন বাড়ছে। এ মৌসুমে দেশটিতে ৬ কোটি ১৫ লাখ ব্যাগ কফি উৎপাদনের প্রাক্কলন করা হয়েছে। যার ফলে এ সময় বৈশ্বিক বাজারে ১৫ লাখ ব্যাগ কফির উদ্বৃত্ত থাকার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

বিশ্বে রোবাস্তা কফি উৎপাদনে শীর্ষ দেশ ভিয়েতনাম। দেশটিতে ২০১৯-২০ মৌসুমে ২ কোটি ৯৫ লাখ ব্যাগ কফি উৎপাদনের প্রাক্কলন করা হয়েছে।

এদিকে কফির বাজারে ব্রাজিলের শক্ত অবস্থানের প্রভাব পড়েছে দেশটির মুদ্রাবাজারে। কফির দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ব্রাজিলীয় রিয়ালের অবস্থান শক্তশালী হচ্ছে। এর ফলে উৎপাদনকারীরা আরো বেশি কফি বিক্রিতে উৎসাহিত হচ্ছে।

বিশ্বের শীর্ষ কফি উৎপাদনকারী ও রফতানিকারক দেশটির অ্যারাবিকা ও রোবাস্তা কফির খ্যাতি বিশ্বজোড়া। ব্রাজিলের কৃষি খাতের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান কোনাবের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সর্বশেষ ২০১৮ সালে দেশটিতে ৬ কোটি ১৬ লাখ ব্যাগ কফি উৎপাদন হয়েছিল।