তিন বছর ধরে নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে সুইজারল্যান্ডের ঘড়ি শিল্প। যুদ্ধ, শুল্ক, স্বর্ণের বাড়তি দাম, শক্তিশালী সুইস ফ্রাঁ ও বিলাসপণ্যের দুর্বল চাহিদা—সব মিলিয়ে চাপ বেড়েছে নির্মাতাদের ওপর। কমেছে রফতানিও।

সুইস ঘড়ির বাজারে বড় ধরনের বিভাজন তৈরি হয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস। একদিকে বাজারের একেবারে শীর্ষে থাকা অতি বিলাসী ঘড়ির চাহিদা বাড়ছে। এসব ঘড়ি তৈরি করে এমন প্রতিষ্ঠানগুলো চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। অন্যদিকে মধ্যম ও অপেক্ষাকৃত কম দামের ঘড়ি নির্মাতারা কমাচ্ছে উৎপাদন। কর্মসংস্থান ধরে রাখতে কেউ কেউ সরকারি সহায়তাও নিচ্ছে।

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে সুইস ঘড়ি রফতানির মূল্য দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক ২ বিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এটি দশমিক ৬ শতাংশ কম। তবে রফতানির পরিমাণ বেড়েছে ২ দশমিক ৩ শতাংশ।

সুইস ঘড়ি শিল্পের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান লাক্সকনসাল্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, সমগ্র সুইস ঘড়ি শিল্প থেকে ৭৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধিই এসেছে অতি অল্পসংখ্যক ও চরম দামি কিছু ঘড়ি বিক্রি থেকে। কেবল ১ দশমিক ৩ শতাংশ দামি ঘড়ি এখন পুরো শিল্পে প্রবৃদ্ধির বড় হিস্যা দখলে রেখেছে।

লাক্সকনসাল্ট জানায়, ২৫-৫০ হাজার সুইস ফ্রাঁ দামের ঘড়ির বাজার সবচেয়ে বেশি চাপে রয়েছে। এ শ্রেণীর বিক্রি কমেছে ৮ দশমিক ৩ শতাংশ। অন্যদিকে ৭ হাজার ৫০০ থেকে ১২ হাজার ৫০০ সুইস ফ্রাঁ দামের তুলনামূলক সহজলভ্য বিলাসী ঘড়ির বিক্রি বেড়েছে দশমিক ৫ শতাংশ। রোলেক্স, ওমেগা ও কার্তিয়েরের স্টিলের মডেলগুলো এক্ষেত্রে কিছুটা সহায়তা করেছে।

একই সময় সুইস ঘড়ির মোট রফতানি ২০২৩ সালের ১ কোটি ৭০ লাখ ইউনিট থেকে ২০২৫ সালে কমে ১ কোটি ৪৬ লাখ ইউনিটে নেমেছে। উৎপাদন কমলেও কিছু ব্র্যান্ড এখনো ক্রেতাদের আগ্রহ ধরে রেখেছে।

নিলাম বাজারেও অতি বিলাসী ঘড়ির চাহিদার প্রমাণ মিলছে। গত জুনে ফিলিপসের এক নিলামে এফপি জার্নের একটি ঘড়ি ১ কোটি ৩৯ লাখ ডলারে বিক্রি হয়। এটি বিশ্বের সবচেয়ে দামি ঘড়ি বিক্রির তালিকায় পঞ্চম স্থানে রয়েছে।

ভৌগোলিকভাবেও বদলে যাচ্ছে বাজার। কভিড-১৯ মহামারীর আগে চীন ও হংকং ছিল সুইস ঘড়ির গুরুত্বপূর্ণ বাজার। এখন দুটিই সংকুচিত হয়েছে। চলতি বছর চীনে সুইস ঘড়ি রফতানি কমেছে ৭ দশমিক ১ শতাংশ।

খবর ও ছবি এফটি