সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে গত পাঁচ বছরে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয় হয়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছর থেকে গত ২০২০-২১ অর্থবছর পর্যন্ত ৩ হাজার ৯৪৭ কোটি ৭৬ লাখ টাকার রাজস্ব অর্জন হয়েছে বলে জানান বন্দর-সংশ্লিষ্টরা। তাছাড়া এ সময়ে রাজস্ব ঘাটতি রয়েছে ৮০০ কোটি টাকার ওপরে।

ভোমরা শুল্ক স্টেশনের জ্যেষ্ঠ রাজস্ব কর্মকর্তা আকবার আলী জানান, ২০১৬-১৭ অর্থবছর থেকে ২০২০-২১ অর্থবছর পর্যন্ত ৩ হাজার ৯৮৭ কোটি ৭৬ লাখ টাকার রাজস্ব অর্জন হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৭৭৪ কোটি ৬৩ লাখ, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৭৯৫ কোটি ৯৪ লাখ, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১ হাজার ৩২ কোটি ৭১ লাখ, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৫৮৩ কোটি ৪০ লাখ এবং সদ্য বিদায়ী ২০২০-২১ অর্থবছরে ৭৬০ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।

তিনি আরো জানান, এনবিআর কর্তৃক গত পাঁচ বছরে ভোমরা বন্দরে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য নির্ধারণ ছিল ৪ হাজার ৭৬১ কোটি ৬৬ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। এর মধ্যে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৭৩০ কোটি ৯৮ লাখ ৬৬ হাজার, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে (সংশোধিত) ৮০৭ কোটি, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১ হাজার ৩৩ কোটি, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১ হাজার ১৮৬ কোটি ৩৮ লাখ এবং ২০২০-২১ অর্থবছরে ১ হাজার ৪ কোটি ৩ লাখ টাকা আহরণ করা হয়েছে। হিসাব অনুযায়ী গত পাঁচ বছরে মোট রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৮১৩ কোটি ৯ লাখ টাকা ঘাটতি রয়েছে।

এদিকে পূর্ণাঙ্গ বন্দর হিসেবে কার্যক্রম শুরুর আট বছর পরও সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে অনুপস্থিত সব ধরনের পণ্য আমদানির সুবিধা। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১০ সালে ভোমরা বন্দরকে পূর্ণাঙ্গ বন্দরের ঘোষণা দেন। ওই ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৩ সালে ভোমরা পূর্ণাঙ্গ বন্দর হিসেবে কার্যক্রম শুরু করলেও আজ পর্যন্ত সব পণ্য আমদানি করা যায় না এখানে। বন্দরটি ব্যবহার করে গত পাঁচ বছরে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আহরণ হয়েছে।

ভোমরা বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতাদের দাবি বন্দরটি বছরে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব অর্জন করলেও অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি। একই সঙ্গে রয়েছে পণ্য আমদানিতে উচ্চ বৈষম্য।

ভোমরা স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ব্যবসায়ী অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান নাসিম বলেন, ১৯৯৬ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে ভোমরা বন্দর প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য হারে রাজস্ব আয় করছে। দেশের অন্য সব বন্দরের তুলনায় ভোমরা খুবই সম্ভাবনাময় একটি স্থলবন্দর। ভারত থেকে পণ্য আমদানিতে ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থার পাশাপাশি সময় ও পরিবহন খরচ সাশ্রয় হয় ব্যবসায়ীদের। ফলে দেশের বড় বড় আমদানি-রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানের আগ্রহ ভোমরা বন্দর ব্যবহারে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, এ বন্দরে পণ্য আমদানিতে রয়েছে সংশ্লিষ্টদের বৈষম্য। পূর্ণাঙ্গ বন্দরে রূপান্তর হওয়ার পরও ভোমরা বন্দর দিয়ে সব ধরনের পণ্য আমদানি করতে দেয়া হয় না ব্যবসায়ীদের।

তিনি আরো বলেন, এখানে ব্যবসায়ীরা তাদের চাহিদামতো পণ্য আমদানি করতে পারলে সরকারের রাজস্ব অনেক গুণ বেড়ে যেত। পাশাপাশি ভোমরা দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দরে পরিণত হতো। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে ভোমরা বন্দর দিয়ে সব ধরনের পণ্য আমদানি করতে দেয়া হয় না।

সাতক্ষীরা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি নাসিম ফারুক খান মিঠু জানান, ভোমরা বন্দর সরকারকে বছরে রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব আহরণ করে দেয়। কিন্তু এ বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবি তাদের সব পণ্য আমদানির অনুমতি দিতে হবে। অথচ বন্দরসংশ্লিষ্টরা ব্যবসায়ীদের ন্যায্য দাবির প্রতি বিবেচনা করেননি আজও। এখানে সব ধরনের পণ্য আমদানির অনুমতি দিলে সরকার যেমন লাভবান হবে, তেমনি ব্যবসা-বাণিজ্যও আরো প্রসার ঘটবে।

ভোমরা স্থলবন্দরের দায়িত্বে থাকা কাস্টমসের বিভাগীয় সহকারী কমিশনার আমীর মামুন জানান, ভোমরা একটি সম্ভাবনাময় বন্দর। ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানীখ্যাত কলকাতার সঙ্গে ভোমরার দূরত্ব যেমন কম, তেমনি যোগাযোগ ব্যবস্থাও ভালো। ফলে আগামীতে এ বন্দরের সঙ্গে দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য আরো প্রসার ঘটবে বলে মনে করেন তিনি।