অ্যালগরিদম ব্যবহার করে পণ্যের দাম বাড়িয়ে ভোক্তাদের কাছ থেকে ১০০ কোটি ডলারেরও বেশি অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে অ্যামাজন। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশন (এফটিসি) সম্প্রতি এক মামলায় দাবিগুলো প্রকাশ করেছে। মামলাটি প্রাথমিকভাবে সেপ্টেম্বরে দায়ের করা হয়েছিল। বিশদ বিবরণ সম্প্রতি সিয়াটলের একটি মার্কিন জেলা আদালতে জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়। খবর ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে।

অ্যামাজন তার বাজার প্রভাব ও ডাটা ব্যবহার করে প্রজেক্ট নেসির মাধ্যমে প্রতিযোগিতা বিরোধী আচরণে জড়িত হয়েছে এমন অভিযোগ করেছে এফটিসি। এফটিসি যুক্তি দেখিয়েছে, অ্যামাজন ১০০ কোটিরও বেশি আইটেম নিয়ে বিশাল অনলাইন মার্কেটপ্লেস চালিয়ে আসছে। অনলাইন খুচরা বিক্রেতা হিসেবে উল্লেখযোগ্য গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে অ্যামাজনের। ‘‌প্রজেক্ট নেসি’র মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু পণ্যকে চিহ্নিত করে অ্যামাজন দাম বাড়ালে অন্যান্য বিক্রেতা তা অনুসরণ করেছে। এভাবে দাম বাড়িয়ে অ্যামাজন প্রায় ১০০ কোটি ডলার অতিরিক্ত মুনাফা অর্জন করেছে।

অ্যামাজনের মুখপাত্র টিম ডয়েল অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, এফটিসি মূল্যের প্রক্রিয়াকে ভুলভাবে উপস্থাপন করেছে। আর এটি অ্যামাজন বেশ কয়েক বছর আগে ব্যবহার বন্ধ করে দিয়েছে। ডয়েল আরো জানান, প্রজেক্ট নেসি ব্যবহার করা হয়েছিল দামের মিলে যাওয়া বন্ধ করার জন্য। এর উদ্দেশ্য ছিল অস্বাভাবিক মূল্যপতন ঠেকানো। মূলত অ্যামাজন ২০১০ সালে অন্যান্য অনলাইন খুচরা বিক্রেতারা কোন পণ্যের কী দাম নিচ্ছে, তা দেখার জন্য প্রাইসিং অ্যালগরিদম ব্যবহার শুরু করে।

এফটিসি আরো অভিযোগ করেছে, সিগন্যাল মেসেজিং অ্যাপের হিডেন মেসেজ ফিচার ব্যবহার করে অ্যান্টিট্রাস্ট নীতি প্রয়োগকারীদের কাছ থেকে অ্যামাজন অপারেশনাল তথ্য লুকানোর চেষ্টা করে। প্রতিষ্ঠানটি জুন ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সম্পূর্ণ বার্তা-আলাপ মুছে দিয়েছে।

অ্যামাজনের বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ রয়েছে, তারা প্রাইম ফিচারে বিক্রেতাদের কাছ থেকে লজিস্টিক এবং ডেলিভারি পরিষেবাগুলো ব্যবহারে বাধ্য করেছে। ২০১৪ সালে ২৭ শতাংশ থেকে ২০১৮ নাগাদ ৩৯ দশমিক ৫ শতাংশ ফি বাড়িয়েছে।