জাপানের সব ধরনের সি ফুড আমদানিতে চীনের নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রভাব পড়েছে দেশটির সম্প্রসারণশীল সি ফুড শিল্পে। জাপানের ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে তেজস্ক্রীয় পানি প্রশান্ত মহাসাগরে ছাড়া হয়। এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সব ধরনের জাপানি সামুদ্রিক খাবার নিষিদ্ধ করে চীন। খবর নিক্কেই এশিয়া।
বেইজিং অনির্দিষ্টকালের জন্য জাপানের সামুদ্রিক খাবার আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ২০১১ সালের দুর্ঘটনার পর সীমিত পরিসরে ফুকুসিমার কাছের অঞ্চলগুলো থেকে সি ফুড আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জানিয়েছিল দেশটি। সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় জাপানের মন্ত্রী তেতসুরো নমুরা দাবি করেন, চীনের এ অবস্থান জাপানের সামুদ্রিক খাদ্যশিল্পের সম্প্রসারণে বৈশ্বিক নীতির পরিপন্থী ও হতাশাজনক।
ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনামের মতো শীর্ষস্থানীয় মাছ ধরার দেশগুলোর মধ্যে সমুদ্রবেষ্টিত জাপানও একটি। আশির দশকে জাপান বিশ্বের সবচেয়ে বড় মাছ শিকারি দেশ হিসেবে বিখ্যাত ছিল। ক্রমহ্রাসমান জনসংখ্যা ও খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের কারণে দেশীয় বাজার সংকুচিত হওয়ায় দেশটি এখন সামুদ্রিক পণ্য রফতানির দিকে মনোযোগী হচ্ছে।
জাপানের ফিশারিজ এজেন্সির পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০২২ সালে সামুদ্রিক মাছ রফতানির মোট মূল্য ছিল প্রায় ৩৮৭ কোটি ইয়েন বা ২৬০ কোটি মার্কিন ডলার। দেশটির মাছ রফতানির হার কয়েক বছর ধরেই ঊর্ধ্বমুখী। এশিয়ান সামুদ্রিক খাবারের বাজার সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে চীনে রফতানির পরিমাণ ছিল মোট রফতানির ২২ দশমিক ৫ শতাংশ। চীনে প্রধান রফতানি আইটেমের মধ্যে রয়েছে স্ক্যালপস, বোনিটো ও টুনা মাছ।
১৯৪৫ সালের পারমাণবিক বোমায় বিষাক্ত ফুকুশিমার পানি সম্প্রতি অপসারণ করায় গত মাস থেকে চীন জাপানি সি ফুড পণ্য পরীক্ষা করতে শুরু করেছে। রেডিয়েশন পাওয়ার আশঙ্কায় বিপুলসংখ্যক সামুদ্রিক পণ্য জব্দ করেছে কাস্টমস অফিস। এমনকি জাপান থেকে তাজা মাছ ও অন্যান্য পণ্য আমদানি বন্ধ রেখেছে। মূল ভূখণ্ড চীন ছাড়া হংকং গত বৃহস্পতিবার ফুকুশিমার কাছের ১০টি প্রিফেকচার থেকে সামুদ্রিক খাবার আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা শুরু করেছে। চীনের পর জাপানের দ্বিতীয় বৃহত্তম রফতানি গন্তব্য হলো হংকং। ফুকুশিমার উত্তরে মিয়াগি প্রিফেকচারের একটি সামুদ্রিক খাবার প্রক্রিয়াকরণ কোম্পানি ফিউস সিউটেনের সিইও তাইচ ফিউস নিক্কেই এশিয়াকে বলেন, ‘এখন রফতানি রুট বন্ধ হয়ে গেছে বলে প্রিফেকচারে সামুদ্রিক খাবার ব্যবসার জন্য এটি একটি শিরোনাম হবে।’
জাপানের বাণিজ্য পরিসংখ্যান অনুসারে, জুলাইয়ে চীনে মোট খাদ্য রফতানি গত বছরের একই মাসের তুলনায় ২৪ শতাংশ কম ছিল। চীনের জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমসের পরিসংখ্যানও একই ইঙ্গিত দিয়েছে, তারা গত জুলাইয়ে জাপান থেকে ২৩৪ মিলিয়ন ইউয়ানের মাছ ও সামুদ্রিক অন্যান্য পণ্য আমদানি করেছে, যা এক বছর আগের একই বছরের তুলনায় ২৯ শতাংশ কম। বেইজিং সম্পূর্ণভাবে আমদানি স্থগিতের ঘোষণা দেয়ার পর সুমিতোমো করপোরেশন গ্লোবাল রিসার্চের প্রধান অর্থনীতিবিদ তাকাইউকি হোমা নিক্কেই এশিয়াকে জানান, কিছু জাপানি অপারেটর অতিরিক্ত সরবরাহের সঙ্গে বাজারও হারাতে পারে। তিনি বলেন, ‘জাপানি সামুদ্রিক পণ্যের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকলে চীনের ভ্রমণকারীরাও তাদের অবস্থানের সময় জাপানে সামুদ্রিক খাবার খাওয়া এড়িয়ে চলতে পারে, যা অভ্যন্তরীণ ব্যবসায়ও মন্দা ডেকে আনতে পারে। ফলে এটি উদ্বেগের বিষয়।’
জাপান সি ফুড রফতানি ২০৩০ সালের মধ্যে ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়নে দাঁড় করানোর লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হয়েছে। ফিশারিজ এজেন্সির দাবি, বৈশ্বিক খাদ্যবাজার দখলের জন্য সামুদ্রিক পণ্য রফতানির সম্প্রসারণ গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের বাজারে একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে চায় জাপান।










