চীনে অপরিশোধিত তামার আমদানি জুনে কমেছে। আমদানির পরিমাণ গত ১৪ মাসে সর্বনিম্নে নেমেছে। অভ্যন্তরীণ নিম্নমুখী চাহিদা ও বিশ্বব্যাপী দাম বেড়ে যাওয়ায় তামার আমদানি কমিয়েছে চীন। গতকাল প্রকাশিত চীনের শুল্ক বিভাগের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। খবর বিজনেস রেকর্ডার।

শুল্ক বিভাগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মাসে ৪ লাখ ৩৬ হাজার টন অপরিশোধিত তামা ও তামাজাত পণ্য আমদানি করেছে চীন, যা এর আগের মাসের তুলনায় ১৫ শতাংশ কম। মে মাসে দেশটি ৫ লাখ ১৪ হাজার টন তামা আমদানি করেছিল।

এছাড়া চীনের অপরিশোধিত তামা আমদানি জুনে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ শতাংশ কমেছে। গত বছরের জুনে দেশটির আমদানির পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ৪৯ হাজার ৬৪৯ টন। 

শুল্ক বিভাগ জানায়, জুনে টানা দ্বিতীয় মাসের মতো চীনের শিল্পোৎপাদন খাতের কার্যক্রম কমেছে। এ কারণে বিদ্যুৎ, নির্মাণ ও পরিবহন খাতে তামার চাহিদা কমেছে।

সরকারি তথ্য বলছে, চীনের আবাসন ব্যবসায়ীরা তামার প্রধান ভোক্তা। গত মে মাসে এ খাতে বিনিয়োগ ও বাড়ি নির্মাণ কমে গেছে। ফলে তামার চাহিদাও নিম্নমুখী।

এদিকে তামার পর্যাপ্ত মজুদ সত্ত্বেও আমদানি অব্যাহত রাখা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন দেশটির ধাতব পণ্যের বাজার বিশ্লেষক ঝাং ওয়েজিন। বর্তমানে চীনে তামার ব্যবহার কমে গেছে। তবে ভবিষ্যতে দাম বাড়ার আশায় সাংহাই ফিউচারস এক্সচেঞ্জে (এসএইচএফই) চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ভবিষ্যৎ সরবরাহ চুক্তিমূল্যে তামার লেনদেন হয়েছে।

চীনে ‘ইয়াংশান কপার প্রিমিয়াম’ সূচকের মাধ্যমে স্পট মার্কেটে তামার আমদানি প্রবণতা পর্যবেক্ষণ করা হয়। জুনে এ সূচকও নিম্নমুখী ছিল। 

সাম্প্রতিক সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি খাতে তামার চাহিদা বেড়েছে। এছাড়া মূল্যস্ফীতি মোকাবেলার অংশ হিসেবে তামায় বিনিয়োগ বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তামার দাম বেড়েছে। এছাড়া খনি থেকে উত্তোলিত তামার সরবরাহ হ্রাসও দাম বাড়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। 

মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জে তামার ভবিষ্যৎ সরবরাহ চুক্তিমূল্য টনপ্রতি রেকর্ড ১১ হাজার ১০০ ডলারে উন্নীত হয়েছিল। এরপর থেকে তামার চুক্তিমূল্য প্রায় ১২ শতাংশ কমেছে। তবে এখনো তা চলতি বছরের শুরুর দিকের তুলনায় ১৪ শতাংশ বেশি।

তবে মাস ভিত্তিতে আমদানি কমলেও চলতি বছরের প্রথমার্ধে চীনে তামা আমদানি বেড়েছে। প্রকাশিত তথ্যমতে, এ সময় পরিশোধিত তামা আমদানি ৬ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ২৭ লাখ ৬০ হাজার টনে উন্নীত হয়েছে।