রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ফার্মগুলো উৎপাদন ও বিনিয়োগ উভয়ই দিক দিয়েই বেসরকারি খাতের থেকে এগিয়ে। সম্প্রতি ন্যাশনাল ব্যুরো অব স্ট্যাটিসটিকস প্রকাশিত নতুন অর্থনৈতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। খবর নিক্কেই এশিয়া।

জুলাইয়ে শিল্পোৎপাদন ও ভোগ্যপণ্যের মোট খুচরা বিক্রির বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার ধীর হয়েছে। মৌসুমি কারণগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য করার পরে জুনের চেয়ে জুলাইয়ে উৎপাদন মাত্র দশমিক শূন্য ১ শতাংশ বেড়েছে। তবে একই সময়ে ২০২২ সালের ডিসেম্বরের পর এ প্রথম খুচরা বিক্রি কমেছে।

বেসরকারি খাতের ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের কোম্পানিগুলোর মধ্যে দুর্বল প্রবণতা লক্ষ করা গিয়েছিল। ২০২২ সালের জুন থেকে অব্যাহতভাবে সরকারির চেয়ে বেসরকারি কোম্পানিগুলো পিছিয়ে। গত জুলাইয়ে বেসরকারি খাতে শিল্পোৎপাদন ২ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। তবে এ পরিমাণ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন করপোরেশনগুলোর ৩ দশমিক ৪ শতাংশ উৎপাদন বৃদ্ধির চেয়ে কম।

বেসরকারি খাতের কোম্পানিগুলো স্থায়ী সম্পদ বিনিয়োগেও পিছিয়ে। এ খাতে জানুয়ারি-জুনে বেসরকারি বিনিয়োগ বার্ষিক দশমিক ২ শতাংশ কমে গেছে। আর জানুয়ারি-জুলাইয়ে দশমিক ৫ শতাংশ কমে গেছে। অন্যদিকে জানুয়ারি-জুলাইয়ে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন করপোরেশনগুলোর বিনিয়োগের পরিমাণ ৭ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে।

স্থানীয় অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে আঞ্চলিক সরকারগুলোর অবকাঠামোগত বিনিয়োগের কারণে এ ব্যবধান তৈরি হয়েছে। কেননা রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানিগুলোর এ ধরনের প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ও চুক্তিবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা বেশি থাকে। জানুয়ারি-জুলাই মেয়াদে বছরের সামগ্রিক অবকাঠামো বিনিয়োগ বেড়েছে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ। তবে সরকারি কর্মসূচি থেকে বেসরকারি খাতের কোম্পানিগুলো কম লাভবান হওয়ার প্রবণতা রয়েছে। পাশাপাশি মন্থর চাহিদাও বেসরকারি খাতের পুনরুদ্ধার যাত্রার গতি কমিয়েছে।

জুনের শেষে প্রাইভেট সেক্টরের ২৮ দশমিক ১ শতাংশ কোম্পানিই লাল রঙে ছিল, যা ২০০১ সালের পর থেকে সর্বোচ্চ। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানিগুলোর বড় অংশ ৩২ দশমিক ১ শতাংশ ঝুঁকিপূর্ণ। চীনের শীর্ষ ১০০টি কোম্পানির বিশ্লেষণ থেকে দেখা যায়, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানিগুলো কীভাবে ব্যক্তিগত খাতের প্রতিদ্বন্দ্বীদের চাপে রেখেছে।

ইউএসভিত্তিক পিটারসন ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিকসের মতে, জুনের শেষ পর্যন্ত এ ১০০টি শীর্ষ কোম্পানির মোট বাজার মূলধনের ৪৮ দশমিক ৪ শতাংশই ছিল রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলোর, যা ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের পর থেকে সর্বোচ্চ অংশীদারত্বকে নির্দেশ করছে। অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ১০ ভাগেরও কম কোম্পানির দখলে ৩৯ শতাংশ মূলধন। তবে ২০২১ সালে শীর্ষে ওঠার পর থেকে পরিমাণটি দিনকে দিন কমে যাচ্ছে।

পতনের অন্যতম কারণ রিয়েল এস্টেটের ফাপা বেলুন দশা ঠেকাতে করা সরকারি নীতিমালা, যা বেসরকারি খাতের ডেভেলপারদের সংকটে ফেলে দিয়েছে। একইভাবে প্রযুক্তি খাতে সরকারের ক্র্যাকডাউনও নিম্নমুখী হতে ভূমিকা রেখেছেন। দেশটির ৮০ শতাংশ কর্মসংস্থানের জোগান আসে বেসরকারি খাত থেকে। ফলে খাতটি মন্দা দশায় পড়ায় বেকারত্ব বৃদ্ধিও শঙ্কা দিন দিন প্রবল হচ্ছে। তবে ন্যাশনাল পরিসংখ্যান ব্যুরো মঙ্গলবার বলেছে, তারা বেকারত্ব ঠেকাতে ব্যবস্থা নেবে।