আগস্টে মালয়েশিয়ায় পাম অয়েলের মজুদ বেড়ে সাত মাসের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। পণ্যটির রফতানি কমে যাওয়ায় মজুদ ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। এতে নিম্নমুখী চাপে পড়েছে পণ্যটির বাজারদর। খবর বিজনেস রেকর্ডার।
মালয়েশিয়া বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ পাম অয়েল উৎপাদক ও রফতানিকারক। গত মাসে দেশটিতে পাম অয়েলের মজুদ আগের মাসের তুলনায় ২২ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। মালয়েশিয়ান পাম অয়েল বোর্ড সম্প্রতি এ তথ্য জানায়।
এর আগে বার্তা সংস্থা রয়টার্স ১৮ লাখ ৯০ হাজার টন মজুদের পূর্বাভাস দিয়েছিল। সে তুলনায় মজুদ বেড়েছে ৯ দশমিক ২৩ শতাংশ।
ভোজ্যতেল হিসেবে পাম অয়েলের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। গত মাসে মালয়েশিয়ার পাম অয়েল রফতানি ৯ দশমিক ৭৮ শতাংশ কমেছে। রফতানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৩ লাখ ৩০ হাজার টনে।
নয়াদিল্লিভিত্তিক ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারসংশ্লিষ্টদের কেউই এ স্তরের মজুদ প্রত্যাশা করেনি। ঊর্ধ্বমুখী মজুদ ও রফতানি কমে যাওয়ায় পাম অয়েলের দামের ওপর নিম্নমুখী চাপ তৈরি হয়েছে।
মালয়েশিয়ান পাম অয়েল বোর্ডের তথ্য বলছে, আগস্টে দেশটিতে সাড়ে ১৭ লাখ টন পাম অয়েল উৎপাদন হয়। জুলাইর তুলনায় উৎপাদন বেড়েছে ৮ দশমিক ৯ শতাংশ। বাজারসংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা ছিল ১৭ লাখ ২০ হাজার টন উৎপাদনের। অর্থাৎ উৎপাদন প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বেড়েছে।
এল নিনো আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে মালয়েশিয়ায় আবহাওয়া শুষ্ক ও উষ্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে আগামী মাসগুলোয় দেশটিতে পণ্যটির উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মুম্বাইভিত্তিক উদ্ভিজ্জ তেলের ব্রোকার সানভিন গ্রুপের গবেষণা প্রধান অনিল কুমার বাগানি বলেন, ‘ভারতের মতো শীর্ষ রফতানি গন্তব্যগুলোয় পাম অয়েলের মজুদ ঊর্ধ্বমুখী। অন্যদিকে সূর্যমুখী ও সয়াবিন তেলের দামও কমতির দিকে। এসব কারণে মালয়েশিয়ার পাম অয়েল রফতানি কমছে। চলতি মাসেও রফতানি নিম্নমুখী থাকবে।’
তিনি আরো জানান, পাম অয়েলের বাজার বর্তমানে এল নিনো পরিস্থিতির ওপর অনেকটাই নির্ভর করছে। আগামী অক্টোবর থেকে সামনের মাসগুলোয় উৎপাদন ব্যাপক হারে কমে যেতে পারে। তবে বর্তমানে ইন্দোনেশিয়া বা মালশিয়ার রফতানি কমার কোনো আশঙ্কা নেই।










