চলতি বছরের আগস্টে এশিয়ার কারখানা কার্যক্রম সংকুচিত হয়েছে। উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও বৈশ্বিক চাহিদা কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে খাতটির ওপর। চীনের পুনরুদ্ধার গতি কিছুটা আশা দিলেও জাপান, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ানের মতো এশিয়ার অন্য দেশগুলোর সংকোচন ছিল স্পষ্ট। বিশেষ করে রফতানিনির্ভর অর্থনীতিগুলোর বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীরা এখনো সতর্ক রয়েছেন। খবর রয়টার্স।

চীনের ক্ষেত্রে কাইশিন/এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল ম্যানুফ্যাকচারিং পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স (পিএমআই) আগস্টে ৫১ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে, যা জুলাইয়ে ছিল ৪৯ দশমিক ২ পয়েন্ট। অবশ্য এর আগে অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাস দেয়া পিএমআই ছিল ৫০ পয়েন্টের বেশি। পিএমআই ৫০ পয়েন্টের ওপরে থাকলে কারখানার কার্যক্রম সম্প্রসারণ ও নিচে থাকলে সংকোচন বোঝায়। নতুন কার্যাদেশ, উৎপাদন, কর্মসংস্থান, সরবরাহের সময় ও স্টক লেনদেন পর্যালোচনার মাধ্যমে জরিপটি পরিচালনা করা হয়।

সম্প্রতি চীনের কারখানা কার্যক্রম টানা পাঁচ মাস মন্থর যাচ্ছে। ফলে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ অর্থনীতিতে দেখা দিয়েছে মিশ্র পরিস্থিতি। যেহেতু পাঁচ মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো বেড়েছে ক্রয়াদেশ, ফলে বিনিয়োগকারীদের কেউ কেউ আশাবাদী হয়ে উঠেছেন অর্থনীতির পুনরুদ্ধার নিয়ে। কিন্তু এশিয়ার অন্যান্য দেশে আগস্টে উৎপাদন কার্যক্রম অনেকটাই স্থবির ছিল।  

জাপানের কারখানা কার্যক্রম টানা তৃতীয় মাসের মতো আগস্টে সংকুচিত হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় মজুরির চাপ ও রফতানি কমে যাওয়ার কারণে দীর্ঘ হয়েছে উৎপাদন কার্যক্রমে স্থবিরতা। এশিয়ার নীতিনির্ধারকরা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখার দিকে এখনো মনোযোগী। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ায় সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশটির কারখানা কার্যক্রমে।

দাই-ইচি লাইফ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের উদীয়মান বাজার অর্থনীতিবিদ তরু নিশিহামা বলেছেন, ‘‌চীনের অর্থনীতিতে দ্রুত ও বড় ধরনের পুনরুদ্ধার বর্তমানে অপ্রত্যাশিত। উন্নত বিশ্বের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও অনিশ্চয়তার মধ্যে খাবি খাচ্ছে। এমন সময়ে দাঁড়িয়ে এশীয় কোম্পানিগুলোর জন্য আশাবাদী হয়ে থাকা অনেকটাই কঠিন। খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি এশীয় দেশগুলোয় মানুষকে ভোগান্তির মধ্যে রেখেছে। অঞ্চলের অর্থনীতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়ে রয়েছে।’ 

জুলাইয়ের পূর্বাভাসে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এশিয়ার প্রবৃদ্ধির হার ৫ দশমিক ৩ শতাংশে উন্নীত হওয়ার কথা বলেছিল। ২০২২ সালের একই সময়ে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৪ দশমিক ৫ শতাংশ। চীনের প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৫ দশমিক ২, যা ২০২২ সালের একই সময়ে ছিল ৩ শতাংশ। 

জাপানের জন্য আউ জিবুন ব্যাংক পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স (পিএমআই) আগস্টে ছিল ৪৯ দশমিক ৬ পয়েন্ট, যা আগের মাস জুলাইয়ের তুলনায় অপরিবর্তিত। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় প্রভাব পড়েছে খাতটিতে। যন্ত্রপাতি ও ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মতো শিল্পগুলোয় উৎপাদনে পতন ঘটেছে সবচেয়ে বেশি। সেমিকন্ডাক্টর সরঞ্জামগুলোর উৎপাদন এরই মধ্যে ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। বিশেষত সেমিকন্ডাক্টর মেমোরির চাহিদা রয়েছে উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে। 

এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার পিএমআই সূচক আরো কমেছে। আগস্টে দেশটির পিএমআই সূচক ছিল ৪৮ দশমিক ৯, যা জুলাইয়ে ছিল ৪৯ দশমিক ৪ পয়েন্ট। টানা ১৪তম মাস ধরে দক্ষিণ কোরিয়ার উৎপাদন কার্যক্রম সংকুচিত রয়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে রফতানি সংকুচিত হয়ে পড়ছে।

আগস্টে কারখানা কার্যক্রম সংকুচিত হয়েছে তাইওয়ান, মালয়েশিয়া ও ফিলিপাইনে। তবে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ ভারতে কার্যক্রম বেড়েছে তুলনামূলক দ্রুতগতিতে। দেশটির প্রবৃদ্ধি, উৎপাদন সম্প্রসারণ ও ঊর্ধ্বমুখী ক্রয়াদেশের প্রভাব পড়েছে খাতটিতে।