যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার জুলাইয়ে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে বলে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে। ওই মাসে দেশটিতে কর্মসংস্থান হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার মানুষের, যা প্রত্যাশার চেয়ে প্রায় ৬৫ হাজার কম। জুনে নতুন কর্মসংস্থানের সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৬ হাজার। সেই হিসাবে নতুন কর্মসংস্থান কমেছে প্রায় ৯২ হাজার। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। খবর এপি।
এদিকে প্রত্যাশিত কর্মসংস্থান না হওয়ার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বেকারত্বের পরিসংখ্যানে। দেশটিতে বেকারত্বের হার দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৩ শতাংশে, যা ২০২১ সালের পর সর্বোচ্চ। জুনে বেকারত্বের হার ছিল ৪ দশমিক ১ শতাংশ। তবে ডাটা ফার্ম ফ্যাক্টসেটের অর্থনীতিবিদদের এক সমীক্ষায় আভাস দেয়া হয়েছিল, নতুন কর্মসংস্থানের সংখ্যা কম হলেও যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ১ শতাংশেই স্থির থাকবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান হয়েছে স্বাস্থ্য খাতে, প্রায় ৫৫ হাজার। এরপর রয়েছে অবকাঠামো। এ খাতে কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় ২৫ হাজার মানুষের। আর তৃতীয় সর্বোচ্চ কর্মসংস্থান হয় সরকারি খাতে, প্রায় ১৭ হাজার। পরিবহন খাতে কাজ পেয়েছে ১৪ হাজার মানুষ।
ঘণ্টাপ্রতি মজুরি বৃদ্ধির পরিমাণও প্রত্যাশিত নয়। জুনের তুলনায় গত মাসে ঘণ্টাপ্রতি মজুরি বেড়েছে দশমিক ২ শতাংশ। পূর্বাভাস ছিল দশমিক ৩ শতাংশ। অন্যদিকে ২০২৩ সালের একই সময়ের তুলনায় জুলাইয়ে মজুরি বেড়েছে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। যদিও এবারের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৭ শতাংশ।
মার্কিন অর্থনীতির জন্য এ মুহূর্তে শ্রমবাজারের স্থিতিশীলতা খুবই প্রয়োজন, বিশেষ করে মূল্যস্ফীতির লাগাম টানার স্বার্থে। কারণ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকলে নিয়োগদাতাদের ওপর মজুরি বাড়ানোর চাপ খুব একটা থাকে না। এতে কর্মী ছাঁটাই করার মতো সিদ্ধান্তও নিতে হয় না তাদের।
যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের পূর্বাভাস ছিল, জুলাইয়ে অন্তত পৌনে দুই লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। গত সপ্তাহে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক বৈঠকের পর সংবাদকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েল বলেন, ‘আমরা সত্যিকারার্থে একটা ভালো অবস্থানে রয়েছি।’
সুদহার ও মূল্যস্ফীতির দ্বৈরথের মাঝে মার্কিন অর্থনীতিতে বেকারত্বের ক্রমবর্ধমান হারকে সংকট হিসেবে দেখা হচ্ছে। মার্কিন অর্থনীতিবিদরা এ নিয়ে একাধিকবার সতর্কও করে দিয়েছেন। এখন ফেড বলছে, তারা মূল্যস্ফীতিকে প্রধান সমস্যা হিসেবে দেখে না, বরং ক্রমবর্ধমান বেকারত্বের হারও নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত প্রতি মাসে গড়ে ২ লাখ ২২ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। ২০২৩ সালে প্রতি মাসে গড়ে কর্মসংস্থান হয় ২ লাখ ৫১ হাজার মানুষের। এর আগের বছর গড় কর্মসংস্থানের সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৭৭ হাজার। আর ২০২১ সালে কভিড লকডাউনের পর অর্থনীতির পুনরুদ্ধার কার্যক্রম শুরুর বছর প্রতি মাসে কর্মসংস্থান হয় রেকর্ড ৬ লাখ ৪ হাজার মানুষের।
আগামী নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট দেবেন মার্কিনরা। তার আগে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার বিষয়টি ভোটারদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রচুর মানুষের কর্মসংস্থান হওয়ার পরও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে অনেকেই অসন্তুষ্ট। যদিও জিনিসপত্রের দাম কমে এসেছে, কিন্তু এখনো বিভিন্ন পণ্য ও সেবায় যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় হচ্ছে, তা উচ্চ মূল্যস্ফীতি আঘাত হানার আগের সময়ের তুলনায় ১৯ শতাংশ বেশি।
এর আগে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, সুদহার কমিয়ে না আনলে নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সেদিক থেকে সম্প্রতি কিছু সুখবরও মিলেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর দেশটির ফেডারেল রিজার্ভ সম্প্রতি বলেছে, সেপ্টেম্বরে সুদহার কমানো শুরু হতে পারে।
ফেড চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েল গত সপ্তাহে সংবাদ সম্মেলনে জানান, সেপ্টেম্বরে ফেডের পরবর্তী বৈঠকের পরপর সুদহার কমে আসতে পারে। বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, এ ধাপে দশমিক ২৫ শতাংশীয় পয়েন্টে সুদহার কমে আসতে পারে।










