ইউক্রেন সংঘাত ঘিরে ব্যবসা বেড়েছে ইউরোপীয় অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কোম্পানি লকহিড মার্টিন, জেনারেল ডায়নামিকস এবং রেথিওন টেকনোলজিস করপোরেশন বা আরটিএক্সের আয় ছিল প্রত্যাশার তুলনায় বেশি। আগামী দিনগুলোয়ও আয়ের ধারা অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে তারা। খবর আরটি।

লকহিড মার্টিন জানিয়েছে, তৃতীয় প্রান্তিকে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উভয় বাজারে যুদ্ধাস্ত্রের অর্ডার বেড়েছে। গত নয় মাসে কোম্পানিটির নিট মুনাফার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫০০ কোটি ডলার। অথচ গত বছরের একই সময়ে নিট মুনাফা ছিল ৩৮০ কোটি ডলার।

জেনারেল ডাইনামিকসের অস্ত্র বিভাগের আয় তৃতীয় প্রান্তিকে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ইউক্রেনে পাঠানোর জন্য সাঁজোয়া যান, ট্যাংক ও আর্টিলারি তৈরি করে। কোম্পানিটির প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা জেসন আইকেন বলেছেন, ‘‌ইউক্রেনের জন্য আর্টিলারির চাহিদা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি। আমরা আমাদের মার্কিনা সেনা গ্রাহককে এগুলো সরবরাহের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করছি।’

তৃতীয় প্রান্তিকে বোয়িংয়ের প্রতিরক্ষা, মহাকাশ ও নিরাপত্তা ইউনিটের আয় হয়েছে মোট ৫৫০ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের থেকে ৩ শতাংশ বেশি। সংস্থাটি ইউক্রেনের কাছে মানুষবিহীন আকাশযান স্ক্যানঈগল ও হেলফায়ার মিসাইল সরবরাহ করেছে। এছাড়া সম্প্রতি মার্কিন বিমান বাহিনীর কাছে তাদের প্রথম টি-সেভেনএ রেড হক জেটও সরবরাহ করেছে।

আরটিএক্স জানিয়েছে, তৃতীয় প্রান্তিকে তাদের আয় বেড়েছে ১২ শতাংশ। এছাড়া ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে কোম্পানিটি প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের অর্ডার পেয়েছে। সামনের দিনগুলোয় অর্ডারের পরিমাণ আরো বাড়বে বলেও আশা করা হচ্ছে।

মার্কিন প্রতিষ্ঠান নর্থরপ গ্রুমম্যানের প্রতিরক্ষা সিস্টেম ইউনিটেরও আয় বেড়েছে। কোম্পানিটির গোলাবারুদ ও গাইডেড মাল্টিপল লঞ্চ রকেট সিস্টেমে ব্যবহৃত রকেট মোটরগুলোর চাহিদা ৬ শতাংশ বেড়েছে। আটলান্টিকজুড়ে সুইডিশ উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সাব উচ্চ চাহিদার কারণে এ সপ্তাহে তাদের বিক্রির পূর্বাভাস বাড়িয়েছে। আয় বেড়েছে জার্মানির রাইনমেটালেরও। অস্ত্র ও গোলাবারুদের বাড়তি চাহিদার কারণে কোম্পানিটির অপারেটিং মুনাফা ১৫ শতাংশ বৃদ্ধির প্রক্ষেপণ করা হয়েছে। যার আর্থিক পরিমাণ প্রায় ২০ কোটি ২০ লাখ ডলার।

এদিকে ইউক্রেনে অব্যাহত সামরিক সহায়তা পশ্চিমা দেশগুলোর জনগণের কাছে ক্রমেই অসন্তোষের কারণ হয়ে উঠছে। কয়েক মাস ধরে করা একাধিক জরিপে দেখা গেছে, মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় সংকটের মতো অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার পরিবর্তে ইউক্রেনে অস্ত্র সহায়তায় অর্থ ব্যয় করছে মিত্র দেশগুলো।