মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদহার ঊর্ধ্বমুখী রাখার নীতিতে একাট্টা বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো। ফলে দুই বছর আগে শুরু হওয়া মুদ্রানীতিতে কঠোরতার প্রবণতা সহজে থামছে না। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ সিস্টেম, ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও ব্যাংক অব ইংল্যান্ড এরই মধ্যে সুদহার ঊর্ধ্বমুখী রাখার পূর্বাভাস দিয়েছে। একই সুর প্রতিধ্বনিত হয়েছে নরওয়ে ও তুরস্ক থেকে শুরু করে এশিয়ার দেশ তাইওয়ানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্তে। মুদ্রানীতির এ কঠোরতা কোনো কোনো দেশে ২০২৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। খবর রয়টার্স।
মহামারী-পরবর্তী বিশ্বে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার বাস্তবতায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদহার বাড়ানোর নীতি গ্রহণ করে। তারপর দফায় দফায় এটি বাড়ানো হয়েছে। নিত্যপণ্যের মূল্যস্ফীতির পাশাপাশি বেড়েছে জ্বালানি তেলের মূল্য। ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের সর্বশেষ সভায় সুদহার ৫ দশমিক ২৫ শতাংশে স্থির রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। গভর্নর অ্যান্ড্রু বেইলি বলেছেন, ‘লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের আগ পর্যন্ত সুদহার ঊর্ধ্বমুখী রাখতে হবে। আর সেটা দীর্ঘ সময়ের জন্য হতে পারে।’
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সিস্টেমের নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্তও ছিল প্রায় কাছাকাছি। ১৯-২০ সেপ্টেম্বরের সভায় ফেড সুদহার ৫ দশমিক ২৫ থেকে ৫ দশমিক ৫০ শতাংশ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে সময় লেগে যাবে ২০২৬ সাল পর্যন্ত।
ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টান লেগার্দে গত সপ্তাহে বলেছেন, আগামী দিনগুলোয় সুদহার বাড়ানো হতে পারে। নরওয়ে ও সুইডেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত বৃহস্পতিবার এটি আরো এক দফা বাড়ানোর পূর্বাভাস দিয়েছে। সুইজারল্যান্ডের মূল্যস্ফীতি বর্তমানে ১ দশমিক ৬ শতাংশ। তার পরও সুদহার উঁচুতে রাখার সিদ্ধান্তে অটল দেশটি।
তুরস্কের কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূল্যস্ফীতির সমাধান হিসেবে সুদহার বাড়ানোর দিকে ঝুঁকেছে। তাইওয়ানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্তও একই। দক্ষিণ আফ্রিকার রিজার্ভ ব্যাংক সুদহার স্থির রেখেছে। তবে কর্মকর্তারা অর্থনৈতিক ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক অবস্থানে। পিপলস ব্যাংক অব চায়না দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সুদহার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত রেখেছে। বেলজিয়ামের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান পিয়েরে ওয়ানশ গত বৃহস্পতিবার ২০২১ সালের শেষদিক থেকে শুরু হওয়া মূল্যস্ফীতি মোকাবেলায় বিদ্যমান হার বাড়ানোর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।
এটা সত্য যে মূল্যস্ফীতি দেশে দেশে কমতে শুরু করেছে। কিন্তু উন্নত দেশগুলোয় এখনো তা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে যথেষ্ট ওপরে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর। চলতি বছরের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি ছিল ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। ইউরোজোনের ছিল ৫ দশমিক ২ শতাংশ। চীনের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের গতি, ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসন ও চীন-মার্কিন ভূরাজনৈতিক টানাপড়েনে এমনিতেই বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীরা উদ্বিগ্ন। এর মধ্যেই ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের প্রতিবেদন বলছে, ‘আগামী বছর ৩০টি প্রধান অর্থনীতির দেশের মধ্যে ২১টিতেই সুদহার কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে।’










