ছয় সপ্তাহের সর্বনিম্নে নামার পর ফের চাঙ্গা হয়ে উঠেছে তামার আন্তর্জাতিক বাজার। লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জে (এলএমই) গতকাল গুরুত্বপূর্ণ ধাতুটির দাম বেড়েছে। ডলারের বিনিময় হার কমে যাওয়া এর প্রধান কারণ। খবর বিজনেস রেকর্ডার।
সাম্প্রতিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার অবসান ঘটিয়ে গতকাল ডলারের বিনিমেয় হার কমেছে। এতে অন্য মুদ্রার ক্রেতাদের জন্য আগের তুলনায় সাশ্রয়ী হয়েছে তামা। এ সুযোগে ক্রয়ের পরিমাণ বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে ধাতুটির বাজারদর ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
এলএমইতে তামার তিন মাস সরবরাহ চুক্তির দাম দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি টনের মূল্য স্থির হয়েছে ৮ হাজার ৩০৫ ডলারে। অন্যদিকে সাংহাই ফিউচারস এক্সচেঞ্জে মার্চে সরবরাহ চুক্তির দাম দশমিক ৩ শতাংশ কমে ৬৭ হাজার ৭১৯ ইউয়ান বা ৯ হাজার ৪০৯ ডলার ৫২ সেন্টে নেমেছে।
এদিকে তামার সাপ্তাহিক দামে এখনো নিম্নমুখী ধারা অব্যাহত বলে জানিয়েছেন বাজার পর্যবেক্ষকরা। এলএমই ও সাংহাই এক্সচেঞ্জে টানা চতুর্থ সপ্তাহের মতো দরপতনে রয়েছে ধাতুটি। মূলত লম্বা সময় ধরে ডলারের বিনিময় হার ঊর্ধ্বমুখী থাকা এবং ফেডারেল রিজার্ভের সুদহার কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে অনিশ্চয়তা বাজার চাপ সৃষ্টি করেছে।
জলবায়ু পরিবর্তন রোধের অংশ হিসেবে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধিতে জোর দিচ্ছে বর্তমান বিশ্ব। ফলে এ খাতে অপরিহার্য ধাতু তামার চাহিদা বাড়ছে লাফিয়ে। কিন্তু বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটের কারণে এ চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে ক্রমবর্ধমান ব্যবধানের কারণে আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে দাম। দুই বছরের মধ্যে তামার বৈশ্বিক দাম ৭৫ শতাংশেরও বেশি বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বাজার পর্যবেক্ষরা।
ধাতুটিকে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক স্বাস্থ্যের অন্যতম নির্দেশক হিসেবে ধরা হয়। বৈদ্যুতিক উপকরণ ও শিল্প খাতের যন্ত্রাংশ তৈরিতে ধাতুটির ব্যবহার ব্যাপক। বর্তমানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির আভাসও তামার চাহিদা বৃদ্ধিতে বড় প্রভাব রাখছে।
ফিচ সলিউশনের গবেষণা ইউনিট বিএমআইয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে স্থানান্তর এবং চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে ডলারের সম্ভাব্য বিনিময় হার হ্রাস তামার বাজারকে ঊর্ধ্বমুখী করে তুলবে।
বিনিয়োগ ব্যাংকটি গত ডিসেম্বরে দেয়া এক পূর্বাভাসে জানায়, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ঊর্ধ্বমুখী লক্ষ্যমাত্রার কারণে ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে অতিরিক্ত ৪২ লাখ টন তামার চাহিদা তৈরি হতে পারে। এতে ২০২৫ সালের মধ্যে প্রতি টন তামার মূল্য ঠেকতে পারে ১৫ হাজার ডলারে, যা গত বছরের মার্চের রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধির চেয়ে অনেক বেশি।










