যুক্তরাষ্ট্রে অনেক আগেই বাজার হারিয়েছে চীনা গাড়ি কোম্পানিগুলো। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়ায় গাড়ি বিক্রি লাফিয়ে বেড়েছিল। এখন সেটাও কমতে শুরু করেছে। খবর রয়টার্স।
ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিমা গাড়ি কোম্পানিগুলো রাশিয়া থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নেয়। এ সুযোগে দেশটিতে চীনা গাড়ির বিক্রি ক্রমেই বাড়তে থাকে। উচ্চ আমদানি ব্যয় ও সুদহার বাড়তে শুরু করায় বাজারে সাম্প্রতিক চীনা গাড়ি বিক্রি কমেছে।
প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ইউক্রেন আক্রমণের পর মস্কোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এ কারণে পশ্চিমা কোম্পানিগুলো হঠাৎ তাদের ব্যবসা বন্ধ করে দেয়। এ সুযোগে চীনা গাড়ি কোম্পানি রাশিয়ায় ব্যবসা প্রসার ঘটায়।
এ খাতে বিক্রি ২০২২ সালে প্রায় ৬০ শতাংশ কমেছিল। এটা সোভিয়েত-পরবর্তী উৎপাদন রেকর্ডের সর্বনিম্নে। এটি এখনো ইউক্রেন আক্রমণ-পূর্ব স্তর থেকে অনেক নিচে। ২০২৩ সালে বিক্রি এবং উৎপাদন ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে।
তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণকারী অটোস্ট্যাট ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান পিপিকের বিবরণ অনুযায়ী, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেন আক্রমণের আগে চীনা গাড়ি রাশিয়ার বাজারে ১০ শতাংশেরও কম ছিল। চলতি বছরের আগস্টে চীনা ব্র্যান্ডের বিক্রি প্রায় ৫৬ শতাংশে পৌঁছেছে। এ বৃদ্ধির হার এখন সমান রেখায় অবস্থান করছে। চীনা ব্র্যান্ডগুলো আগস্ট থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৬০ হাজার ইউনিট বিক্রি করে আসছে। এটা সেপ্টেম্বরে এসে ৫৩ শতাংশে নেমেছে। এ বিক্রির মধ্যে আমদানি করা যানবাহন এবং রাশিয়ার অভ্যন্তরে তৈরি গাড়ি অন্তর্ভুক্ত।
চীনা গাড়ি নির্মাতা হাভাল ও চেরি অ্যান্ড গিলি পশ্চিমা কোম্পানির সরে যাওয়াকে পুঁজি করে রাশিয়ার বাজার দখল করেছিল। এটা মূলত বেইজিংয়ের ওপর মস্কোর ক্রমবর্ধমান নির্ভরতার প্রমাণ। এটা নির্ভরতা ক্রমে অর্থনৈতিক সম্পর্ক দৃঢ় করছে। পশ্চিমারা এখানো রাশিয়াকে এড়িয়ে চলার নীতি থেকে সরে আসেনি।
চীনা কাস্টমসের দেয়া তথ্যানুসারে, রাশিয়া ছিল চীনা গাড়ির ১১তম রফতানি বাজার। ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়া হয়েছে চীনা গাড়ির বৃহত্তম রফতানি বাজার। চলতি বছর জানুয়ারি থেকে অক্টোবরে চীন রাশিয়ার বাজারে ৯৪০ কোটি ডলার মূল্যের গাড়ি বিক্রি করেছে। গত বছরের একই সময়ে রাশিয়ায় গাড়ি রফতানির পরিমাণ ছিল ১১০ কোটি ডলার।
মার্কিন পরিসংখ্যান সংস্থা অটোস্ট্যাট প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সামগ্রিকভাবে রাশিয়ায় মাসিক গাড়ি বিক্রি এখন এক বছর আগের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি। আর রাশিয়ান পরিসংখ্যান সংস্থা রোসস্ট্যাট প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে গাড়ির উৎপাদন প্রায় তিন গুণ বেশি ছিল, যা থেকে কর্তৃপক্ষ দাবি করছে যে খাতটি ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
অটোস্ট্যাটের নির্বাহী পরিচালক সের্গেই উদালভ বলেন, ‘চীনা গাড়ি নির্মাতারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবে চাহিদা অনেকাংশে পূরণ হওয়ায় এ খাতে আরো সম্প্রসারণ এখন অনেক কঠিন।’
রাশিয়ার শীর্ষস্থানীয় গাড়ি নির্মাতা অ্যাভটোভাজ সবচেয়ে জনপ্রিয় লাডা কার তৈরি করে। এরা সস্তা গাড়ির চাহিদাও পূরণ করতে পারছে। এছাড়া চীনা ব্র্যান্ডগুলো পশ্চিমা নির্মাতাদের ব্যয়বহুল গাড়ির শূন্যতাও পূরণ করছে।
বর্তমান পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে, যদি অ্যাভটোভাজ বা চীনা গাড়ি নির্মাতারা বৈচিত্র্যময় গাড়ি তৈরি করতে পারে। আপাতত বিক্রি ও উৎপাদন মন্থর হলেও বাজার বৃদ্ধির সম্ভাবনা একেবারে কম।










