সুইজ্যারল্যান্ডের ব্যাংক ইউবিএস গ্রুপ এজি প্রথম প্রান্তিকে ৭৮৫ মিলিয়ন ডলার লোকসান করেছে। এটা ছয় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ক্রেডিট সুইস ব্যাংক সম্প্রতি ইউবিএসকে অধিগ্রহণ করায় এমনটা হয়েছে। খবর সিএনএন।
ইউবিএস সূত্র জানায়, ব্যাংকটি নতুন গ্রাহক ও সম্পদ সংগ্রহ করছে। বিশেষ করে ধনাঢ্য গ্রাহক ও তাদের সঞ্চয় সংগ্রহে ব্যাংকটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখিয়েছে।
বৈশ্বিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা ব্যবসায় ২২ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে। যা ক্রেডিট সুইসের সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগে যোগ হবে। একে ১৮ মাসের মধ্যে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।
জুরিখভিত্তিক ব্যাংকটির মুখপাত্র জানান, জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ব্যাংকটির নিট লোকসান ৭৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার। ব্যাংকটির সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগ জানায়, প্রাক-কর প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১ দশমিক শূন্য ১ বিলিয়ন ডলার, যা পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি।
ইউবিএসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সের্গিও এর্মোটি কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় আর্থিক অধিগ্রহণের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘ইউবিএস কৌশল অনুসন্ধান করছে। যাতে ১০ বিলিয়ন ডলার খরচ কমানো যায়। অধিগ্রহণের মাধ্যমে কোম্পানি পুনর্গঠন করা হচ্ছে। গত বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে বিনিয়োগকারীদের পাওয়া গেছে। আমাদের আপাতত লক্ষ্য ব্যাংকটিকে লাভজনক ব্যবসায় রূপান্তর করা।’ যদিও ব্যাংকটির অন্যান্য খাত পতনমুখী।
জুরিখে ইউবিএসের শেয়ারের সূচক গতকাল ৩ শতাংশ বেড়েছে। গত মার্চে ক্রেডিট সুইচ এ ব্যাংক অধিগ্রহণের ঘোষণা দেয়ার পর এটা সর্বোচ্চ।
গতকাল ইউবিএস একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, সম্পদ ব্যবস্থাপনা শাখা, ব্যক্তিগত ও করপোরেট ব্যবসায় নতুন আমানত সংগ্রহ করা হয়েছে ৩৩ বিলিয়ন ডলার। ২০২২ সালে নিজস্ব মালিকানায় থাকার সময় তৃতীয় প্রান্তিকে রাজস্ব ছিল ৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার, যা চলতি প্রান্তিকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে। বর্তমান ব্যয় ১১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার, যা তৃতীয় প্রান্তিকে ছিল ৫ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার।
ইউবিএসের কর্মী ছাঁটাই, পাওনা পরিশোধ ও কয়েকজনকে বহাল রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। দুটো প্রতিষ্ঠানকে একীভূত করার ব্যয় ২ বিলিয়ন ডলার। কর্মী ছাঁটাই ও বহাল রাখা খাতে ব্যয় ১ বিলিয়ন ডলার। উচ্চ বেতন ও নানা ক্ষতিপূরণে ব্যয় ২ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন। সব মিলিয়ে কর্মীদের পেছনে ব্যয় হবে ৭ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন ডলার।
ক্রেডিট সুইচ ব্যাংকের নির্বাচিত কর্মীরা পাবেন ৫০ কোটি ডলার। এর অর্ধেক নগদ ও বাকি অর্ধেক শেয়ারের মাধ্যমে পরিশোধ করা হবে। জুনে কর্মী সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ১১৯। এ সংখ্যা দাঁড়াবে ১ লাখ ১৫ হাজার ৯৮১। আয়-ব্যয়ের তুলনামূলক হার ৯৯ দশমিক ৬ শতাংশ। ২০২২ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে এটা ছিল ৭১ দশমিক ৮ শতাংশ।










