ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে চিনির দাম ৮ থেকে ৯ শতাংশ বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে রেটিং এজেন্সি ক্রাইসিল। ফলে ২০১৯-২০ অর্থবছরে কেজিপ্রতি ৩২-৩৩ রুপি দরে বিক্রি হতে পারে চিনি। আখ আবাদের পরিমাণ কমে যাওয়ার পাশাপাশি বাফার স্টক ১০ লাখ টন বাড়ানোর সরকারি ঘোষণার কারণে বাজারে এমন প্রভাব পড়বে বলে মনে করছে ক্রাইসিল। তবে এমন পূর্বাভাসের সঙ্গে দ্বিমত করেছেন ব্যবসায়ীরা। খবর ইকোনমিক টাইমস।
ক্রাইসিলের গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের মৌসুমে আখের আবাদ ৯-১০ শতাংশ কমে যেতে পারে। কারণ অপেক্ষাকৃত কম জমিতে আখ আবাদ এবং আখ চাষের প্রধান এলাকাগুলোয় দেরিতে বৃষ্টিপাতের কারণে ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ পরিস্থিতির কারণেই চলতি বছর চিনির দাম ৮-৯ শতাংশ বেড়ে ৩২-৩৩ রুপি কেজিতে বিক্রি হতে পারে। সেই সঙ্গে বাফার স্টক আরো ১০ লাখ টন বাড়ানোর কথা বলেছে সরকার। এ কারণেই আগের ৫-৬ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির পূর্বাভাস সংশোধন করে ৩ শতাংশ বাড়িয়েছে ক্রাইসিল।
তবে ব্যবসায়ীরা ক্রাইসিলের গবেষণার সঙ্গে একমত হতে পারছেন না। বম্বে সুপার মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অশোক জৈন বলছেন, আমরা মনে করি না চিনির দাম বেড়ে ৩৩ রুপি কেজিতে চলে যাবে। কারণ আমাদের যথেষ্ট মজুদ রয়েছে। তবে আগামী মৌসুমে দাম বেড়ে ৩২ রুপি হতে পারে।
এদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থনীতিবিষয়ক মন্ত্রিপরিষদ কমিটি এক বছরে বাফার স্টক ১০ লাখ বাড়িয়ে ৪০ লাখ টন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত জুলাইয়ের এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মজুদ বাবদ সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬৭৪ কোটি রুপি বরাদ্দ রাখার কথা বলা হয়েছে।
এ স্কিমের আওতায় সরকার কৃষকদের কাছে সরাসরি টাকা পাঠাবে চিনিকলগুলোর মাধ্যমে। চিনির মূল্য স্থিতিশীল রাখতেই এ ব্যবস্থা। পাশাপাশি ২০২০ সালের মৌসুমে চিনির দাম কুইন্টালপ্রতি ২৭৫ রুপিতেই রাখা হয়েছে।
ক্রাইসিলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের বসন্ত/গ্রীষ্ম মৌসুম শুরু হবে ১ কোটি ২০ লাখ টনের মজুদ নিয়ে। যেখানে আগের পাঁচ বছর মৌসুম শুরু হতো ৭০ থেকে ৮০ লাখ টনের মজুদ নিয়ে। সরকারের ৪০ লাখ টন বাফার স্টক ঘোষণার ফলে খোলাবাজারে চিনির প্রাপ্যতা ৮০ লাখ টনে নেমে যেতে পারে। ফলে চিনির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। পাশাপাশি চিনিকলগুলোতেও মজুদ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।










