চলতি বছর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের গড় দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৪ ডলারে অবস্থান করবে। আগামী বছর বাজার আদর্শটির গড় দাম দাঁড়াবে ৯৪ ডলারে। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইআইএ)।

ইআইএ জুলাই শর্ট-টার্ম এনার্জি আউটলুট শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে জানায়, চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের পাশাপাশি অনেক বিষয় জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। সহসাই এ অনিশ্চয়তা কাটার সম্ভাবনা নেই। পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার কারণে এরই মধ্যে রাশিয়ার জ্বালানি তেল উত্তোলনে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়েও। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র যে হারে জ্বালানি তেল ও গ্যাস উত্তোলন করে তার গতিপথ নিয়েও দোদুল্যমান পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। রফতানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেক প্লাস নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে উত্তোলন বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে নিয়মিতভাবে ব্যর্থ হচ্ছে। উত্তোলন আরো বাড়ানো হবে নাকি বিদ্যমান উত্তোলন নীতিতেই অটুট থাকবে সেটিও নিয়েও সংশয় রয়েছে।

ইআইএর দেয়া তথ্যমতে, চলতি বছর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক মজুদ দৈনিক আট লাখ ব্যারেল করে বাড়তে পারে। আগামী বছর মজুদ বৃদ্ধির হার অপরিবর্তিত থাকবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলতি বছর তরল জ্বালানি ব্যবহার দৈনিক ২২ লাখ ব্যারেল করে বাড়বে বলে আমরা প্রত্যাশা করছি। আগামী বছর ব্যবহার বৃদ্ধির পরিমাণ দাঁড়াবে দৈনিক ২০ লাখ ব্যারেল।

সংস্থাটি আরো জানায়, চলতি বছর ওপেকের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন দৈনিক ২৪ লাখ ব্যারেল করে বাড়বে। দৈনিক উত্তোলনের পরিমাণ দাঁড়াবে ২ কোটি ৮৭ লাখ ব্যারেলে। আগামী বছর দৈনিক উত্তোলন আরো বেড়ে ২ কোটি ৯৩ লাখ ব্যারেলে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির (আইইএ) এক প্রতিবেদনে দেখা গিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে গত জুনে বেড়েছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহ। কৃষ্ণ সাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধের ডামাডোলের মধ্যেও সরবরাহ বাড়ায় পণ্যটির দাম স্থিতিশীল। সংস্থাটি বলছে, পশ্চিমা দেশগুলো একের পর এক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও রাশিয়ায় জ্বালানি তেল উত্তোলন ও সরবরাহ স্থিতিশীল। এটি বৈশ্বিক সরবরাহ বাড়াতে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে। পাশাপাশি যেসব দেশে উত্তোলন কার্যক্রম জটিলতা ও রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছে, সেসব দেশে সৃষ্ট ঘাটতি লাঘবেও সহায়তা করছে রাশিয়া। আইইএর দেয়া তথ্যানুযায়ী, গত মাসে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক সরবরাহ দৈনিক ৬ লাখ ৯০ হাজার ব্যারেল করে বেড়েছে। দৈনিক সরবরাহের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯ কোটি ৯৫ লাখ ব্যারেলে।

আইইএর বিশ্লেষণে দেখা গিয়েছে, রক্ষণাবেক্ষণজনিত কারণে জুনে কাজাখস্তানসহ ক্ষুদ্র উত্তোলক দেশগুলোয় জ্বালানি তেলের প্রবাহ ব্যাপক কমেছে। এসব দেশের কারণে সরবরাহে ঘাটতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। তবে কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ায় জ্বালানি তেলের প্রবাহ অবিশ্বাস্য রকম বেড়েছে, যা প্রত্যাশিত ঘাটতিতে ভারসাম্য এনেছে। আইইএর পূর্বাভাস বলছে, চলতি বছরের জুন-ডিসেম্বর পর্যন্ত অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক উত্তোলন দৈনিক ১৮ লাখ ব্যারেল করে বাড়বে। উত্তোলনের পরিমাণ দাঁড়াবে দৈনিক ১০ কোটি ১৩ লাখ ব্যারেলে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ বছরের দ্বিতীয়ার্ধে রাশিয়ার উত্তোলন কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু এ সময় লিবিয়া, কাজাখস্তান ও উপসাগরীয় উত্তোলক দেশগুলোর উত্তোলন পরিস্থিতিতে ভারসাম্য নিয়ে আসবে।

এদিকে চলতি বছরের জন্য জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদা প্রাক্কলন নতুন করে পর্যালোচনা করেছে। এতে চাহিদা পূর্বাভাস কমানো হয়েছে। গড় চাহিদার পরিমাণ ধরা হয়েছে দৈনিক ৯ কোটি ৯২ লাখ ব্যারেল। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার আভাস এবং জ্বালানি পণ্যের উচ্চমূল্য অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদায় নিম্নমুখী চাপ তৈরি করেছে। তবে বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানি তেলের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং চীনে বাজার পুনরুদ্ধার পরিস্থিতিতে আংশিক ভারসাম্য আনতে পারে।