ভারতে আগস্টের প্রথমদিকে সবজির বাজার ঊর্ধ্বমুখী ছিল। দেশটিতে এখনো সরবরাহ সংকট শেষ হয়নি। এ ধারা চলমান থাকলে মূল্যস্ফীতির গড় দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৬ শতাংশের বেশি থাকবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সম্প্রতি এক নিবন্ধে আরবিআই এ সতর্কবার্তা দেয়। খবর দ্য হিন্দু। 

ডেপুটি গভর্নর মাইকেল দেবব্রত পাত্রের নেতৃত্বে কর্মকর্তারা আগস্টের অর্থনীতির অবস্থা নিবন্ধে উল্লেখ করে জানান, বছরের দ্বিতীয়ার্ধে এল নিনোর প্রভাব পড়ে এবং রবি মৌসুমে খাদ্য মূল্যস্ফীতির কারণ হয়। এছাড়া আরেকটি ঝুঁকি হলো ওপেক প্লাসের অপরিশোধিত তেল উত্তোলন কমিয়ে আনার ঘোষণা। যার ফলে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যেতে পারে।

তিনি বলেন, ‘অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্যের চাপ বছরের বাকি সময়ে হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ ধরনের পূর্বাভাস ভারতের মতো নেট জ্বালানি আমদানিকারকদের জন্য ক্ষতিকর।’ 

সম্প্রতি এনএসও প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, দেশটির খুচরা মূল্যস্ফীতি জুলাই মাসে ৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ ছিল । যা গত ১৫ মাসে সর্বোচ্চ বলে ধারণা করা হয়েছে। গত সপ্তাহে আরবিআইয়ের মূল্য নীতি কমিটি বর্তমান জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে গড় ৬ দশমিক ২ শতাংশ মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস দিয়েছে।

তারা জানায়, জুনে মূল্যস্ফীতির বৃদ্ধি জুলাইয়ে পরিবর্তিত হয়েছে, টমেটোর দামের অতিরিক্ত ধাক্কার সঙ্গে অন্যান্য সবজির দাম বেড়েছে। আরবিআই কর্মকর্তারা জানান, মূল্যস্ফীতি ক্রমাগত বাড়ছে। বিদ্যুতের দাম বেড়েছে ৪ দশমিক ৩ শতাংশ। তবে মূল মূল্যস্ফীতি জুলাইয়ে কমেছে।

ভবিষ্যতে এ ধরনের দামের ধাক্কা এড়াতে সরবরাহ ও সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। তারা বলেন, ‘ভোক্তাদের জন্য স্থিতিশীল মূল্য, নিশ্চিত সরবরাহ এবং কৃষকদের জন্য লাভজনক আয়ের ব্যবস্থা করতে হবে এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঘটনায় যাতে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বাড়তে না পারে।’

আর্থিক নীতি ও সরবরাহ বৃদ্ধির ব্যবস্থা দ্বারা প্রয়োগকৃত চাহিদা সংযম অর্থনীতিতে মূল্যের চাপকে যথেষ্ট পরিমাণে অফসেট করছে বলে জোর দিয়ে কর্মকর্তারা বলেন, এ নীতির প্রতিক্রিয়ার অনুপস্থিতিতে মুদ্রাস্ফীতির দৃষ্টিভঙ্গি আরো বেশি প্রতিকূল হবে। তারা আরো বলেন, পরিবারগুলো আশা করে যে আগামী বছর মূল্যস্ফীতি কমবে। দাম পরিস্থিতির বিষয়ে ভোক্তা আস্থা সমীক্ষার সর্বশেষ যাচাইয়েও এটি প্রতিফলিত হয়েছে।