ইউক্রেনের কৃষ্ণ সাগরীয় বন্দরগুলো পুনরায় চালু করতে রাশিয়ার সঙ্গে দেশটির একটি চুক্তি হয়েছে। এ চুক্তির পর পরই আন্তর্জাতিক বাজারে গমের দাম ব্যাপক কমেছে। গত শুক্রবার শস্যটির দাম প্রায় ৬ শতাংশ কমে যায়, যা পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। খবর নাসডাক।
এদিকে বন্দর চালু হওয়ার খবরে ভুট্টার দাম কমেছে ২ শতাংশ। তবে সয়াবিনের দাম ঊর্ধ্বমুখীই রয়েছে। কয়েক মাস অব্যাহত কমার পর তেলবীজটির দাম ধীরে ধীরে বাড়ছে।
শুক্রবার শিকাগো বোর্ড অব ট্রেডে (সিবিওটি) প্রতি বুশেল গম বিক্রি হয়েছে ৭ ডলার ৫৯ সেন্টে। কার্যদিবসের শুরুতে শস্যটির দাম ৭ ডলার ৫৪ সেন্ট পর্যন্ত নেমেছিল, যা গত ফেব্রুয়ারির পর সর্বনিম্ন। একদিনের ব্যবধানে দাম প্রায় ৪৭ সেন্ট কমেছে।
অন্যদিকে ডিসেম্বরে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি বুশেল ভুট্টা লেনদেন হয়েছে ৫ ডলার ৬৪ সেন্টে। একদিনের ব্যবধানে দাম ৯ সেন্ট কমেছে। তবে নভেম্বরে সরবরাহ চুক্তিতে সয়াবিনের দাম ১৪ সেন্ট বেড়েছে। প্রতি বুশেল ১৩ ডলার ১৫ সেন্টে বিক্রি হয়েছে। এর আগের কার্যদিবসে সয়াবিনের দাম কমে ১২ ডলার ৮৮ সেন্টে নেমে গিয়েছিল, যা ছয় মাসের সর্বনিম্ন।
জানা গেছে, কৃষ্ণ সাগরীয় বন্দর চালু করতে দুই মাস ধরে চেষ্টা চালাচ্ছিল জাতিসংঘ ও তুরস্ক। অবশেষে শুক্রবার রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চুক্তি এ প্রচেষ্টায় সফলতা এনেছে। এর মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক খাদ্য সংকট লাঘব হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেস বলেন, এ চুক্তি ইউক্রেনের প্রধান তিন বন্দর ওডেসা, চারনোমোর্স্ক এবং উজনি বন্দর দিয়ে বাণিজ্যিকভাবে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ খাদ্য রফতানির পথ খুলে দিয়েছে।
ইউক্রেন ও রাশিয়া বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ দুই খাদ্যশস্য রফতানিকারক দেশ। চুক্তির ফলে শুধু ইউক্রেন নয়, রাশিয়ার খাদ্যশস্য রফতানি বাড়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
এদিকে দাম কমলেও মার্কিন গমের রফতানি চাহিদা কমেছে। ফলে সেপ্টেম্বরে সরবরাহ চুক্তিতে সিবিওটিতে প্রতি বুশেল মার্কিন গমের দাম ৪১ শতাংশ কমেছে।










