দেশের ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তথ্য বর্তমানে বহির্বিশ্বের বিভিন্ন কোম্পানির ডাটা সেন্টারে সংরক্ষিত হচ্ছে। দেশের তথ্যের গন্তব্য দেশেই করতে হবে। এজন্য ডাটা সেন্টার তৈরি, নিজস্ব ক্লাউড ব্যবস্থাপনা ও সাইবার খাতে দক্ষতাকে গুরুত্ব দিতে হবে। তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং স্থানীয়করণের জন্য আগামীতে বড় বিনিয়োগ করতে হবে। রাজধানীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে গতকাল আয়োজিত এক সেমিনারে এসব কথা বলেন বক্তারা। ‘স্মার্ট বাংলাদেশে সাইবার নিরাপত্তা: ডাটা সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামোর (সিআইআই) ভূমিকা’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে বাংলাদেশ ডাটা সেন্টার কোম্পানি লিমিটেড (বিডিসিসিএল), ডিজিটাল সিকিউরিটি এজেন্সি ও জেননেক্সট টেকনোলজি। গাজীপুরের কালিয়াকৈরে প্রতিষ্ঠিত সরকারের ফোর টায়ার ডাটা সেন্টারে নতুনভাবে গঠিত মেঘনা ক্লাউড সম্পর্কে অংশীজনদের জানাতে এবং তথ্যের সুরক্ষায় সিআইআইয়ের গুরুত্ব তুলে ধরতে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. সামসুল আরেফিন বলেন, ‘আমরা সামনের দিনে স্মার্ট ইকোনমি ও স্মার্ট সরকারের প্রতি গুরুত্ব দিচ্ছি। স্মার্ট সরকারের জন্য পেপারলেস কাজ এবং স্মার্ট ইকোনমির জন্য ক্যাশলেস ব্যবস্থার প্রবর্তন করতে হবে। এগুলোর সব তথ্যই থাকবে ডাটা সেন্টারে। এনআইডি, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্সের ডাটাও থাকবে ডাটা সেন্টারে। এ দুটো ডাটা আমরা যেখানেই রাখি না কেন, সেখানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। নিরাপত্তা দিতে না পারলে এসব ডাটা আমাদের বিরুদ্ধে কাজ করবে।’
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনে জেননেক্সট টেকনোলজি লিমিটেডের প্রধান পরিচালনা কর্মকর্তা মো. সাইফ রহমান বলেন, ‘২১ দশমিক ৫ পেটাবাইট তথ্য ফেসবুকে চলে যাচ্ছে। বহির্বিশ্বে ফেসবুকের ডাটা সেন্টারে সেগুলো সংরক্ষিত থাকছে। বাংলাদেশে ইউটিউবের ২৭৫টিরও বেশি ক্যাশ সার্ভার আছে৷। এসব সার্ভার বিদেশ থেকে ডাটা নিয়ে আসছে। ডাটার লোকালাইজেশন এখন অনেক বড় বিষয় হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বাংলাদেশে আইসিটি কোম্পানিগুলোর মধ্যে সাইবার সিকিউরিটি স্পেশালাইজেশন নেই। স্থানীয়ভাবে সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞ তৈরির সময় এখন। আমাদের পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ বড় প্রকল্পগুলোয় গণহারে ডাটার প্রয়োজন হবে। এজন্য দেশে বড় আকারের ডিজিটাল অবকাঠামো প্রস্তুত করতে হবে৷। এ অবকাঠামোর জন্য ফোর টায়ার ডাটা সেন্টার তৈরি করা হয়েছে।’
বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) নির্বাহী পরিচালক রণজিৎ কুমার বলেন, ‘পৃথিবীর অনেক দেশেই টেলকো কোম্পানিগুলো অনেক বেশি অবকাঠামো তৈরি করে না।৷এজন্য যৌথভাবে অবকাঠামো তৈরি করা হয়, সবাই সেটা একসঙ্গে ব্যবহার করে। আমাদের অনেক বেশি অবকাঠামো তৈরির কোনো প্রয়োজন নেই। অনেক ছোট ডাটা সেন্টার হচ্ছে, সেগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা খুবই দুরূহ ব্যাপার। প্রধানমন্ত্রী স্বপ্ন দেখেছেন এবং ফোর টায়ার ডাটা সেন্টার তৈরি করে দেখিয়েছেন। সেটা এখন একটা প্রজেক্ট থেকে কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে। আগামীতে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে এবং তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।’
বিডিসিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আতাউর রহমান খান বলেন, ‘তথ্য পরিষেবাকে আরো বেশি সুদৃঢ় এবং প্রচার-প্রসারের জন্য জেননেক্সট টেকনোলজিসের সঙ্গে যৌথভাবে ক্লাউডের উদ্যোগ নিয়েছি। মেঘনা ক্লাউড একটি সরকারি ক্লাউড। এ ক্লাউড সরকারি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে যৌথভাবে সেবা দেবে।’
ডিজিটাল নিরাপত্তা এজেন্সির (ডিএসএ) মহাপরিচালক আবু সাঈদ মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘সিআইআইর প্রতিনিধিদের নিয়ে এ পর্যন্ত পাঁচটি সভা করেছি। তাদের কাছ থেকে একটি তথ্য চেয়েছি। প্রতিষ্ঠানগুলোর কী আছে, কী নেই এবং কী প্রয়োজন সেসব তথ্য অনেকবার চেয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত ১০টি প্রতিষ্ঠান থেকে এসব তথ্য আমি পাইনি। শুধু সভা-সেমিনার করে লাভ নেই।৷ নিরাপত্তার বিষয়ে আমাদের আরো সজাগ হতে হবে।’
সেমিনারে আরো বক্তব্য দেন জেননেক্সট টেকনোলজিস লিমিটেডের চেয়ারম্যান তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরীসহ আরো অনেকে।










