পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রকৌশল খাতের কোম্পানি রানার অটোমোবাইলস পিএলসি সর্বশেষ ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরে লোকসান গুনেছে। আগের হিসাব বছরে মুনাফায় ছিল কোম্পানিটি। লোকসানের কারণে আলোচ্য হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি রানার অটোমোবাইলস। স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। 

তথ্য অনুসারে, কোম্পানিটির গাড়ি বিক্রি কমে যাওয়ায় প্রায় ৮৮ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে মুনাফা হয়েছিল ২৭ কোটি টাকারও বেশি।

নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরে রানার অটোমোবাইলসের শেয়ারপ্রতি সমন্বিত লোকসান হয়েছে ৭ টাকা ৭৫ পয়সা। আগের হিসাব বছরে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ২ টাকা ৪০ পয়সা। গত ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির সমন্বিত নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৬২ টাকা ৬২ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৬৬ টাকা ৫০ পয়সা। ঘোষিত লভ্যাংশ ও অন্যান্য এজেন্ডায় বিনিয়োগকারীদের অনুমোদন নিতে আগামী ২১ ডিসেম্বর বেলা সাড়ে ১১টায় ডিজিটাল প্লাটফর্মে বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আহ্বান করা হয়েছে। এ-সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১৯ নভেম্বর।

সমাপ্ত ২০২২ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য মোট ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশের সুপারিশ করেছিল রানার অটোমোবাইলসের পরিচালনা পর্ষদ। সমাপ্ত ২০২১ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে রানার অটোমোবাইলস। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির সমন্বিত ইপিএস ছিল ২ টাকা ৭০ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১ টাকা ৯৭ পয়সা। সমন্বিত এনএভিপিএস দাঁড়ায় ৬৫ টাকা ১৬ পয়সায়।

সর্বশেষ ক্রেডিট রেটিং অনুসারে, রানার অটোমোবাইলসের ঋণমান দীর্ঘমেয়াদে ‘এ ওয়ান’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-থ্রি’। ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২১-২২ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক ঋণ ও রেটিং প্রকাশের দিন পর্যন্ত কোম্পানিটির অন্যান্য প্রাসঙ্গিক গুণগত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এ প্রত্যয়ন করেছে ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি অব বাংলাদেশ (সিআরএবি)।

২০১৯ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ২০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১১৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৪৩৮ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১১ কোটি ৩৫ লাখ ৩৯ হাজার ৯৩২। এর মধ্যে ৪১ দশমিক ২৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৩৫ দশমিক ৪৫ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীর হাতে বাকি ২৩ দশমিক ৩২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

ডিএসইতে গত এক বছরে কোম্পানিটির শেয়ারের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ দর ছিল যথাক্রমে ৪৮ টাকা ৪০ ও ৪৮ টাকা ৬০ পয়সা।