আন্তর্জাতিক বাজারে কমতে শুরু করেছে তুলার দাম। এ ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার কার্যদিবস শেষে ইন্টারকন্টিনেন্টাল এক্সচেঞ্জে (আইসিই) পণ্যটির দাম আগের দিনের তুলনায় ১ শতাংশের বেশি কমে গেছে। মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চলতি মৌসুমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান তুলা উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোয় কৃষি পণ্যটির ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে উৎপাদনের তুলনায় চাহিদায় মন্দা ভাব বজায় থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যটির দাম কমতির দিকে রয়েছে। খবর বিজনেস রেকর্ডার।
আইসিইতে মঙ্গলবার কার্যদিবসে ডিসেম্বরে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি পাউন্ড তুলার দাম দশমিক ৮৫ সেন্ট বা ১ দশমিক ৩২ শতাংশ কমে ৬৩ দশমিক ৩৬ সেন্টে বেচাকেনা হয়। চলতি মৌসুমের জুলাই মাসের পর আইসিইতে ডিসেম্বরে সরবরাহ চুক্তিতে এটাই তুলার সর্বনিম্ন দাম।
ইউএসডিএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি মৌসুমে যুক্তরাষ্ট্রে চাষাবাদ হওয়া মোট তুলার ৬১ শতাংশ বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে, যা প্রতিষ্ঠানটির গত সপ্তাহে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তুলনায় ১ শতাংশ বেশি। মৌসুমের শুরুতে ২০১৯-২০ মৌসুমে সব মিলিয়ে
যুক্তরাষ্ট্রে ২ কোটি ২৫ লাখ বেল (প্রতি বেলে ৪৮০ পাউন্ড) তুলা উৎপাদনের প্রাক্কলন করেছিল ইউএসডিএ। তবে খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশটিতে তুলা উৎপাদনের পরিমাণ ইউএসডিএর পূর্বাভাসকে ছাড়িয়ে যেতে পারে।
টেনেসি রাজ্যের একজন তুলা ব্যবসায়ী বলেন, এবারের মৌসুমে যুক্তরাষ্ট্রে তুলা উৎপাদনের সম্ভাবনা আগের কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চে পৌঁছবে। এমনকি চলতি মৌসুমে দেশটিতে কৃষিপণ্যটির উৎপাদন ইউএসডিএর প্রাক্কলনকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। প্রতিষ্ঠানটির পূর্বাভাসের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে কমপক্ষে ১০ লাখ বেল বেশি তুলা উৎপাদন হবে বলে জানান তিনি।
চলতি ও আগামী মৌসুমে যুক্তরাষ্ট্রে তুলা উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। এতে খাতসংশ্লিষ্টরা বাড়তি তুলা নিয়ে বিপাকে পড়তে পারেন। কেননা উৎপাদন বাড়লেও তুলার চাহিদা কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে বাড়ছে না। এদিকে, চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে চীনের বাজারে তুলা রফতানি করা মার্কিন রফতানিকারকদের জন্য কষ্টকর হয়ে পড়ছে। আগামী দিনগুলোয় এ পরিস্থিতি তুলার বাজারে বিদ্যমান মন্দা ভাবকে আরো জোরদার করতে পারে।
তবে দুই দেশের মধ্য চলমান চলমান বাণিজ্যযুদ্ধ নিরসনে আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিনিধি দলের চীন সফরের কথা রয়েছে। এই সফরের আগে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে বাড়তি ২৫ শতাংশ শুল্ক ছাড়াই ৫০ হাজার টন তুলা আমদানির অনুমতি দিয়েছে চীন।
মিসিসিপির ক্লিভল্যান্ডের তুলা ব্যবসায়ী রজার্স ভারনার জানান, এবার মৌসুমে যুক্তরাষ্ট্রে তুলা উৎপাদনে চাঙ্গা ভাব বজায় থাকলেও পণ্যটির বৈশ্বিক চাহিদা কমতির দিকে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে কৃষিপণ্যটির দাম কমে যাচ্ছে। আগস্টের কৃষিবিষয়ক প্রতিবেদন পাওয়ার আগ পর্যন্ত তুলার দামে মন্দা ভাব অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
এদিকে এবারের মৌসুম শেষে যুক্তরাষ্ট্রে তুলার সমাপনী মজুদ বেড়ে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ইউএসডিএ। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ২৯ জুলাই পর্যন্ত দেশটিতে কৃষিপণ্যটির মজুদ দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ৫২২ বেল, যা আগের মৌমুমের একই সময়ের মতোই। তবে মৌসুম শেষে যুক্তরাষ্ট্রে তুলার সমাপনী মজুদ বর্তমানের তুলনায় ৩ লাখ ৫০ হাজার বেল বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মূলত অভ্যন্তরীণ চাহিদায় মন্দা ভাব ও রফতানি বাজার প্রত্যাশার তুলনায় চাঙ্গা হতে না পারায় দেশটিতে তুলার মজুদ ক্রমে বাড়তে শুরু করেছে।










