অস্ট্রেলিয়ার তাপীয় কয়লার বাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। সরবরাহ সংকটের কারণে জ্বালানি পণ্যটির দাম নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। মূলত করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রনের ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ ও অতিবৃষ্টির কারণে সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। খবর এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল প্ল্যাটস।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইন্দোনেশিয়া কয়লা রফতানি নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার পর অস্ট্রেলিয়ান তাপীয় কয়লার দাম কমে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। অস্ট্রেলিয়ান কয়লার ওপর থেকে বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনের চাপ কিছুটা কমার প্রত্যাশাও ছিল। কিন্তু করোনা ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে দাম উল্টো বেড়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অদূরভবিষ্যতেও এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকবে।

সূত্র জানায়, আর্দ্র আবহাওয়া ও ওমিক্রনের কারণে খনিগুলোয় জ্বালানি পণ্যটির উত্তোলন কমেছে। অন্যদিকে নিউক্যাসলের বন্দরগুলোয় কয়লা জাহাজ বোঝাই করতে বিলম্ব হচ্ছে। ইন্দোনেশিয়াভিত্তিক এক ব্যবসায়ী জানান, অতিবৃষ্টি ও খনিগুলোয় করোনা সংক্রমণের কারণে সরবরাহজনিত জটিলতা তৈরি হয়েছে। এ কারণে বন্দরে জাহাজ জটও দেখা দিয়েছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, অস্ট্রেলিয়ার কয়লা ব্যবসায়ীরা দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির লক্ষ্যে জাপানের সঙ্গে দরকষাকষি করছে। এদিকে ঊর্ধ্বমুখী চাহিদার কারণে পণ্যটির দাম বেড়েই চলেছে। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল প্ল্যাটস জানায়, চলতি বছর জানুয়ারিতে কয়লা রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ইন্দোনেশিয়া। কারণ দেশটিতে জ্বালানি পণ্যটির মজুদ আশঙ্কাজনক হারে কমে গিয়েছিল। এতে বিদ্যুৎ সংকটের উদ্বেগ দেখা দেয়। স্থানীয় বাজারে সরবরাহ বাড়াতেই এমন সিদ্ধান্ত নেয় দেশটির সরকার। এ কারণে অস্ট্রেলিয়ান কয়লার চাহিদা বাড়তে শুরু করে।

সর্বশেষ ২৭ জানুয়ারি ফ্রি অন বোর্ড (এফওবি) চুক্তিতে প্রতি টন অস্ট্রেলিয়ান তাপীয় কয়লার দাম ১৪০ ডলারে স্থির হয়েছে। ৩১ ডিসেম্বর দাম ছিল ১০৩ ডলার ৫০ সেন্ট। বিশেষজ্ঞরা জানান, অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে রসদ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। নিউক্যাসলের বন্দরগুলোয় কয়লা বোঝাইয়ে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে কয়লা বোঝাই করতে ৬-২২ দিন দেরি হচ্ছে। এদিকে ছুটির কারণে জনবলও কম। এসব বিষয় দাম বাড়াতে সহায়তা করছে।

বর্তমানে বিশ্বের কোথাও স্পট মার্কেটে কয়লার সরবরাহ নেই। এ কারণে স্পট মার্কেটে কয়লার দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। অস্ট্রেলিয়ান ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকস জানায়, বিদায়ী বছরের ১০ মাসে অস্ট্রেলিয়া ১৬ কোটি ৭৪ লাখ টন তাপীয় কয়লা রফতানি করেছে। ২০২০ সালে রফতানির পরিমাণ ছিল ১৬ কোটি ৮১ লাখ টন। ২০২২-২৩ অর্থবছরে রফতানি ২১ কোটি ২০ লাখ টনে পৌঁছতে পারে। ২০২০-২১ অর্থবছর রফতানির পরিমাণ ছিল ১৯ কোটি ২০ লাখ টন।