বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি থাকার পরও ঝুঁকি মুক্ত হয়নি। মূল্যস্ফীতি কমে আসতে থাকলেও এখনো প্রতিবন্ধকতা রয়ে গেছে। সম্প্রতি ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। প্রকাশিত প্রতিবেদনে এমনটাই জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। খবর সিএনবিসি।
কভিড-১৯ আনুষ্ঠানিকভাবেই সমাপ্ত হয়েছে। বিপর্যস্ত সরবরাহ চেইন পুনরায় ফিরেছে মহামারীপূর্ব পরিস্থিতিতে। বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি যথেষ্ট শক্তিশালী হলেও সূচক নিম্নমুখী। আইএমএফ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসকে বাড়িয়ে ৩ শতাংশে স্থির করেছে। যদিও ২০২২ সালে প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। আইএমএফের দাবি অনুযায়ী, ২০২৪ সালেও অর্থনীতি সমান গতিতে সামনে চলবে। আইএমএফের প্রধান পিয়েরে অলিভিয়ার গুরিনচাস দাবি করেছেন, এখনই উদযাপনের সময় আসেনি। যথেষ্ট ঝুঁকির আশঙ্কা রয়ে গেছে অর্থনীতির ওপর।
প্রবৃদ্ধির হার এখন তুলনামূলক মন্থর। উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশগুলোয় চলতি বছরে প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ শতাংশ থাকবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমএফ। যদিও উন্নত বিশ্বে ২০২২ সালে প্রবৃদ্ধি ছিল ২ দশমিক ৭ শতাংশ। ২০২৪ সালে এ হার ১ দশমিক ৪ শতাংশে থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে। ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস রাখা হয়েছে ১ দশমিক ৮ শতাংশ। কিছুদিন আগের পূর্বাভাসে যাকে ১ দশমিক ৬ শতাংশ রাখা হয়েছিল। গত বছরে প্রবৃদ্ধি ছিল ২ দশমিক ১ শতাংশ। ২০২৪ সালে প্রবৃদ্ধি ১ শতাংশ বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। ইউরোপীয় দেশগুলো বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে। জ্বালানির মূল্য বেড়ে গেছে। মূল্যস্ফীতি উঠেছে রেকর্ড উচ্চতায়।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের বার্ষিক মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ২ শতাংশে উন্নীত হয় ২০২২ সালে। অথচ ২০২১ সালে মূল্যস্ফীতি ছিল ২ দশমিক ৯ শতাংশ। ইউরোপের বৃহৎ অর্থনীতির দেশ জার্মানি। দেশটির অর্থনীতি চলতি বছরে দশমিক ৩ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। এদিকে উদীয়মান বাজার ও উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশগুলোয় প্রবৃদ্ধির হার ৪ শতাংশ থাকার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। ২০২৪ সালে প্রবৃদ্ধির হার ৪ দশমিক ১ শতাংশে দাঁড়াতে পারে।
চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২০২৩ সালে ৫ দশমিক ২ শতাংশে অপরিবর্তিত থাকবে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। ২০২২ সালে প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ শতাংশ। ২০২৪ সালের প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৫ শতাংশে থাকতে পারে। ২০২২ সালে যুক্তরাজ্যকে পেছনে ফেলে বিশ্বের পঞ্চম বৃহৎ অর্থনীতির দেশে পরিণত হয়েছে ভারত। চলতি বছরে দেশটির প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে ৬ দশমিক ১ শতাংশ, যা এর আগের দেয়া পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি। ২০২৪ সালে দেশটির প্রবৃদ্ধি পৌঁছতে পারে ৬ দশমিক ৩ শতাংশে।
মধ্যপ্রাচ্য ও মধ্য এশিয়ার প্রবৃদ্ধি কমে ২ দশমিক ৫ শতাংশে দাঁড়াতে পারে। ২০২২ সালে প্রবৃদ্ধি ছিল ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। ২০২৪ সালে প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়াতে পারে ৩ দশমিক ২ শতাংশ। চলতি বছরে সৌদি আরবের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে ১ দশমিক ৯ শতাংশ। ২০২২ সালে দেশটির প্রবৃদ্ধি ছিল ৮ দশমিক ৭ শতাংশ।
সৌদি আরব বিশ্বের প্রধান জ্বালানি তেল রফতানিকারক দেশ। অপরিশোধিত তেলের বাজারের ওপর দেশটির অর্থনীতি অনেকাংশেই নির্ভরশীল। ২০২৩ সালে জ্বালানি তেলের মূল্য ২১ শতাংশ কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশে ঠেকতে পারে চলতি বছরে। ২০২২ সালে প্রবৃদ্ধি ছিল ৫ দশমিক ২ শতাংশ। ২০২৪ সালে প্রবৃদ্ধির হার ৩ দশমিক ৭ শতাংশে দাঁড়াতে পারে। গুরিনচার দাবি, মূল্যস্ফীতি আশাব্যঞ্জকভাবে কমতে শুরু করেছে। ২০২১ সালে শুরু হওয়া মূল্যস্ফীতির চক্রের শেষ দিকে রয়েছি আমরা। কিন্তু আশা কখনই কোনো নীতি নয়। এ মুহূর্তে কার্যকর নীতি দরকার।










