সেমিকন্ডাক্টর ও বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি (ইভি) শিল্পে বিনিয়োগ বাড়াতে চায় মালয়েশিয়া। মূলত বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি ও অন্যতম উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত হতেই এ উদ্যোগ। খবর নিক্কেই এশিয়া।
ফেডারেশন অব মালয়েশিয়ান ম্যানুফ্যাকচারার্স (এফএমএম), নিক্কেই ও জাপান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি মালয়েশিয়া-জাপান অর্থনৈতিক সংলাপের আয়োজন করে। সে সময় দেশটির সরকারি কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী নেতারা এ খাতগুলোর উন্নয়নে নাগরিকরা কী ভূমিকা পালন করতে পারে সে বিষয়ই তুলে ধরেছেন।
মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী টেংকু জাফরুল আবদুল আজিজ জানান, দেশটি নিজেদের বাজারের প্রবেশাধিকার প্রসারিত করতে এবং উৎপাদন খাতে স্থিতিস্থাপক সরবরাহ চেইন তৈরিতে কাজ করছে।
মন্ত্রী আরো বলেন, ‘বর্তমানে অর্থনৈতিকভাবে যে চুক্তি রয়েছে, সেগুলোকে কাজে লাগানোর মাধ্যমে আমরা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরো বাড়াতে পারি। এছাড়া প্রযুক্তি স্থানান্তরকে সহজ করার পাশাপাশি বাজারে প্রবেশাধিকার প্রসারিত করাও সম্ভব। একই সঙ্গে বাণিজ্য খাতে বৈচিত্র্য আনা এবং পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার করা সম্ভব।’
সেপ্টেম্বরে মালয়েশিয়া আরো উন্নত উৎপাদন খাত গড়ে তুলতে নতুন একটি পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এ খাত গড়ে তুলতে সাত বছরের জন্য ৯ হাজার ৫০০ কোটি রিঙ্গিত বিনিয়োগ প্রয়োজন। এ পরিকল্পনায় যে শিল্পগুলোয় অগ্রাধিকার দেয়া হবে, সেগুলো হলো ইলেকট্রনিকস, রাসায়নিক ও ইভি। এর মাধ্যমে দেশটি ৩৩ লাখ মানুষের নতুন কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
জাফরুল আরো বলেন, ‘এ পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হাই-টেক ও মূল্য সংযোজন উৎপাদনকারী হিসেবে মালয়েশিয়াকে অন্যতম বিনিয়োগ কেন্দ্রে পরিণত করা।’ এ স্কিমের অধীনে সরকারের মূল লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে হাই-টেক উৎপাদনের মূল্য ৫৮ হাজার ৭৫০ কোটি রিঙ্গিতে উন্নীত করা, যা ২০২১ সালের তুলনায় ৬১ শতাংশ বেশি। মালয়েশিয়ার উৎপাদন খাত দেশের মোট দেশীয় পণ্যের ২০ শতাংশের বেশি এবং এর মোট রফতানিতে ৮০ শতাংশেরও বেশি অবদান রাখে।
মালয়েশিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (এমআইডিএ) সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর শিখ শামসুল ইব্রাহিম জানান, বিশ্বে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে মালয়েশিয়ার লক্ষ্য বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনে পরিবর্তন আনা, পুনর্বিন্যাস ও পুনর্বণ্টনের সুবিধা চালু করা।
ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার কারণে ইলেকট্রনিকস ও সেমিকন্ডাক্টর কোম্পানিগুলো চীনের বাইরে তাদের উৎপাদন কার্যক্রম শুরুর চেষ্টা চালাচ্ছে। আর সে সুযোগ কাজে লাগাতে চাচ্ছে মালয়েশিয়া। যদিও ভারত ও ভিয়েতনাম এরই মধ্যে বিকল্প স্থান হিসেবে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছে।










