এশিয়ায় মধ্যবিত্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে চীনে সে হার অনেক বেশি। ক্রমবর্ধমান এসব মধ্যবিত্তের মধ্যে বিমান ভ্রমণের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। তাদের আগ্রহকে পুঁজি করছে উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। ফ্রান্সভিত্তিক এয়ারবাস ও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বোয়িংয়ের মধ্যে এ নিয়ে প্রতিযোগিতা চলছে। চীনে উৎপাদন দ্বিগুণ করার উদ্দেশ্যে নতুন অ্যাসেম্বলি লাইন স্থাপন করার উদ্যোগ নিয়েছে এয়ারবাস। দেশটিতে এটি তাদের দ্বিতীয় অ্যাসেম্বলি লাইন। এয়ারবাসের কারখানা চীনের তিয়ানজিন শহরে অবস্থিত। সেখানে ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ নতুন অ্যাসেম্বলি লাইনের কার্যক্রম শুরু হবে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। 

সম্প্রতি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর সঙ্গে চীন সফর করেছেন এয়ারবাসের প্রধান নির্বাহী গিলোমে ফরি। চীনে নতুন অ্যাসেম্বলি লাইনের যাত্রা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ চীনের বাজার ক্রমাগত বাড়ছে। চীনা এয়ারলাইনসের অনেক উড়োজাহাজের প্রয়োজন হবে। এশিয়া অঞ্চলের আরো কিছু গ্রাহকও উড়োজাহাজ কেনার সম্ভাবনা আছে।’

দ্বিতীয় অ্যাসেম্বলি লাইন স্থাপনের উদ্দেশ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন গিলোমে ফরি। সেখানে এয়ারবাসের ব্যাপক জনপ্রিয় অ্যা ৩২০ মডেলের মিডিয়াম হাউল-জেট তৈরি করা হবে। চুক্তি স্বাক্ষরের সময় মাখোঁ ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং উপস্থিত ছিলেন।

এয়ারবাস বিশ্বব্যাপী এর বার্ষিক উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০২৬ সালে অ্যা ৩২০ ও অ্যা ৩২১ জেটের বার্ষিক উৎপাদন ৯০০-তে উত্তীর্ণ করতে চায় প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে কোম্পানিটির প্রায় ৭ হাজার ৩০০ উড়োজাহাজের ক্রয়াদেশ আছে। ডেলিভারির জন্য গ্রাহকদের কয়েক বছর অপেক্ষা করতে হয়। 

তিয়ানজিনে এয়ারবাসের প্রথম অ্যাসেম্বলি লাইন স্থাপিত হয়েছিল ২০০৮ সালে। বর্তমানে সেখানে প্রতি মাসে চারটি অ্যা ৩২০ তৈরি হচ্ছে। তা বাড়িয়ে মাসিক ছয়টি অ্যা ৩২০ জেট তৈরি করতে চায় তারা। এ বছরের মধ্যেই সে লক্ষ্য পূরণ করতে চায় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি।

চীনা এয়ারলাইনসগুলোর উড়োজাহাজ কেনার দিক থেকে বর্তমানে চাইনিজ ক্যারিয়ার্স অন্যতম। তাছাড়া এয়ার চায়না, চায়না ইস্টার্ন, চায়না সাউদার্ন ও শেনজেন এয়ারলাইনসও উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় উড়োজাহাজ কেনে। এ এয়ারলাইনসগুলো সম্মিলিতভাবে গত জুলাইয়ে ২৯২টি অ্যা ৩২০ বিমানের ক্রয়াদেশ দিয়েছে।

অন্যদিকে চীনে উড়োজাহাজ বিক্রি কমেছে বোয়িংয়ের। গত বছর এটি চীনা গ্রাহকদের কাছে মাত্র ১২টি উড়োজাহাজ বিক্রি করেছে। আর এয়ারবাস ৯৫টি উড়োজাহাজ বিক্রি করেছে।