শুধু সাশ্রয়ী দামে গাড়ি তৈরি ও বিক্রির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না বিশ্বের সবচেয়ে বড় গাড়ি নির্মাতা টয়োটা। এরই সাম্প্রতিক উদাহরণ মিলেছে জাপানের ইয়োকোহামায় আয়োজিত টয়োটা গ্রুপের ডিজিটাল আর্ট শোতে। ২০ ডিসেম্বর শুরু হওয়া এ প্রদর্শনীর মাধ্যমে টয়োটা গাড়িকে নতুন ধরনের অভিজ্ঞতায় যুক্ত করতে চাইছে প্রতিষ্ঠানটি।
টয়োটার ওয়ারহাউজ থেকে রূপান্তরিত আর্ট গ্যালারি মুভিয়াম ইয়োকোহামায় আয়োজন করা হয়েছে ‘আ ইমারসিভ আর্ট শো’। ঊনিশ শতকের শেষ ভাগের ভিয়েনার শিল্প আন্দোলন থেকে এসেছে প্রদর্শনীর অনুপ্রেরণা। প্রায় ১ হাজার ৮০০ বর্গমিটার আয়তনের প্রদর্শনী স্থানটি অবস্থিত ঐতিহাসিক বন্দরনগরী ইয়োকোহামায়, যেখান থেকেই টয়োটা একসময় ফ্ল্যাগশিপ বিলাসবহুল ক্রাউন গাড়ি যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি শুরু করে।
পুরো ওয়্যারহাউজে তৈরি হয়েছে নিমগ্ন ডিজিটাল পরিবেশ। ৭৫টি প্রজেক্টরের মাধ্যমে দেয়াল ও মেঝেজুড়ে প্রদর্শিত হচ্ছে অস্ট্রিয়ার শিল্পী গুস্তাভ ক্লিমট ও এগন শিয়েলের বিখ্যাত শিল্পকর্ম। ২৭টি স্পিকার থেকে ভেসে আসছে সংগীত।
আগামী মার্চের শেষ পর্যন্ত চলবে এ প্রদর্শনী। এটি টয়োটার দীর্ঘ দিনের উদ্যোগের অংশ। এর আওতায় প্রতিষ্ঠানটি শোরুম ও অফিস স্পেসকে অর্কেস্ট্রা পরিবেশনা, শিল্প প্রদর্শনী কিংবা ক্রীড়া আয়োজনের মতো নানা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্য খুলে দিচ্ছে।
টয়োটা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা শুধু মানুষকে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় পৌঁছে দিতে চায় না, গ্রাহকদের আবেগের দিক থেকেও নাড়িয়ে দিতে চায়। গত অক্টোবরে প্রতিষ্ঠানটি ইয়োকোহামা থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে টোকিও বে এলাকায় একটি পুরনো শোরুমের জায়গায় ‘টয়োটা অ্যারেনা টোকিও’ উন্মোচন করে। ভেন্যুটি ক্রীড়া ও সংগীতানুষ্ঠানের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে।
মূলত গাড়ি শিল্পের রূপান্তরের সঙ্গে তাল মেলাতে এসব গ্রাহকবান্ধব পদক্ষেপ নিচ্ছে টয়োটা। কারণ জাপানের অভ্যন্তরীণ বাজার ধীরে ধীরে সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নতুন চাহিদা তৈরি করা এবং আগে পৌঁছানো যায়নি. এমন গ্রাহকদের কাছে পৌঁছানো তাই কোম্পানির জন্য জরুরি হয়ে উঠেছে। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে পৃষ্ঠপোষকতা দেয়া তারই একটি পথ।
সম্প্রতি কোম্পানিটির চেয়ারম্যান আকিও টয়োদা মন্তব্য করেছিলেন, ‘গাড়ি শিল্প এমন এক গভীর রূপান্তরের যুগে প্রবেশ করেছে, যা শত বছরে একবারই ঘটে। চালকবিহীন গাড়ি প্রযুক্তি, রাইড-হেইলিং ও কার শেয়ারিংয়ের মতো নতুন মোবিলিটি সেবা নিয়ে নির্মাতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়ছে। পাশাপাশি চীনা গাড়ি নির্মাতারাও বৈশ্বিক বাজারে দ্রুত শক্ত অবস্থান তৈরি করছে।’
টয়োটা নতুন পণ্যের উন্নয়নেও কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। মাউন্ট ফুজির পাদদেশে একটি পরীক্ষামূলক শহর গড়ে তুলেছে কোম্পানিটি, যেখানে কফি চেইন ও এয়ার কন্ডিশনার নির্মাতাসহ বিভিন্ন খাতের কোম্পানির সঙ্গে যৌথভাবে নতুন মোবিলিটি প্রযুক্তি পরীক্ষা করা হচ্ছে।
নতুন সেঞ্চুরি আল্ট্রা লাক্সারি ব্র্যান্ড চালুর পাশাপাশি অক্টোবরে জাপান মোবিলিটি শোয় টয়োটা ছয় চাকার একটি লেক্সাস কনসেপ্ট কার প্রদর্শন করে। চলতি মাসের শুরুতে তারা উচ্চমানের স্পোর্টস কারও উন্মোচন করেছে, যা পোরশে ও ফেরারির মতো ব্র্যান্ডের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করবে।
খবর ও ছবি নিক্কেই এশিয়া









