মে মাসে জাপানে পাইকারি মূল্যস্ফীতির হার গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। এর কারণ হিসেবে কাঁচামালের দাম বাড়ার পাশাপাশি ইয়েনের দরপতনকে দায়ী করা হচ্ছে। এ কারণে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির আমদানি ব্যয়ও ঊর্ধ্বমুখী ছিল। সম্প্রতি ব্যাংক অব জাপান এ তথ্য প্রকাশ করেছে। খবর কিয়োদো নিউজ।
এ নিয়ে মে মাস পর্যন্ত জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পণ্যের বাণিজ্য টানা ১৫তম মাসের মতো ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। এতে করে পণ্যের ভোক্তা পর্যায়ে মূল্য বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কভিড-১৯ মহামারী থেকে সবেমাত্র অর্থনীতি পুনরুদ্ধার শুরু হয়েছে দেশটির। এর মধ্যেই পণ্যের মূল্য বাড়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
মূল্যস্ফীতির হারের ঊর্ধ্বমুখিতা ঠেকাতে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক যৌথভাবে নীতি কঠোর করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ডলার ও ইউরোর বিপরীতে ইয়েনের দরপতন হয়েছে। জ্বালানির ক্ষেত্রে জাপান আমদানিনির্ভর দেশ। দুর্বল ইয়েনের কারণে আগের বছরের তুলনায় দেশটির আমদানি মূল্য ৪৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে রফতানি মূল্য বেড়েছে ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ।
ব্যাংক অব জাপান বলছে, মূল্যস্ফীতির হারের ঊর্ধ্বমুখিতা সাময়িক সমস্যা। তবে পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে মুনাফা অর্জনে চাপের মুখে রয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো। এরই ধারাবাহিকতায় খুচরা মূল্যও বেড়েছে।
এ বিষয়ে দাইওয়া সিকিউরিটিজ কোম্পানির জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ তোরু সুহিরো বলেন, দুর্বল ইয়েনের কারণে পাইকারি মূল্যস্ফীতির হার ৪০ শতাংশ বেড়েছে। এর বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের জের ধরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামসহ কাঁচামালের মূল্যও বেড়েছে। এর মধ্যে সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে। এ বছরের মে মাসে পেট্রোলিয়াম ও কয়লার দাম ২১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। ব্যাংক অব জাপানের তথ্য বলছে, লোহা ও ইস্পাতের দাম বেড়েছে ২৯ দশমিক ৮ শতাংশ। কাঠজাত পণ্যের দাম বেড়েছে ৫৬ দশমিক ১ শতাংশ। পাশাপাশি বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির বিল ২৮ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে।
মূল্যসংকোচনের দেশ হিসেবে পরিচিত জাপান। এরই মধ্যে আগামী মাসে হাউজ অব কাউন্সিলের নির্বাচনের আগেই মূল্যবৃদ্ধির ঘটনা স্পর্শকাতর বিষয় হয়ে উঠেছে দেশটির জন্য। ভোক্তাদের ওপর মূল্যবৃদ্ধির এ চাপ সামলাতে কর্মীদের বেতন বাড়ানোর এখনো কোনো সম্ভাবনা দেখা যায়নি।










