‘গেটওয়ে টু দ্য ডেলস’ হিসেবে পরিচিত ইয়র্কশায়ারের স্কিপটন। যাতে এককথায় চমৎকারভাবে ফুটে ওঠে ডেলস জাতীয় উদ্যান ও পাহাড়ি উপত্যকার সৌন্দর্য। এছাড়া শহরটিতে রয়েছে ইংল্যান্ডের অন্যতম সংরক্ষিত মধ্যযুগীয় দুর্গ। ব্রিটিশ বহুজাতিক খুচরা পণ্য বিক্রেতা জায়ান্ট মার্কস অ্যান্ড স্পেন্সারের (এমঅ্যান্ডএস) দুই প্রতিষ্ঠাতার একজনের জন্ম এখানে। সম্প্রতি গ্রেট ব্রিটেনের দ্য হ্যাপিয়েস্ট প্লেস টু লিভ বা আনন্দ নিয়ে বসবাসের সবচেয়ে আদর্শ স্থান হিসেবে মনোনীত হয়েছে স্কিপটন।
স্বীকৃতিটি দিয়েছে সম্পত্তি খাতের ওয়েবসাইট রাইটমুভ। ১৪ বছর ধরে সংস্থাটি বার্ষিক ভিত্তিতে হ্যাপি অ্যাট হোম সূচক প্রকাশ করে আসছে। জরিপে বাসিন্দাদের কাছে নিজ এলাকার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়।
ইয়র্কশায়ার ডেলসের প্রত্যন্ত মনোরম অবস্থান স্কিপটনকে উচ্চ স্কোর প্রাপ্তিতে সুবিধা দিয়েছে। যেখানে রয়েছে প্রকৃতি ও সবুজ এলাকার সহজপ্রাপ্যতা, বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ এবং শিক্ষা-চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় পরিষেবার প্রবেশাধিকার। এবারই প্রথম স্কিপটন সূচকের শীর্ষে উঠল। শহরটি ২০২০ সালে ছিল দ্বিতীয় এবং গত বছর ষষ্ঠ স্থান লাভ করে।
ধারণা করা হয়, শহরটির ভেতর দিয়ে বয়ে চলা লিডস অ্যান্ড লিভারপুল খালের মনোরম সৌন্দর্য বাসিন্দাদের ভীষণভাবে প্রভাবিত করে। কারণ এ ধরনের জরিপে স্কিপটন নিয়মিতই ভালো অবস্থানে থাকে। ২০১৪ সালে সানডে টাইমস স্কিপটনকে দেশটিতে বসবাসের জন্য সেরা স্থান ঘোষণা করেছিল। ২০১৭ সালে অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকস (ওএনএস) এ অঞ্চলকে যুক্তরাজ্যে সবচেয়ে সুখী এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করেছিল।
এ বছরের রাইটমুভ হ্যাপিনেস সূচকে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে লন্ডনের দুই প্রশাসনিক এলাকা রিচমন্ড আপন টেমস ও ক্যামডেন। জরিপে গ্রেট ব্রিটেনের দুই শতাধিক এলাকার বাসিন্দারা তাদের এলাকা সম্পর্কে অনুভূতি জানান। স্কিপটন বিশেষভাবে উচ্চ স্কোর পেয়েছে এমন একটি স্থান হিসেবে, যেখানে বাসিন্দারা ‘নিজের মতো করে থাকতে পারেন’ এবং এলাকাটি তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী। স্কিপটনে একটি বাড়ির গড় প্রস্তাবিত মূল্য ৩ লাখ ২৬ হাজার ৯৩ পাউন্ড, যা ব্রিটিশ জাতীয় গড় ৩ লাখ ৬৪ হাজার ৮৩৩ পাউন্ডের তুলনায় কম।
স্কিপটন বিল্ডিং সোসাইটির গ্রুপ পাবলিক অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড ক্যাম্পেইনস লিড ইয়ান রিগার্লসফোর্ড বলেন, ‘স্কিপটন এমন একটি জায়গা, যেখানে “কমিউনিটি” শব্দটির সত্যিকারের অর্থ রয়েছে। দুপুরের বিরতিতে হাঁটা থেকে শুরু করে অফিসের জানালা দিয়ে দেখা দৃশ্য মিলিয়ে এ শহরে যে ভারসাম্য রয়েছে, তা সত্যিই অসাধারণ।’ —খবর দ্য গার্ডিয়ান










