দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ-ভারতের মাঝে আমদানি-রফতানি কার্যক্রমের সময় আড়াই ঘণ্টা কমানো হয়েছে। একই সঙ্গে পণ্য নিয়ে আসা ভারতীয় সব ট্রাকচালক ও সহকারীকে পণ্য খালাস শেষে একই দিনে ভারতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। গতকাল থেকেই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।
জানা গেছে, বন্দর কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মোতাবেক ও স্থানীয় প্রশাসন, কাস্টমস, বন্দর কর্তৃপক্ষ, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট আমদানি-রফতানিকারকের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আগে সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত আমদানি-রফতানি কার্যক্রম পরিচালিত হতো। এখন সেটি কমিয়ে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। আর ৪টা থেকে সাড়ে ৬টা পর্যন্ত পণ্য খালাস করা ভারতীয় ট্রাকচালকদের ভারতে পাঠানো হবে। এছাড়া সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত খালি ট্রাকগুলো পাঠিয়ে দেয়া হবে।
ভারতে সম্প্রতি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। সংক্রমণ ঠেকাতে দেশটির সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্থলবন্দর দিয়ে দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে ভারতের সংক্রমণের ধরন নিয়ে দেশের মধ্যে এক ধরনের উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এ আশঙ্কার জেরে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানিয়েছিলেন স্থানীয়রা। এমন পরিস্থিতিতেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর আগে গত ২৯ এপ্রিলে এ সিদ্ধান্ত বন্দরের আমদানি-রফতানিকারক সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও কাস্টমস বন্দর কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছিল।
এ বিষয়ে হিলি স্থল শুল্কস্টেশনের উপকমিশনার সাইদুল আলম বলেন, ভারতীয় কোনো ট্রাকচালক বন্দরে অবস্থান করতে পারবেন না ও ট্রাক থেকে নামতে পারবেন না বলে সম্প্রতি বন্দর কর্তৃপক্ষ নির্দেশনা দিয়েছেন। সে নির্দেশনা মোতাবেক বন্দরের আমদানি-রফতানি কার্যক্রম সময় কমিয়ে বাকি সময়ে পণ্য খালাস করা ট্রাকগুলোকে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশী ট্রাককে বন্দরের ভেতরে প্রবেশের সময় কমিয়ে সন্ধ্যা ৭টা থেকে ৯টা পর্যন্ত করা হয়েছে। ভারত থেকে পণ্য নিয়ে আসা ট্রাক থেকে আমাদের কর্মীদের দিয়ে বিশেষ ঝুড়ির মাধ্যমে কাগজ সংগ্রহ করা, চালক ও সহকারীদের তাপমাত্রা পরিমাপ করা, গাড়িগুলোকে স্যানিটাইজ করে বন্দরে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে। যদি কারো তাপমাত্রা বেশি হয়, সেক্ষেত্রে তাকে দেশে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। এছাড়া বন্দরের ভেতরে ভারতীয় চালক ও সহকারীদের আলাদাভাবে রাখার ব্যবস্থা করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। তাদের গোসল রান্নাসহ সবকিছু আলাদা করে দিয়ে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে কঠোরভাবে কাজ করে যাচ্ছে।










