বাংলাদেশ ব্যাংক গতকাল ২০২৩-২৪ অর্থবছরের (জুলাই-ডিসেম্বর) প্রথমার্ধের মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে। ঘোষিত এ মুদ্রানীতিতে পুঁজিবাজারের প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের সমর্থনের মাধ্যমে পুঁজিবাজারের সম্প্রসারণ তথা সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান অধ্যাপক  ড. হাফিজ মুহম্মদ হাসান বাবু। ৷মুদ্রানীতির ওপর দেয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা জানিয়েছেন।

ডিএসইর পক্ষ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ঘোষিত মুদ্রানীতিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণসহ সামগ্রিক বাজার অর্থনীতির স্থিতিশীতার মাধমে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের বিষয়ে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে,৷ যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য সময়োপোগী ও দিকনির্দেশনামূলক মুদ্রানীতি। ঘোষিত মুদ্রানীতিতে একটি উন্নত ও বিকশিত পুঁজিবাজার দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। উন্নত ও বিকশিত পুঁজিবাজারের অভাবে দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ ব্যাংকের অর্থায়নের ওপর নির্ভরশীল হতে হয়। বন্ড মার্কেট এ বৃহৎ অর্থায়নের চাহিদা পূরণ করতে পারে। সরকারি ও বেসরকারি খাত বন্ডের মাধ্যমে টাকা সংগ্রহ করে তাদের ব্যয় কমাতে পারে এবং পরিচালনাগত দক্ষতা বৃদ্ধি করতে পারে। এছাড়া সরকার বন্ডের মাধ্যমে কম খরচে বাজেটের জন্য অর্থ সংগ্রহ করতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ উত্তরণে পুঁজিবাজারে পর্যাপ্ত তারল্য নিশ্চিত করার জন্য চেষ্টা করছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এরই মধ্যে ব্রোকারেজ হাউজ, মার্চেন্ট ব্যাংক ও স্টক ডিলারদের দেয়া ব্যাংকের শ্রেণীবদ্ধ ঋণের ক্ষেত্রে সংরক্ষিত সঞ্চিতি ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করেছে। এছাড়া ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে ব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ না নিয়ে বন্ড ইস্যু করে অর্থের সংস্থান করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছে।​

একটি শক্তিশালী ও গতিশীল পুঁজিবাজারের জন্য প্রয়োজন বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএসইসি এবং সরকারি কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ—ঘোষিত মুদ্রানীতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের এ আশাবাদের সঙ্গে ডিএসই একমত পোষণ করে পুঁজিবাজার উন্নয়নে ডিএসই একযোগে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করে।

মুদ্রানীতির প্রতিক্রিয়ায় ডিএসই আরো জানায়, ঘোষিত মুদ্রানীতিতে পুঁজিবাজার থেকে দীর্ঘমেয়াদে অর্থায়ন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বরোপ করা হয়েছে।৷ পাশাপাশি একটি কার্যকর বন্ড মার্কেট প্রতিষ্ঠিত করা ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে৷। এ দুটো বিষয়ের ওপর ডিএসইও দেশের নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছে৷। ডিএসই মনে করে এ দুটো উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে হলে যথাযথ কৌশল প্রণয়ন খুবই গুরুত্বপূর্ণ৷। পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও বিকাশে সারা বিশ্বে নীতি-সমর্থন এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পৃক্ততার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যে বলিষ্ঠ ভূমিকা থাকে ঘোষিত মুদ্রানীতিতে পুঁজিবাজারের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সে ধরনের ভূমিকাই রয়েছে।