যুক্তরাজ্যে খুচরা বিক্রির পরিমাণ ডিসেম্বরে ৩ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে, যা দেশটির কভিডকালীন সময়ের পর সর্বোচ্চ হ্রাস। খবর বিবিসি।
দেশটির অফিশিয়াল পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পণ্যের চাহিদায় পতন ঘটেছে এবং ক্রিসমাসের সময় খাদ্য বিক্রি কমেছে।
অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিসটিকস (ওএনএস) জানিয়েছে, সাধারণ ক্রেতারা ব্ল্যাক ফ্রাইডের ছাড়ের সুবিধা পেতে নভেম্বরের শুরুতে কেনাকাটা করেছিল। দেশটির খুচরা বিক্রি ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে দ্রুত কমেছে।
ওএনএস জানায়, গত বছরের ডিসেম্বরে খাদ্যবহির্ভূত পণ্য ক্রয়ের পরিমাণ ৩ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে। এর কারণে দেশটির ডিপার্টমেন্ট স্টোরগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২০২৩ সালের নভেম্বরে খাদ্যবহির্ভূত পণ্য বিক্রি ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছিল।
গত বছরের নভেম্বরে খাদ্য চাহিদা ৩ দশমিক ১ শতাংশ ও নভেম্বরে খাদ্য বিক্রি ১ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে।
পরামর্শক প্রতিষ্ঠান পিডব্লিউসির লিসা হুকার বলেন, ‘বড় পরিবারগুলো তাদের উপহার কেনার খরচ কমিয়ে আনছে। সাধারণ জনগণ খেলনা, খেলাধুলার সরঞ্জাম, ঘড়ি ও গহনার মতো পণ্যগুলোর জন্য খরচ কম করছে।’
ওএনএসের জরিপ ও অর্থনৈতিক সূচক সম্পর্কে ডেপুটি ডিরেক্টর হেদার বোভিল বলেছেন, ‘গত বছরের ডিসেম্বরে খুচরা বিক্রির পতন ২০২১ সালের জানুয়ারির পর সর্বনিম্ন। সে সময় খুচরা বিক্রির পরমাণ কভিডকালীন বিধিনিষেধের কারণে কমে যায়।’
তিনি আরো জানিয়েছেন, গত বছরের নভেম্বরে দ্রব্যমূল্যের ওপর ছাড় দেয়ায় সাধারণ ক্রেতারা ক্রিসমাসের আগে বেশি কেনাকাটা করেছে। তবে ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, পোশাকের খুচরা দোকান ও গৃহস্থালি পণ্য বিক্রয়কারীদের কাছ থেকেও প্রমাণ পাওয়া গেছে যে ভোক্তারা এবার উপহারের জন্য কম ব্যয় করেছেন।
সুপারমার্কেটগুলো জানায়, ক্রিসমাসজুড়ে তাদের বিক্রিবাট্টা ভালো হয়েছে। ওই সময় দাম কম থাকায় বিক্রি বেশি হয়েছে। এর আগের কয়েক বছরে জিনিসপত্রের দাম ছিল আরো বেশি।
স্পেশালিস্ট ওয়াইন আউটলেট ম্যাজেস্টিক জানিয়েছে, ক্রিসমাসজুড়ে তারা রেকর্ড পরিমাণ বিক্রি করেছে। এর পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে আতিথেয়তা খাত। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী জন কলি বলেছেন, ‘সামগ্রিকভাবে ভোক্তারা এখনো এক বছর আগে বাড়ানো খাবারের দামের কারণে ভুগছেন।’
এ মাসের শুরুর দিকে ব্রিটিশ রিটেইল কনসোর্টিয়াম পূর্বাভাস দিয়েছে, বছরটি খুচরা শিল্প খাতের জন্য চ্যালেঞ্জিং থাকবে। কারণ পরিবারগুলোর জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে।
ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের সহকারী অর্থনীতিবিদ অ্যালেক্স কের জানিয়েছেন, খুচরা বিক্রির পরিমাণ পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি কমেছে। এর মাধ্যমে বোঝা যায় যুক্তরাজ্যে ২০২৩ সালে সামান্য পরিমাণে অর্থনৈতিক মন্দা ছিল।










