ভারত সাধারণত আমদানির মাধ্যমে তামার চাহিদা পূরণ করে। আমদানিকারক দেশগুলোর তালিকায় দেশটির অবস্থান চতুর্থ। পাশাপাশি স্বল্প পরিমাণ রফতানিও করে দেশটি। তবে এবার ধাতুটির নিট রফতানিকারকে পরিণত হতে যাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহৎ অর্থনীতির এ দেশ। আগামী অর্থবছরের মধ্যেই রফতানিতে এমন প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে যাচ্ছে দেশটি। খবর দ্য হিন্দু বিজনেস লাইন। 

এর কারণ হিসেবে বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, আদানি এন্টারপ্রাইজের ইউনিট ক্লাচ কপার লিমিটেড চলতি অর্থবছরের শেষ দিকে গুজরাটে কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে। এটি বিপুল পরিমাণ তামা রফতানি করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। 

২০১৭-১৮ অর্থবছরে ভারত তামার নিট আমদানিকারক দেশে পরিণত হয়। গত অর্থবছরে দেশটি ২ লাখ ৭৫ হাজার টন আমদানি করে। দেশটির কয়লা ও খনিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী গত ডিসেম্বরে জানান, গত অর্থবছর তামা আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ২৭ হাজার ১৩১ কোটি রুপি, ২০২১-২২ অর্থবছরে যা ছিল ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি রুপি। 

তথ্য বলছে, গুজরাটের মুন্দ্রা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ক্লাচ কপার লিমিটেড কার্যক্রম শুরু করবে। প্রথম ধাপে এর সক্ষমতা হবে পাঁচ লাখ টন। দ্বিতীয় ধাপে অতিরিক্ত আরো পাঁচ লাখ টন যুক্ত হবে। 

গত বছর আদানি গ্রুপের বার্ষিক সাধারণ সভায় চেয়ারম্যান গৌতম আদানি বলেন, ‘তামা বিগলন কেন্দ্র নির্মাণ গ্রুপের অন্যতম বড় একটি প্রকল্প এবং এটি যথাসময়ই চালু করা হবে।’ 

কয়লা ও খনিবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানায়, আগামী অর্থবছরের মধ্যে ক্লাচ কপার লিমিটেডের কার্যক্রম পূর্ণমাত্রায় চালু হলে ভারতে তামা উত্তোলন প্রায় দ্বিগুণ বাড়বে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৭ লাখ ৮৫ হাজার টন সক্ষমতার বিপরীতে জাতীয় উত্তোলনের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৫৫ হাজার টন।

সরকারি কয়েকটি সূত্র জানায়, আগামী অর্থবছরে ভারতের তামা উত্তোলন সক্ষমতা ৬৩ শতাংশ বাড়তে পারে। উত্তোলন বেড়ে দাঁড়াতে পারে প্রায় ১০ লাখ টনে। 

২০১৭-১৮ অর্থবছর পর্যন্ত ভারতের তামা উত্তোলন সক্ষমতা ছিল ১০ লাখ ২৮ হাজার টন। এর মধ্যে বিড়লার হিন্ডাকলোর সক্ষমতা ছিল ৫ লাখ টন ও স্টারলাইটের ছিল ৪ লাখ ৬০ হাজার টন। বাকি সক্ষমতা ছিল হিন্দুস্তান কপারের। 

অস্থিরতা ও বিক্ষোভের মুখে ২০১৮ সালে তামিলনাড়ু সরকার স্টারলাইট কপার বন্ধ করে দেয়। ফলে ভারতে তামা উত্তোলন সক্ষমতা ৮ লাখ ৪২ হাজার থেকে পঁাচ লাখ টনে নেমে যায়। 

কয়লা ও খনিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের এপ্রিল-জানুয়ারি পর্যন্ত ভারতে ৪ লাখ ৬৫ হাজার টন কয়লা উত্তোলন হয়েছে। বর্তমানে ভারতীয় তামা শিল্পের আকার ৬ লাখ ৫০ হাজার টন, যা বৈশ্বিক বাজারে ৩ শতাংশ। উত্তোলনের হিসাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে দেশটিতে রফতানির জন্য কিছু উদ্বৃত্ত থাকতে পারে। তবে এটি নির্ভর করছে বিদ্যমান কারখানাগুলোর সক্ষমতা পুরোপুরি ব্যবহারের ওপর।