কয়েকদিন ধরে লাগামহীনভাবে বেড়েছে মসলা পণ্য পেঁয়াজের দাম। সরবরাহ সংকটের কারণ দেখিয়ে বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ২৫০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। এ অবস্থায় সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণে ভ্রাম্যমাণ আদালত জোরদার করা এবং অন্যান্য দেশ থেকে আমদানি বাড়ানোয় গতকাল দেশের পাইকারি বাজারগুলোয় আবার পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করেছে। এর মধ্যে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে একদিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিতে কমেছে ৩০ টাকা।

ভারত থেকে আমদানি হওয়া পেঁয়াজের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আসে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে। এখান থেকেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পাইকারি ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজ কিনে নিয়ে যান। কিন্তু ভারত রফতানি বন্ধ করে দেয়ার পর থেকেই হিলিসহ দেশের সব অঞ্চলে পেঁয়াজের দাম বাড়তে থাকে।

গতকাল হিলি স্থলবন্দরের পাইকারি বাজারে গিয়ে দেখা যায়, মানভেদে পাইকারিতে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা দরে। একদিন আগেও যা বিক্রি হয়েছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকায়। অন্যদিকে খুচরা বাজারে আমদানীকৃত প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়। একদিন আগে যা বিক্রি হয়েছে ২০০ থেকে ২১০ টাকায়। আর দেশী পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা দরে। 

ব্যবসায়ীরা বলছেন, দাম বৃদ্ধির ফলে সরকারের পক্ষ থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও বাজার নিয়ন্ত্রণে কাজ করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে। পাশাপাশি মোকামগুলোয় মজুদ রাখা পেঁয়াজও বাজারে সরবরাহ করছেন ব্যবসায়ীরা। এতে বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়ছে। যে কারণে দাম একটু কমতির দিকে রয়েছে।

তবে গতকাল দাম কিছুটা কমলেও গত কয়েকদিনে লাগামহীন দাম বৃদ্ধিতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন ক্রেতারা। তারা মনে করছেন, ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে পেঁয়াজের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়িয়েছেন।

হিলি বাজারে পেঁয়াজ কিনতে আসা হায়দার হোসেন ও নুরে আলম সিদ্দিক জানান, ঘণ্টায় ঘণ্টায় পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। এভাবে পেঁয়াজের দাম বাড়লে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের ব্যয়ভার মেটানো অসম্ভব হয়ে পড়ছে। যে অবস্থা দাঁড়াচ্ছে, তাতে করে পেঁয়াজ ছাড়াই আমাদের রান্না করে খেতে হবে।

এ দুজন ক্রেতা অভিযোগ করে বলেন, টিভি-পত্রিকায় খবর দেখছি অনেক স্থানে গুদাম থেকে পচা পেঁয়াজ ফেলে দিচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের কাছে এটা স্পষ্ট যে এটা সিন্ডিকেট ছাড়া আর কিছুই নয়। ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করেই যে যার মতো দাম বাড়াচ্ছেন। তাই এ বিষয়ে সরকারের আশু পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।

হিলি বাজারের পাইকারি পেঁয়াজ ব্যবসায়ী মনিরুল আলম বণিক বার্তাকে বলেন, কয়েকদিন ধরে পেঁয়াজের বাজার পুরোপুরি অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। দু-একদিনের ব্যবধানে কেজিতে প্রকারভেদে দাম ৬০-৭০ টাকা বেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু এখন বাজার পর্যবেক্ষণ জোরদার করা এবং আমদানির পাশাপাশি মোকামগুলো থেকে মজুদকৃত পেঁয়াজ সরবরাহ করায় দাম কমতির দিকে রয়েছে। এছাড়াও স্থানীয়ভাবে হিলির আশপাশের সীমান্ত এলাকা দিয়ে চোরাই পথে ভারত থেকে কিছু পেঁয়াজ আসার ফলে হিলি বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ বেড়েছে। এতে করে বাজারে পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমেছে।