গত দুই মাসে উরাল ক্রুডের (রাশিয়ান বাজার আদর্শ জ্বালানি তেল) গুণগত মানোন্নয়ন করেছে রাশিয়া। জ্বালানি তেলটিকে আরো বেশি লাইট অ্যান্ড সুইট (কম ঘনত্বের ও দশমিক ৫ শতাংশেরও কম সালফারযুক্ত জ্বালানি তেল) করার কারণে এশিয়ার ক্রেতাদের কাছে এটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। ইউক্রেন সংঘাতের প্রতিক্রিয়ার ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ (ইইউ) পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার জ্বালানি তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও এশিয়া দেশটি থেকে তেল আমদানি বন্ধ করেনি। বরং চীন ও ভারতের এ অঞ্চলের বড় অর্থনীতির দেশগুলোয় রুশ জ্বালানি তেলের চাহিদা বাড়ছে। খবর অয়েল প্রাইস ডটকম।

রাশিয়ার বাল্টিক ও কৃষ্ণ সাগরীয় বন্দর দিয়ে রফতানি জন্য প্রধান গ্রেডের জ্বালানি ছিল উরাল ক্রুড। ইউক্রেনে হামলা চালানোর আগ পর্যন্ত দেশটি ইউরোপের বাজারে বিপুল পরিমাণ উরাল রফতানি করত।

এতদিন পর্যন্ত ইউরোপে জ্বালানি তেলের বড় আমদানি উৎস ছিল রাশিয়া। ব্লকটির চাহিদার ৪০ শতাংশ জ্বালানি তেলই আসত রাশিয়া থেকে। কিন্তু ইউক্রেনে আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়ায় দেশটি থেকে ৯০ শতাংশ আমদানি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা। আট মাসের মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য পশ্চিমা ক্রেতারাও রুশ জ্বালানি তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। অনেকে আবার স্বেচ্ছায় আমদানি বন্ধ রেখেছে। এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের বাজারে বড় পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। রাশিয়া জ্বালানি বাজারের গতিপথ ইউরোপ থেকে এশিয়ার দিকে ঘুরিয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে চীন ও ভারতে দেশটি বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল রফতানি করছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের দেয়া তথ্যমতে, গত দুই মাসে সালফারের উপস্থিতি কমে যাওয়া ও উচ্চমাত্রার এপিআই গ্রাভিটির কারণে রাশিয়ার উরাল ক্রুডে লাইট ও সুইটনেসের মাত্রা বেড়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, রাশিয়ায় কম সালফারযুক্ত জ্বালানি তেলের চাহিদা অত্যন্ত স্বল্প। এছাড়া ইউক্রেন সীমান্তবর্তী রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের পরিশোধন কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম তুলনামূলকভাবে কমে গিয়েছে। প্রধানত এ দুটি কারণেই রাশিয়ান লাইট অ্যান্ড সুইট উরাল ক্রুড এশিয়ার বাজারে রফতানির জন্য জাহাজীকরণ করা হচ্ছে।

এক ব্যবসায়ী রয়টার্সকে বলেন, যেসব কেন্দ্রে তুলনামূলক বেশি ঘনত্বের ও উচ্চ সালফারযুক্ত জ্বালানি তেল উত্তোলন করা হয়, নিষেধাজ্ঞার কারণে সেসব কেন্দ্র উত্তোলন কমিয়ে এনেছে। এ বিষয়ও লাইট অ্যান্ড সুইট উরাল ক্রুড রফতানি বাড়াতে সহায়তা করেছে।

বিকল্প বাজার ধরার জন্য এমনিতেই রাশিয়া চীন ও ভারতের কাছে ব্যাপক মূল্যছাড়ে জ্বালানি তেল বিক্রি করছে। তার ওপর উরালের গুণগত মানোন্নয়ন ভারত ও চীনকে রুশ জ্বালানি তেল ক্রয়ে আরো বেশি উৎসাহিত করবে। গত ২৩ জুন থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাজার আদর্শ ব্রেন্টের বিপরীতে প্রতি ব্যারেল উরাল ক্রডে ডলার পর্যন্ত মূল্যছাড় দিচ্ছে রাশিয়া।

পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা, আমদানি বন্ধ কিংবা ব্যবসায়ীদের স্বেচ্ছায় মুখ ফিরিয়ে নেয়ার কারণে রাশিয়া চীন ও ভারতে আগের তুলনায় জ্বালানি তেল ও পরিশোধিত পণ্য রফতানি অনেক বাড়িয়েছে। কয়েক মাস আগেও ভারত ছিল রুশ জ্বালানি তেলের ক্ষুদ্র ও কম গুরুত্বপূর্ণ ক্রেতা। কিন্তু ইউক্রেনে যুদ্ধের দামামা বেজে ওঠার পর ব্যাপক মূল্যছাড় ভারতের অনেক ক্রেতাকে আকৃষ্ট করেছে।

চলতি বছরের এপ্রিলের পর থেকে রাশিয়া থেকে ভারতের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি ৫০ গুণেরও বেশি বেড়েছে। দেশটি আন্তর্জাতিক বাজার থেকে যে পরিমাণ জ্বালানি তেল আমদানি করেছে তার ১০ শতাংশই সরবরাহ করেছে রাশিয়া।