সেন্ট্রাল ব্যাংক অব শ্রীলংকা (সিবিএসএল) গতকাল সুদহার কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। প্রবৃদ্ধি বাড়াতে এমন সিদ্ধান্তকে অপ্রত্যাশিত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে মধ্যমেয়াদে মূল্যস্ফীতি কমবে বলে প্রক্ষেপণ করা হচ্ছে। খবর নিক্কেই এশিয়া।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সহায়তায় দক্ষিণ এশিয়ার দ্বীপ দেশটি সাত দশকের মধ্যে তার সবচেয়ে খারাপ আর্থিক সংকট থেকে বের হয়ে আসছে। আইএমএফের কাছ থেকে ঋণের প্রথম পর্যালোচনা চূড়ান্ত করার অপেক্ষায় দেশটি।

সিবিএসএল মূল সুদহার ১০০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়েছে। আমানত ও ঋণের ক্ষেত্রে সুদহার যথাক্রমে ৯ ও ১০ শতাংশ কমিয়েছে। মোট হার কমিয়ে ৬৫০ বেসিস পয়েন্টে নিয়ে গেছে। এ হ্রাসকরণ গত জুনে শুরু হয়েছিল।

২০২২ সালের এপ্রিল থেকে চলতি বছরের মার্চের মধ্যে আকাশছোঁয়া মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনতে রেকর্ড সুদহার ১০ দশমিক ৫০ শতাংশ বাড়িয়েছে সরকার।

সিবিএসএল বোর্ড সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে, মধ্যমেয়াদে মূল্যস্ফীতি ৫ শতাংশে রাখা হবে। এর লক্ষ্য অর্থনীতিকে সম্ভাব্য উচ্চস্তরে পৌঁছনো এবং স্থিতিশীল করা। এখন সুদহার কমানো হলেও কাছাকাছি সময়ে এটাকে আর হ্রাস করা যাবে না। অভ্যন্তরীণ লেনদেন শক্তিশালী করার জন্য সাম্প্রতিক সুদহার হ্রাসের প্রয়োজনীয়তার কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

সম্পত্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিএএলের প্রধান পরিকল্পনাবিদ উদীশান জোনাস বলেন, ‘‌সুদহার কমানোটা আইএমএফের প্রথম পর্যালোচনার শর্ত থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা। এর মাধ্যমে প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা কমবে। প্রবৃদ্ধিকে উজ্জীবিত করার জন্য কর্তৃপক্ষ নীতি সুদহার কমাতে অগ্রসর হচ্ছে।’

সিবিএসএল পূর্বাভাস দিয়েছে ২০২২ সালে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ সংকোচনের পরে শ্রীলংকার অর্থনীতি চলতি বছর ২ শতাংশ সংকুচিত হবে। এটি একসময় মারাত্মক বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতির কারণে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল। বিশ্বব্যাংক অবশ্য ২০২৩ সালে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ সংকোচনের পূর্বাভাস দিয়েছে।