চলতি বছর ভুট্টার বৈশ্বিক মজুদ বেড়ে পাঁচ বছরের সর্বোচ্চে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখবে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে রেকর্ড ভুট্টা উৎপাদন বৈশ্বিক সরবরাহ খাতেও আশা জাগাচ্ছে। খবর রয়টার্স।

বাজার বিশ্লেষকরা জানান, ভুট্টার সরবরাহ বাড়তি থাকলে সেটির ব্যবহার স্বাভাবিকভাবেই বাড়বে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে এর উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। ২০২৩-২৪ মৌসুমে দেশটিতে ভুট্টার চাহিদা নিম্নমুখী থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি বিশ্বের অন্যান্য শীর্ষ ভুট্টা রফতানিকারক দেশগুলোর অবস্থাও ইতিবাচক। এসব দেশে শস্যটির উৎপাদন ও মজুদ বাড়ছে। ফলে শস্যটির বৈশ্বিক বাণিজ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য কিছুটা কম থাকবে।

মার্কিন কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ) সম্প্রতি জানায়, ২০২৩-২৪ মৌসুম শেষে ভুট্টার বৈশ্বিক মজুদ আগের বছরের তুলনায় ৭ শতাংশ বাড়তে পারে। সাত বছরের মধ্যে এটি হতে যাচ্ছে সবচেয়ে বড় প্রবৃদ্ধি। যুক্তরাষ্ট্রের মজুদ বাড়বে প্রায় ৬০ শতাংশ। বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবৃদ্ধির হার হতে যাচ্ছে অনেক বড়। ২০০৪-০৫ মৌসুমের পর এ ধরনের পরিস্থিতি আর কখনো তৈরি হয়নি। ইউএসডিএ আরো জানায়, ২০২৩-২৪ মৌসুমে ভুট্টার বৈশ্বিক সরবরাহ বাড়তে পারে ২৫ শতাংশেরও বেশি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ বাড়বে ১২০ শতাংশ।

ইউএসডিএর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ মৌসুম শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ভুট্টার মজুদ আরো বেড়ে ৩৭ বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত হতে পারে। চলতি বছরের তুলনায় বাড়তে পারে প্রায় ১৭ শতাংশ। তবে ওই বছর বৈশ্বিক মজুদ প্রায় অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ভুট্টার বৈশ্বিক বাজারে বড় প্রভাবক হয়ে উঠছে ব্রাজিল। দেশটির রফতানি বাজার হিস্যা অব্যাহত বাড়ছে। ২০০৪-০৭ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ভুট্টার বাজারে যুক্তরাষ্ট্রে হিস্যা ছিল ৬০ শতাংশ। সেখানে ব্রাজিলের ছিল মাত্র ৬ শতাংশ। তবে ২০২৩-২৪ মৌসুমে তা বেড়ে ২৭ শতাংশে উন্নীত হতে পারে। 

বিশ্ববাজারে চলতি বছর ভুট্টার সরবরাহ চাহিদাকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। আগের বছরের মজুদ বিপুল পরিমাণে থেকে যাওয়ায় এবার চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনা কম। এর প্রভাবে বছরজুড়ে খাদ্যশস্যটির নিম্নমুখী চাপে থাকবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ভুট্টার দাম এরই মধ্যে তিন বছরের সর্বনিম্নে নেমেছে। বাড়তি সরবরাহ এবং কম দামের সুফল পাচ্ছে পোলট্রিসহ ভারতের বেশকিছু ইন্ডাস্ট্রি। স্থানীয় বাজারে ঊর্ধ্বমুখী দামের কারণে সংশ্লিষ্টরা বর্তমানে আমদানির মাধ্যমেই শস্যটির চাহিদা পূরণকে প্রাধান্য দিচ্ছেন।

বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ফিচ সলিউশনের গবেষণা ইউনিট বিএমআই জানায়, নিট উদ্বৃত্তে ফিরবে ভুট্টার বৈশ্বিক বাজার। ২০২৩-২৪ মৌসুমে (জুলাই-জুন) উদ্বৃত্তের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৪ কোটি ১ লাখ টনে। ২০২২-২৩ মৌসুমে যেখানে ১১ লাখ টনের ঘাটতি ছিল। বিপুল পরিমাণ মজুদের কারণে বাজারে শস্যটির দাম এখন নিম্নমুখী প্রবণতায়।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) এগ্রিকালচারাল মার্কেটিং ইনফরমেশন সিস্টেম সম্প্রতি ভুট্টার বৈশ্বিক উৎপাদন পূর্বাভাস বাড়িয়ে সংশোধন করেছে। সংস্থাটি জানায়, এবার শস্যটির উৎপাদন ২০২৩ সালের তুলনায় ৪ দশমিক ৬ শতাংশ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করবে যুক্তরাষ্ট্র। ইন্টারন্যাশনাল গ্রেইন কাউন্সিল (আইজিসি) জানায়, ভুট্টার পাশাপাশি এ বছর গম ও যবসহ সব ধরনের শস্য উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।