সুদহার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সিস্টেম। তবে চলতি বছরের শেষদিকে তা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি জানানো হয়েছে, ২০২৪ সালজুড়ে সুদহার বর্তমান পর্যায়ের সামান্য নিচে থাকবে। ১৯-২০ সেপ্টেম্বরের ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটির (এফওএমসি) সভায় এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। খবর রয়টার্স।

ফেডের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুসারে, চলতি বছরের শেষদিকে সুদহার ৫ দশমিক ৫ থেকে ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশে উন্নীত করা হতে পারে। ২০২৪ সালে তা কমিয়ে ৫ দশমিক ১ শতাংশ এবং ২০২৫ সালে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ করা হতে পারে।

এফওএমসি সভায় দাবি করা হয়েছে, ধারাবাহিকভাবে মূল্যস্ফীতি কমার গতি থাকবে অপেক্ষাকৃত ধীর। চলতি বছরের মূল্যস্ফীতি ৩ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে আসবে। আগামী বছর এটি হবে ২ দশমিক ৫ শতাংশ। অন্যদিকে ২০২৫ সালে মূল্যস্ফীতি থাকবে ২ দশমিক ২ শতাংশ।

পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা ছিল ফেডারেল রিজার্ভ যেন সুদহার আর না বাড়ায়। কিন্তু ফেড চেয়ার‍ম্যান জেরোম পাওয়েল সুদহার বাড়ানোর পথ খোলা রেখেছেন। তিনি বলেছেন, ‘‌আমরা বর্তমানে সতর্কতামূলক অবস্থানে রয়েছি। প্রতিনিয়ত প্রাপ্ত তথ্যের ওপর নজর রাখা হচ্ছে। ঝুঁকির বিষয়গুলোও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। প্রয়োজনে সুদহার আরো এক দফা বাড়াতে আমরা প্রস্তুত।’

ফেডের বৈঠকে ১৯ বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীর মধ্যে ১০ জনই পূর্বাভাস দিয়েছিলেন যে আগামী বছর সুদহার ৫ শতাংশের বেশি থাকতে পারে। তবে আগামী দিনগুলোয় সুদহার কমানোর গতি নিয়ে সন্দিহান ব্যবসায়ীরা। নতুন পূর্বাভাসে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে একটা ধারণা পাওয়া যায়। ফেড ২০২৩ সালে প্রবৃদ্ধির হার থাকার কথা বলেছে ২ দশমিক ১ শতাংশ, যা আগের পূর্বাভাসের তুলনায় বেশি।

চলতি বছর বেকারত্বের হার থাকার পূর্বাভাস ছিল ৩ দশমিক ৮, এটি বাড়িয়ে ৪ দশমিক ১ শতাংশ করা হয়েছে। কোম্পানি ও গৃহস্থালিতে আশঙ্কা তৈরি করেছে সুদহার ও বেকারত্বের সূচক। ফেডের দুই বছর ধরে চলতে থাকা মূল্যস্ফীতিবিরোধী লড়াইয়ে বাজার অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক ক্রেডিট রেটিং সংস্থা ফিচ রেটিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র শাখার প্রধান ওলু সোনোলা-ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ঊর্ধ্বগতি এবং বেকারত্বের হারে নিম্নগতির বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। জুলাইয়ের সভায় ফেডের কর্তাব্যক্তিরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত ছিলেন। কোনো কোনো সদস্য নতুন করে সুদহার বাড়ানোর বিরুদ্ধে যুক্তি দেখিয়েছেন। তবে ভবিষ্যতে প্রাপ্ত তথ্যের মাধ্যমে সম্ভাব্য নিয়ামক ও প্রভাবকের চাপ বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। তখনই মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় নিয়ে ফেডের কোনো কোনো সদস্য সুদহার আর না বাড়ানোর ব্যাপারে পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। সম্প্রতি সুদহার না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত তারই প্রতিফলন। 

ফেডারেল রিজার্ভ বলছে, মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত কমে আসছে। মূল্যস্ফীতিবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ইনফ্ল্যাশন ইনসাইটসের প্রধান উমর শরিফ দাবি করেছেন, মুদ্রানীতি নিয়ে ফেডের পূর্বাভাসে অবাক হওয়ার মতো কিছু নেই। তবে শ্রমবাজার নিয়ে এখনো আশাবাদী হওয়ার সুযোগ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ব্রেট রায়ান বলেছেন, ‘‌ ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটির আগামী সভায় ফেড যদি সুদহার আরো এক ধাপ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। মূল্যস্ফীতিতে এর মধ্যেই সুদহার বৃদ্ধির প্রভাব দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।’