চলতি বছরের শুরু থেকে পড়তি দাম
এলাচের। বছর শেষেও আর চাঙ্গা হলো না বাজার। ভুটানের এ অন্যতম মসলাপণ্য প্রধানত
ভারত ও বাংলাদেশে রফতানি করা হয়। রফতানিকারকরা বলছেন, এ
দুই দেশে এলাচের চাহিদা কমে যাওয়ায় মন্দা কাটছে না।
ভুটানের গণমাধ্যম কুয়েনসেল অনলাইনের
এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের শুরুর দিকে ও অক্টোবরে সবচেয়ে বেশি দাম পেয়েছেন চাষীরা। প্রতি
কেজি এলাচ যথাক্রমে ৫৭০ ও ৮৪০ গুলট্রামে
(স্থানীয় মুদ্রা) বিক্রি হয়েছে। তবে চলতি বছরের শুরু
থেকেই মূল্য পতন শুরু হয়। বর্তমানে বড় এলাচ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৪৫০ থেকে ৪৬০
গুলট্রাম, আর ছোট এলাচ ৪১০ থেকে ৪৩৫ গুলট্রামে।
এর আগে সর্বশেষ ২০১৪ এবং ২০১৫ সালে
বেশ চড়া দামে এলাচ বিক্রি করতে পেরেছিলেন ভুটানের ব্যবসায়ীরা। সে সময় প্রতি কেজি
এলাচ ১ হাজার ৫০০ থেকে শুরু করে ১ হাজার ৭০০ গুলট্রামে বিক্রি হয়।
ভুটানের চাষীদের একটি বড় অংশ এলাচ
আবাদের ওপর নির্ভরশীল। দেশটির প্রধানত পূর্বাঞ্চলীয় এলাকাসহ অন্যান্য এলাকায় এ বছর
এলাচের উৎপাদন বেড়েছে। কিন্তু বাজারের অবস্থা দেখে অনেকে ক্ষেত থেকে এলাচ সংগ্রহ
করছেন না।
স্থানীয় ব্যবসায়ী সিঙ্গে ওয়াংদি বলেন, সারা
দেশে ক্ষেতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে এলাচ রয়েছে। কিন্তু দাম না পাওয়ায় বাজারে তুলছেন
না কৃষকরা। অথচ অধিকাংশ কৃষকের জীবিকা এ ফসলের ওপর নির্ভরশীল। এলাচের দরপতন এসব
কৃষকের আর্থিক অবস্থা দুর্বল করে দিচ্ছে।
মসলা রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান শেরিং
এক্সপোর্টের বিপণন কর্মকর্তা চাঙ্গা দেমা বলেন, পাকিস্তানে এলাচের চাহিদা আছে। কিন্তু
ভারতের ব্যবসায়ীরা বলছেন এ মুহূর্তে ব্যবসা বন্ধ রয়েছে। সরাসরি রফতানি হয় মূলত
ভারতে। সেখান থেকে যায় পাকিস্তানে। অথচ সেখানেই যথেষ্ট চাহিদা নেই।
শেরিং এক্সপোর্ট বাংলাদেশ ও ভারতের
বাজারে এলাচ রফতানি করে। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে শিলিগুড়িতে এলাচ রফতানি করছে প্রতি
কেজি ৪৮০ থেকে ৫০০ গুলট্রামে। আর গত শনিবার বাংলাদেশে রফতানি হওয়া প্রতি টন এলাচের
ন্যূনতম মূল্য ছিল ৭ হাজার ৫০০ ডলার। সে হিসাবে মুদ্রার বর্তমান বিনিময় মূল্য
হিসাব করলে প্রতি কেজির দাম পড়েছে ৫২৫ গুলট্রাম। যেখানে এক বছর আগেও বাংলাদেশে
প্রতি টন এলাচ ন্যূনতম ১১ হাজার ডলারে রফতানি হয়েছে। আর তিন বছর আগে এ দাম ছিল ২৫
হাজার ডলার।
রফতানিকারকরা বলছেন, স্থানীয় বাজারের ওপর নির্ভর করে এলাচের ন্যূনতম দাম নির্ধারণ হয় না, বরং আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর এটি নির্ভর করে।
বাংলাদেশে এলাচ রফতানি করা একটি
প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা টিকা শর্মা মনে করেন, আন্তর্জাতিক
বাজারে এখন এলাচের চাহিদা কমে আসায় মূলত দাম পড়ে গেছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, দাম
না পাওয়ায় ভুটানের অনেকেই এখন বাংলাদেশ ও ভারতে এলাচ রফতানি বন্ধ করে দিচ্ছে। ফলে
সমস্যা আরো প্রকট হচ্ছে। তবে অনেক ব্যবসায়ী বলছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের কিছু
মধ্যস্বত্বভোগীই মূলত স্থানীয় বাজারে পণ্যটির দাম নিয়ন্ত্রণ করছে। এমনকি সরাসরি
কৃষক পর্যায়েও এসব মধ্যস্বত্বভোগী উচ্চমূল্যের প্রলোভন দিয়ে সরাসরি এলাচ কিনছে।
এতে রফতানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।









