মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আমানতকারীরা ৪ হাজার ২০০ কোটি ডলার তুলে নেয়ায় বন্ধ হয়ে যায় মার্কিন ব্যাংক খাতের অন্যতম বৃহৎ প্রতিষ্ঠান সিলিকন ভ্যালি ব্যাংক (এসভিবি)। এটি ধসে পড়ার ধাক্কা লেগেছে বিশ্বজুড়েই। মঙ্গলবার এসভিবি ফাইন্যান্স গ্রুপ তাদের বিবৃতিতে বলে, গোল্ডম্যান স্যাকসের কাছে একটি বন্ড পোর্টফোলিও বিক্রয় বাবদ ১৮০ কোটি ডলারের লোকসান ব্যাংকটিকে আরো বেশি নাজুক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেয়। মূলত লেনদেনটির সূত্র ধরেই ত্বরান্বিত হয় এসভিবির পতন প্রক্রিয়া।

তাই ধারণা করা হচ্ছে, বন্ড পোর্টফোলিও বিক্রি বাবদ লোকসানের কারণে ধসে পড়েছে এসভিবি। বিশেষজ্ঞদের অনেকেই মনে করেন প্রযুক্তি খাতের সঙ্গে সংযোগই ব্যাংকটিকে এ পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছে। সিলিকন ভ্যালি ব্যাংকটির পরিচিত রয়েছে প্রযুক্তিকেন্দ্রিক ঋণদাতা হিসেবেও। বিপর্যয় বাঁচাতে গত সপ্তাহে ওয়াল স্ট্রিটভিত্তিক ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাকসের পরামর্শে ২২৫ কোটি ডলার মূল্যের শেয়ার বিক্রির চেষ্টা করে এসভিবি।
ব্যাংকটি মূলত মূলধন বৃদ্ধির চেষ্টা হিসেবে শেয়ার বিক্রিতে উদ্যোগী হয়। কিন্তু চেষ্টাটি ভেস্তে যায়। বাজারে ব্যাংকটি ঘিরে এক ধরনের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আমানতকারীরা দ্রুত অর্থ তুলে নিতে থাকে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, এসভিবি মূলধন সংকটে পড়েছে। শেয়ার বিক্রয়ের উদ্যোগ গ্রহণের পরদিনই ব্যাংকটির শেয়ারদরের ৬০ শতাংশ পতন ঘটে।
বিবৃতিতে আরো উল্লেখ করা হয়, ৮ মার্চ গোল্ডম্যান স্যাকসের কাছে বিক্রি করা এসভিবির পোর্টফোলিওর বেশির ভাগই মার্কিন কোষাগারের অন্তর্ভুক্ত এবং এর বুক ভ্যালু ছিল ২ হাজার ৩৯৭ কোটি ডলার। লেনদেনটি একটি ‘সমঝোতা মূল্যে’ সম্পাদিত হয় এবং ব্যাংকটি ২ হাজার ১৪৫ কোটি ডলার আয় করে।
২০০৮ সালের আর্থিক সংকটের পরবর্তী ব্যর্থ হওয়া বৃহত্তম ব্যাংকে পরিণত হয়েছে এসভিবি। শুক্রবার মার্কিন নিয়ন্ত্রক সংস্থা ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, গোল্ডম্যান স্যাকসের কাছে বন্ড পোর্টফোলিও বিক্রির বিষয়টির দায়িত্বে যারা ছিল তারা মূলত এসভিবির শেয়ার বিক্রয় বিভাগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল না।
এ সম্পর্কে সরকারি তদন্ত পরিচালনার প্রধান ও আইনি প্রতিষ্ঠান ডিকিনসন রাইটের আইনজীবী জ্যাকব ফ্রেংকেল বলেন, ‘‌স্বার্থের দ্বন্দ্বের ক্ষেত্রে বড় ব্যাংকগুলোয় এ ধরনের ঘটনা খুবই প্রচলিত।’