ঘানায় স্বর্ণ উত্তোলন খাতে বিপর্যয় নেমে এসেছে। গত বছর দেশটিতে মূল্যবান ধাতুটির উত্তোলন কমেছে ৩০ শতাংশ, যা এক দশকের সর্বনিম্ন। চলতি বছরও উত্তোলনে নিম্নমুখিতা অব্যাহত আছে। ফলে শিগগিরই আফ্রিকা মহাদেশের শীর্ষ উত্তোলকের তকমা হারাতে যাচ্ছে দেশটি। ঘানার মাইনস চেম্বারের প্রেসিডেন্ট সম্প্রতি একথা জানিয়েছেন। এক্ষেত্রে শুল্কহারে ব্যাপক পরিবর্তন ও অপারেশনাল চ্যালেঞ্জকে দায়ী করছেন তিনি। খবর রয়টার্স।

তবে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, চলতি বছরের বাকি মাসগুলোয় স্বর্ণ উত্তোলন গতি ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ খনিগুলো বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করে তা মোকাবেলার চেষ্টা করছে। এছাড়া সরকার দেশীয় খনি থেকে স্বর্ণ কেনার ঘোষণা দিয়েছে, যা উত্তোলন বাড়াতে খনি মালিকদের উৎসাহিত করবে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

তথ্য বলছে, ক্ষুদ্র খনিগুলোয় নতুন করে কর আরোপ করার কারণে গত বছর স্বর্ণ উত্তোলন কমে ২৮ লাখ ১৮ হাজার আউন্সে নেমে যায়, যা ২০০৮ সালের পর সর্বনিম্ন উত্তোলন। এছাড়া ২০২০ সালের তুলনায়ও উত্তোলন অনেক কমেছে। ওই বছরে দেশটির খনিগুলো থেকে সব মিলিয়ে ৪০ লাখ ২২ হাজার আউন্স স্বর্ণ উত্তোলন করা হয়েছিল।

স্বর্ণ উত্তোলনে শীর্ষস্থান নিয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় পশ্চিম আফ্রিকার দেশটির সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে। ২০২০ সালে ঘানায় উত্তোলন প্রায় ১২ শতাংশ কমে গেলেও উত্তোলনে দেশটি প্রথম স্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

বার্ষিক সভায় মাইনস চেম্বারের প্রেসিডেন্ট মরতোতি বলেন, ঘানায় বড় কোম্পানিগুলোর উত্তোলন ৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ কমে ২৭ লাখ ২০ আউন্সে নেমেছে। অপারেশনসংক্রান্ত চ্যালেঞ্জের কারণে বেশির ভাগ খনিতেই উত্তোলন ছিল নিম্নমুখী। এদিকে ক্ষুদ্র খনিগুলোয় উত্তোলন প্রায় ৯২ শতাংশ কমেছে। উত্তোলনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৮ হাজার আউন্সে। মূলত ২০১৯ সালে এসব খনির ওপর নতুন করে ৩ শতাংশ আয়কর আরোপ করায় উত্তোলনে এমন বিপর্যয় দেখা দেয়।