মূল্যস্ফীতি এখনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে রয়েছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের দিকেই আরো এক দফা সুদহার বাড়ানোর সুযোগ রেখেছে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পাশাপাশি রয়েছে ইউরোজোনের আর্থিক নীতিমালার স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধি চুক্তিকে (এসজিপি) নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গ, আর তাতেই দেখা দিয়েছে বিপত্তি। সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাজেট ঘাটতির জন্য নতুন নীতিমালা দ্বিধাবিভক্তি তৈরি করে রেখেছে। সম্প্রতি এমনটাই দাবি করেছে মার্কিন প্রকাশক ও ব্যবসায় বিশ্লেষকপ্রতিষ্ঠান কিপলিঙ্গার। খবর ইয়াহু ফাইন্যান্স।

ইউরোজোনের অর্থনীতি চলতি বছর প্রত্যাশার চেয়েও ভালো করেছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইউরোজোনের প্রবৃদ্ধি হয়েছে দশমিক ৩ শতাংশ। যদিও সদস্যগুলো প্রতিনিয়ত জ্বালানি সংকট ও মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। বড় দেশগুলোর মধ্যে কেবল ইতালিই অর্থনৈতিক সংকোচনের সাক্ষী হয়েছে। জার্মানির প্রবৃদ্ধি ছিল খুবই অল্প মাত্রায়। দেশটির শ্রমবাজার কিছুটা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। প্রথাগত পেশার তুলনায় পরিষেবা খাত ও মজুরিতে লক্ষণীয় বৃদ্ধি দেখা গেছে। স্পেন ও ফ্রান্সের প্রবৃদ্ধি দ্বিতীয় প্রান্তিকে ছিল তুলনামূলক ভালো। আসলে ফ্রান্স ও আয়ারল্যান্ডের প্রবৃদ্ধিই সার্বিকভাবে প্রভাব ফেলেছে ইউরোজোনের প্রবৃদ্ধির সূচকে। কিন্তু চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিক ও গত বছরের শেষ প্রান্তিকের মন্থরতার পর যেকোনো ধরনের প্রবৃদ্ধি সুখবর বটে।

ইউরোজোনের জন্য বছরের দ্বিতীয়ার্ধে অর্থনৈতিক সংকোচন থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। অঞ্চলের প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো স্থবিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। শিল্পোৎপাদন কার্যক্রমে এরই মধ্যে সংকোচন দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। গত কয়েক বছর টানা সুদহার বাড়ার ঘটনা ঋণ গ্রহণকে আরো কঠিন করে তুলেছে।

ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংক (ইসিবি) চলতি বছরে আরো একদফা সুদহার বাড়ার ব্যাপারে কথা বলেছে। জুলাইয়ে হেডলাইন মূল্যস্ফীতি কমেছে, কিন্তু প্রকৃত মূল্যস্ফীতি এখনো অপরিবর্তিত। প্রকৃত মূল্যস্ফীতি পরিমাপের ক্ষেত্রে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যকে বাইরে রাখা হয়, যা জুলাইয়ে ছিল ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। ইউরোপিয়ান কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদহার বাড়ানোর ক্ষেত্রে ফেডারেল রিজার্ভের নীতি গ্রহণ করছে। সুদহার বৃদ্ধির গতি কমিয়ে আনছে ক্রমশ। তবে এখনো সেপ্টেম্বরে এক দফা সুদহার বাড়ার রাস্তা খোলা রেখেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। যদি আবশ্যক হয়ে ওঠে, তাহলে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন তার সদস্য দেশগুলোর জন্য ব্যয় নীতি নিয়ে কাজ করছে। অঞ্চলের ব্যয় নীতি বর্তমানে পরিচালিত হয় স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধি চুক্তির (এসজিপি) মাধ্যমে। চুক্তি অনুসারে, কোনো দেশের বাজেট ঘাটতি প্রবৃদ্ধির ৩ শতাংশের বেশি হতে পারবে না। পাশাপাশি জাতীয় ঋণ প্রবৃদ্ধির ৬০ শতাংশ অতিক্রম করতে পারবে না। কিন্তু নতুন নীতিমালায় মূলনীতিটিতে পরিবর্তন আসতে পারে। নয়া নীতিমালায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোকে বাজেট ঘাটতি আরো কমিয়ে আনতে হবে। ২০২০ সালের মার্চের পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাজেট ঘাটতি নিয়ে কিছুটা শিথিলতা প্রদর্শন করেছে। 

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলো নীতিমালায় প্রস্তাবিত পরিবর্তন নিয়ে এখনো দ্বিধাবিভক্ত, বিশেষ করে কোনো সাংখ্যিক বেঞ্চমার্ক রাখা হবে, নাকি বার্ষিক স্বয়ংক্রিয় কোনো নীতি থাকবে, সেটা নিয়ে; নাকি প্রতিটা সদস্য দেশই ঋণ ব্যয়সংকোচনের ব্যাপারে বোঝাপড়া করবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাহী পরিষদের সঙ্গে, সে বিষয়ক সিদ্ধান্ত নিয়েও। যদি শেষ পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলো কোনো প্রকার ঐক্যমত্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, তাহলে বর্তমানে প্রচলিত নীতিই ২০২৪ সাল থেকে নতুন করে চালু হবে। অবশ্য জার্মানি বিদ্যমান নীতিকে অগ্রাধিকার দিলেও ফ্রান্স মনে করে, লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে ঘাটতিকে সামনে রাখা উচিত। 

ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজেট ঘাটতি আগামী দিনগুলোয় কমতে শুরু করবে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। জ্বালানি সংকট ও কভিড-১৯-এর কারণে ভর্তুকি সংকুচিত করে চলছে সদস্য দেশগুলো। সার্বিকভাবে যার প্রভাব পড়ছে অর্থনীতিতে।