অর্থনৈতিক সংস্কারের অংশ হিসেবে চলতি বছর জ্বালানি ও বিদ্যুতে ভর্তুকি কমিয়ে আনার পরিকল্পনা করেছে মালয়েশিয়া সরকার। একই সঙ্গে বাড়ানো হচ্ছে করের হারও। ফলে দেশটির মধ্য ও উচ্চবিত্ত পরিবারগুলোর জীবনযাপন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

বিশ্লেষকদের বরাত দিয়ে মধ্যবিত্ত পরিবারের জীবনযাত্রা ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে বলে জানানো হয়েছে দ্য স্ট্রেইটস টাইমসের প্রতিবেদনে।

ব্যাংক মুয়ামালাত মালয়েশিয়ার সোশ্যাল ফাইন্যান্স বিভাগের প্রধান অর্থনীতিবিদ মোহাম্মদ আফজানিজাম বলেন, ‘মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত দুই শ্রেণীর মানুষেরা অর্থনৈতিক চাপে পড়বে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন মধ্যবিত্তরা।’

আয়ের ওপর ভিত্তি করে দেশটির জনগোষ্ঠীকে সাধারণত তিন শ্রেণীতে ভাগ করা হয়। নিম্ন আয়ের মানুষের ‘বি৪০’ গ্রুপে ধরা হয়। এম৪০ হচ্ছে মধ্যবিত্ত শ্রেণী। আর ২০ শতাংশ উচ্চবিত্ত যাদের টি২০ শ্রেণীভুক্ত করা হয়।

এম৪০ শ্রেণীতে অধিভুক্তদের মাসিক আয় পাঁচ হাজার ২৫০ রিঙ্গিত থেকে ১১ হাজার ৮১৯ রিঙ্গিতের মধ্যে। অন্যদিকে নিম্নবিত্ত তথা বি৪০ শ্রেণীভুক্তদের মাসিক আয় পাঁচ হাজার ২৫০ রিঙ্গিতের কম।

চলতি বছর মালয়েশিয়া যে খাতের খরচ বাড়াবে তার মধ্যে অন্যতম পরিষেবা বিল। এর মধ্যে পানির বিল বাড়তে পারে ১ দশমিক ৬ রিঙ্গিত থেকে ৮ রিঙ্গিত। এছাড়া বছরের প্রথম ছয় মাসে গৃহস্থালি বিদ্যুৎ বিল বাড়বে গড়ে ২২ রিঙ্গিত। বিদ্যুতে ভর্তুকি কমাতেই দেশটির সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগে গত বছর বিদ্যুতের দাম সমন্বয় করে মালয়েশিয়া সরকার ৪৬০ কোটি রিঙ্গিত ভর্তুকি কমিয়ে এনেছে। এমনকি আগামী মার্চ থেকে পানি ও বিদ্যুৎ খাতে কর ৬-৮ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। মালয়েশিয়া সরকার জ্বালানি খাতে যে পরিমাণ ভর্তুকি দেয় তার বেশির ভাগই যায় পেট্রল, ডিজেল ও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজি খাতে। এসব খাতে ভর্তুকি কমিয়ে আনতে মালয়েশিয়া সরকার ২০২৪ সালের দ্বিতীয়ার্ধে দেশটির উচ্চবিত্ত শ্রেণীর জন্য পেট্রলে আর ভর্তুকি দেবে না। যার অর্থ হলো উচ্চবিত্ত শ্রেণীকে পেট্রল কিনতে আরো বেশি পরিমাণ খরচ করতে হবে।