অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদনে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের হিস্যা দাঁড়িয়েছে ৬২ শতাংশ। তবে উৎপাদন আরো বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে দেশটি। ইরানের শিল্প, খনি ও বাণিজ্যমন্ত্রী রেজা রাহমানি সম্প্রতি এমন তথ্য জানিয়েছেন। খবর তেহরান টাইমস।

ইস্পাত উৎপাদন বাড়াতে ইরান সম্প্রতি দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ কারমানে নতুন একটি ইস্পাত কারখানা চালু করেছে। যার বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা ধরা হয়েছে ১৫ লাখ টন। এ প্লান্ট চালু উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন রেজা রাহমানি।

বক্তব্যে তিনি জানান, গত বছর ইস্পাতের বৈশ্বিক উৎপাদন প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। যেখানে ইরানের প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ৫ শতাংশ।

ইরানের খাতসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ইস্পাত উৎপাদনে ইরান এখন একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় পৌঁছেছে। উৎপাদনের প্রতিটি পর্যায় দেশীয় বিশেষজ্ঞ, জ্ঞান ও প্রযুক্তিকে কাজে লাগানো হচ্ছে।

শিল্প, খনি ও বাণিজ্যমন্ত্রীর দেয়া তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ইরানের ইস্পাত উৎপাদন উল্লেখযোগ্য বেড়েছে। ফলে ওয়ার্ল্ড স্টিল অ্যাসোসিয়েশনের (ডব্লিইএসএ) শীর্ষ ইস্পাত উৎপাদক দেশের তালিকায় ১৩তম স্থান থেকে দশম স্থানে চলে এসেছে ইরান।

কারমান প্রদেশের কথা উল্লেখ করে ইরানি মন্ত্রী জানান, এ অঞ্চলে ২০ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ খনির খোঁজ চলছে। এছাড়া আরো ২০ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ খনি খোঁজের চিন্তা রয়েছে তাদের। এ সময় তিনি ইরানের খনি খাতে দেশীয় ও বৈদেশিক কোম্পানিগুলোকে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে ডব্লিইএসএ তাদের প্রতিবেদনে জানায়, ২০১৮ সালে ২ কোটি ৫০ লাখ টন ইস্পাত উৎপাদনের মধ্যে দিয়ে বৈশ্বিক তালিকায় ইরান দশম স্থানে চলে এসেছে। এছাড়া ইতালি, তাইওয়ান ও ইউক্রেনও প্রায় ইরানের কাছাকাছি উৎপাদন ধরে রেখেছে।

ডব্লিইএসএ প্রতিবেদনে আরো জানানো হয়, গত বছর বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১৮০ কোটি ৮০ লাখ টনের মতো, যা তার আগের বছরের তুলনায় অর্থাৎ ২০১৭ সালের তুলনায় ৪ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি।