দেশের বাজারে দীর্ঘদিন ধরে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে মসলাজাতীয় পণ্য এলাচারে দাম। এবার একদিনের ব্যবধানে পণ্যটির দাম কেজিতে ২২০ টাকা বেড়েছে। গতকাল দেশের ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে প্রতি কেজি এলাচ ৩ হাজার ৩৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি পাওয়ায় প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার পাইকারিতে প্রতি কেজি এলাচ বিক্রি হয়েছিল ৩ হাজার ৩০ টাকায়। কিন্তু গতকাল সকাল থেকেই এলাচের দাম ঘণ্টায় ঘণ্টায় বাড়তে থাকে। বিকালের মধ্যেই এলাচের দাম ৩ হাজার ৩৫০ টাকায় উঠে যায়। অর্থাৎ একদিনের ব্যবধানে এলাচের দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ২২০ টাকা। এলাচারে শীর্ষ ভোক্তা দেশ ভারতের বাজারে প্রতি সপ্তাহেই দাম বাড়তে থাকায় দেশের বাজারেও গরমমসলাজাতীয় পণ্যটির দাম আরো বাড়বে বলে মনে করছেন মসলা ব্যবসায়ীরা।
জানতে চাইলে খাতুনগঞ্জের মসলা ব্যবসায়ী সাঈদ মিল্লাত বণিক বার্তাকে বলেন, দেশে প্রতি বছর এলাচের চাহিদা প্রায় চার হাজার টন। কিন্তু এক বছর ধরে ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ এলাচ লেনদেন হয়েছে। ভারতে দাম বেশি থাকায় দেশের বাজারেও এলাচের দাম ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। আন্তর্জাতিক বুকিং দর বেশি থাকলে আগামী উত্তোলন মৌসুম ছাড়া এলাচের দাম সহনীয় মাত্রায় আসার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে মনে করছেন তিনি।
চট্টগ্রাম কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দেশে এলাচ আমদানি হয়েছে ৩ হাজার ১৩৭ টন, যার আমদানি মূল্য ১৬৫ কোটি টাকা ও শুল্ক পরিশোধ হয়েছে ৮৯ কোটি
টাকা। অন্যদিকে সর্বশেষ অর্থবছরে (২০১৭-১৮) এলাচ আমদানি হয়েছে ৩ হাজার ৯৫০ টন, যার ২১৫ কোটি টাকা আমদানি মূল্যের বিপরীতে শুল্ককর পরিশোধিত হয়েছে ১১৫ কোটি টাকা। এছাড়া চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে ৭২১ টন এলাচ আমদানি হয়েছে। আমদানিচিত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সর্বশেষ অর্থবছরের জুনে আমদানি হয়েছিল ২৫৭ দশমিক ৭০ টন এলাচ। টনপ্রতি আমদানি মূল্য ছিল ৫ লাখ ৫৬ হাজার ৫২০ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কেজি এলাচ আমদানিতে খরচ হয়েছে ৫৬৫ টাকা। এর মধ্যে দ্বিগুণ শুল্ক পরিশোধের পর এলাচের প্রতি কেজির মূল্য পড়েছে ১ হাজার ৩০ টাকা। আনুষঙ্গিক খরচ হিসাব করলে আমদানিতে কেজিপ্রতি কস্টিং পড়েছে প্রায় ১ হাজার ৩০০ টাকা।









