এশিয়ায় প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংকিং কার্যক্রম প্রসারিত করবে সিটিগ্রুপ ইনকরপোরেটেড। এ লক্ষ্যে কয়েক বছরের মধ্যে তিন হাজার নতুন কর্মী নিয়োগ দেবে মার্কিন বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংকটি। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি একটি দ্রুত বর্ধনশীল অঞ্চলে মনোযোগ বাড়াচ্ছে। যদিও এ অঞ্চলের বেশির ভাগ বাজার থেকে ভোক্তা ব্যাংকিং ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছে সিটি।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, কর্মী বাহিনী সম্প্রসারণের পরিকল্পনার মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংকিং ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা ব্যবসাকে মুনাফা বৃদ্ধির ইঞ্জিনে পরিণত করতে চায় সিটিগ্রুপ। সংস্থাটি এখন এমন একটি অঞ্চলে মুনাফা বাড়ানোর চেষ্টা করছে, যা বৈশ্বিক ব্যাংকগুলোর জন্য যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে সিটি এশিয়ার বিশাল অর্থনীতি ও ক্রমবর্ধমান সম্পদে নিজেদের আধিপত্য তৈরি করতে উচ্চকাঙ্ক্ষা হাতে নিয়েছে।

সিটির প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবসার মধ্যে রয়েছে বিনিয়োগ ব্যাংকিং, করপোরেট ও বাণিজ্যিক ব্যাংকিং ইউনিট। এ বিভাগগুলো বাণিজ্য অর্থায়ন, নগদ ব্যবস্থাপনা, অর্থ প্রদান ও আমানত পরিষেবা সরবরাহ করে। সিটিগ্রুপের এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের সিইও পিটার বাবেজ রয়টার্সকে এক সাক্ষাত্কারে বলেন, এশিয়াজুড়ে ব্যবসা বাড়ানোর মাধ্যমে আমরা আসলে হাড়ের ওপর মাংসের কথা বলছি।

২০১৯ সালে বাবেজ এ দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং এর আগে তিনি সিটির আর্থিক প্রতিষ্ঠান গ্রুপের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এশিয়ায় মার্কিন ব্যাংকটির প্রায় ২০ হাজার কোটি ডলারের সম্পদ রয়েছে। বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক ও বাজারে অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও ২০২৫ সালের মধ্যে গ্রাহকের সম্পদ ১৫ হাজার কোটি ডলার বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়েছে ব্যাংকটি।

এশিয়ায় প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবসার সম্প্রসারণে ব্যাংকটির সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের জন্য গত বছর ঘোষিত প্রায় ২ হাজার ৩০০ জন কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা শীর্ষে রয়েছে। ২০২১ সালে সংস্থাটি বলেছিল, ১৩টি বাজারে ভোক্তা ব্যাংকিং ব্যবসার বিনিয়োগ থেকে ৭০০ কোটি ডলার তুলে নেয়া হবে। বাজারগুলোর মধ্যে ১০টিই এশিয়ার। এ অর্থ শেয়ারহোল্ডারদের কাছে ফেরত দেয়া হবে কিংবা লাভজনক প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংকিং এবং সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগে বিনিয়োগ করা হবে।

সিটিগ্রুপের প্রধান আঞ্চলিক প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবসা রয়েছে হংকং ও সিঙ্গাপুরে। এ দুটি হাব ইউনিটের জন্য তিন হাজার অতিরিক্ত কর্মী নেয়া হবে। যদিও সংস্থাটি বিদ্যমান কর্মী সংখ্যা প্রকাশ করেনি। পিটার বাবেজ বলেন, এটি পরিষ্কার করে যে, আমরা জনগণ ও মূলধনের দৃষ্টিকোণ উভয় স্থান থেকেই কথা বলছি। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গত বছর সিটিগ্রুপ একক সম্পদ ব্যবস্থাপনা ব্যবসা তৈরি করেছে। এ ব্যবস্থায় ধনী গ্রাহকের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ সম্পদ থাকা ব্যক্তিদের পরিষেবা দেয়া যায়। সিটিসহ সব ব্যাংকেরই সম্পদ ব্যবসা সিঙ্গাপুর ও হংকংয়ে কেন্দ্রীভূত। এ বাজারগুলোয় সিটি তার ভোক্তা ব্যাংকিং ব্যবসাও অব্যাহত রেখেছে।

তবে চীনের নিয়ন্ত্রক সংস্থার চাপ ও মহামারী সম্পর্কিত মন্থরতা এ অঞ্চলের গ্রাহকদের মনে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে। এ অবস্থায় ব্যাংকার ও বিশ্লেষকরা বলছেন, বৈশ্বিক বড় ব্যাংকগুলোর সম্পদ ব্যবস্থাপকরা এশিয়ায় তাদের প্রত্যাশাগুলো কমিয়ে দিচ্ছেন। পিটার বাবেজ বলেন, বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এশিয়াও মন্থর হয়ে যাবে, এটাই স্বাভাবিক। তবে এ অঞ্চলের প্রবৃদ্ধি এখনো বিশ্বের অন্যান্য স্থানের তুলনায় বেশি।